লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ার হোসেন খানসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রামগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস শাকুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় সন্দেহজনক একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তার নাম-পরিচয় জানায়নি পুলিশ।
থানা সূত্র জানায়, সোমবার (২২ জুন) রাতে ছাত্রদল নেতা রবিউল হাসান রাব্বি বাদী হয়ে ২৯ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ১৫০ জনের বিরুদ্ধে রামগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। বাদী রাব্বী উপজেলার দেবনগর গ্রামের নুরুল ইসলাম কালার ছেলে।
মামলার প্রথম অভিযুক্ত আনোয়ার খান লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।
অন্য আসামিরা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামছুল হক মিজান, রামগঞ্জ সরকারি কলেজ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মোরশেদুল আমিন বাবু, উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সুমন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সচিব সহিদ চৌকিয়া, যুবলীগ নেতা বাচ্চু, বেল্লাল আহমেদ, কামরুল ইসলাম, সৈকত মাহমুদ শামছু, ইরান, মিলন পাটওয়ারী, রিয়াদ হোসেন, ফিজু, তুহিন মালিক, যুবলীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন রাজু, জাকির হোসেন, শাকিল হোসেন, সাহাবুদ্দিন, জসিম জদ্দিন, মামুন হোসেন, বিল্লাল হোসেন, জসিম, মো. রাসেল, মো. রবিন, শামীম, আলী হোসেন রকি, মহিন আলী, বিল্লাল হোসেন, আব্দুল হান্নান বাবু ও অজ্ঞাতনামা ১৫০ জন। আসামিরা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা।
মামলার এজাহার সূত্র জানায়, ১৬ জুন রাতে ভিডিও গ্রুপ কলের মাধ্যমে আসামিরা ভোলাকোট ইউনিয়নের ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির সামনে জড়ো হয়। ভিডিওকলে সংযুক্ত থেকেই ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, একটা একটা লোক ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’ স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পৌঁছলে তারা বাদী রাব্বিসহ সাক্ষীদের ওপর হামলা চালায়।
এ ব্যাপারে বাদী রবিউল হাসান রাব্বীর মোবাইলে একাধিকবার কল করলে তিনি রিসিভ করেননি।
তবে রামগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জহির রায়হান বাবু বলেন, রাব্বী ছাত্রদলের ইউনিয়ন কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। একমাস আগে ওই কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন।
রামগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস শাকুর বলেন, এজাহারনামীয় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে এ মামলায় সন্দেহজনক একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।