Image description

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের পরিচালক হিসেবে ডা. এস এম মনিরুজ্জামানের নিয়োগ ঘিরে বিরোধ জড়িয়ে পড়েছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতারা। মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ পেয়ে গত সোমবার তিনি যোগ দেন। গত বুধবার ড্যাবের বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতাল শাখার সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে তাঁকে হেনস্তা করা হয়। বিষয়টিকে মব ভায়োলেন্স হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ড্যাবের অন্য অংশের নেতারা।

গতকাল শনিবার ‘বরিশালের সচেতন নাগরিক সমাজ’ ব্যানারে ড্যাবের একাংশের নেতারা অশ্বিনী কুমার হলের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। সেখানে মব সন্ত্রাসকারীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে প্রবীণ চিকিৎসক আজিজ রহিম বলেন, ‘আমরা তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেব।’ তিনি অভিযোগ করেন, ডা. নজরুল আওয়ামী লীগের ১৫-১৬ বছর শেবাচিমে ছিলেন। সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদোন্নতি পেয়ে অবসরে গেছেন। তিনি ড্যাবের প্রতীকী সভাপতি হয়েও আওয়ামী লীগের সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন।
ডা. নজরুলের নেতৃত্বাধীন ড্যাব নেতাদের অভিযোগ, ডা. এস এম মনিরুজ্জামান আওয়ামী লীগের দোসর। তিনি জুলাই আন্দোলনবিরোধী সরকারি কর্মসূচিতে ছিলেন। গত বুধবার ডা. নজরুলের নেতৃত্বে মনিরুজ্জামানকে টেনে বের করে তাঁর কক্ষে তালা দেওয়া হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার আবারও প্রধান ফটকে তালা ঝোলানো হয়। এতে ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী চার ঘণ্টা বন্দিদশায় পড়েন। এদিন বিকেলে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করা হয়।

গতকালের কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ডা. মনিরুজ্জামান শাহিন ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময়ে শেবাচিম হাসপাতালের উপপরিচালক ছিলেন। তিনি আন্দোলনে নানাভাবে সাহায্য করেছেন। পরামর্শ ও চিকিৎসা দিয়ে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তিনি ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও ড্যাবের আজীবন সদস্য। যারা তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন, তারা জুলাই আন্দোলনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের অনুসারী ছিলেন। তাদের অতীতে জনগণের পক্ষে কোনো আন্দোলনে দেখা যায়নি। বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ ও ড্যাবকে বিতর্কিত করতে এই অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রবীণ চিকিৎসক মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। শুধু স্বাস্থ্য বিভাগ নয়, বরিশালের কোনো দপ্তরে মব সন্ত্রাসের চেষ্টা  হলে প্রতিরোধ করা হবে।
এ বিষয়ে ডা. নজরুল ইসলাম সেলিমের ভাষ্য, যারা জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করেছেন, আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে গেছেন তাদের ব্যাপারে কোনো আপস নেই। শনিবার যারা মনিরুজ্জামানের পক্ষে মানববন্ধন করেছেন তাদেরও জুলাইবিরোধী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের দেখা যায় নাই। আমি আওয়ামী লীগের রোষানলে পরে একবার বরখাস্ত ও দুইবার পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছি।’

নতুন পরিচালককে হেনস্তার বিষয়ে ডা. সেলিম বলেন, গত বুধবার বিক্ষোভকারীর কাছ থেকে নিরাপত্তা দিতে ডা. মনিরুজ্জামানকে তিনি বাসায় পৌঁছে দিয়েছেন। ছুটি থাকা অবস্থায় বৃহস্পতিবার মনিরুজ্জামান বহিরাগতদের নিয়ে অফিসে ঢুকে তালা ভাঙেন। খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা আবার পরিচালকের দপ্তরে যান। 
ড্যাবের বরিশাল জেলা সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামানের ভাষ্য, ‘বরিশাল ড্যাবে কোনো বিরোধ নেই। শনিবারের মানববন্ধনে যারা গিয়েছেন তারা জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক। বর্তমানে ড্যাবের দায়িত্বশীল পদে নেই। ডা. আনোয়ার হোসেন ছাড়া অন্যরা বুধবারের ঘটনার সময়ে পরিচালকের কক্ষে ছিলেন। তখন কেন তারা ভূমিকা রাখেননি?’ পরিচালক মনিরুজ্জামান প্রসঙ্গে ডা. কবিরুজ্জামান বলেন, তিনি ছাত্রদল করেছেন। ড্যাবেও আছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের সময়ে শেবাচিমে ৬ বছর সহকারী পরিচালক ও উপপরিচালক ছিলেন। জুলাইবিরোধী শান্তি সমাবেশেও গেছেন। একই অপরাধে শেবাচিমের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম ওএসডি হয়ে আছেন। জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্ররা মনিরুজ্জামানের পদায়ন মানতে পারছেন না।