নিজেকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান দাবি করলেও নির্বাচনী হলফনামায় দেখা যায় তার জন্ম ১৯৮১ সালে।
একই সঙ্গে তার পিতা আব্দুল কাদের সৈয়দীও জীবিত আছেন। এমন বেফাঁস বক্তব্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন মুনতাকিম ও তার দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এমনকি সরকারদলীয় এমপিদেরও প্রশ্নের মুখে পড়েন। পরে তিনি বক্তব্যটি অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল বলে বিষয়টি স্পিকারকে জানান এবং তার ভুল স্বীকার করে নেন। একজন সংসদ সদস্যের এমন বেফাঁস বক্তব্য দলটির ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার রংপুরের মিঠাপুকুরে একটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে গিয়ে মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে দলীয় সভা করেছে জামায়াতে ইসলামী। এ-সংক্রান্ত ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বেফাঁস বক্তব্য ও স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্কিত ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে দলটিকে। এ প্রেক্ষাপটে দলীয় নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যদের জনসমক্ষে বক্তব্য দেয়ার ক্ষেত্রে আরো সংযত এবং দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সংসদে আব্দুল মুনতাকিমের বক্তব্যের পর সতর্ক অবস্থানে জামায়াত। এ নিয়ে সংসদীয় কমিটির মিটিং ও দলের অভ্যন্তরীণ মিটিংয়ে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিষয়, চলমান জাতীয় ইস্যু, সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বক্তব্য দেয়ার ক্ষেত্রে নেতাদের সতর্ক করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তার মধ্যে ৫৯ জনই প্রথমবারের মতো সংসদে গেছেন। সেই সঙ্গে সংরক্ষিত মহিলা আসনের আটজনও প্রথমবারের মতো সংসদে গেলেন। ফলে নতুনদের প্রশিক্ষণ দিতে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেখানে সংসদীয় রীতিনীতি, আইন ও অন্যান্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ‘দলের সদস্যরা যেন অযাচিত ভুল না করেন, সেজন্য সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে দুদিন করে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এরপর প্রতিদিন কারা বক্তব্য দেবেন, সেটিও জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। তার পরও কেউ কেউ ভুল করছেন।’
তবে চলমান ইস্যু নিয়ে জামায়াত বিরোধীদলীয় সংসদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এটি তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বলে জানান সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘কেউ কোনো বিতর্কের সঙ্গে জড়িত হলে আমরা প্রথমে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করি এবং সতর্ক করি, পরামর্শ দিই। শুরু থেকে এমপিদের জন্য বিভিন্ন কর্মশালার ব্যবস্থা ছিল। এটি আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। আমরা সুশৃঙ্খল দল হিসেবে বিতর্ক এড়িয়ে যেতে চাই।’