গাইবান্ধার সাঘাটায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যার প্রতিবাদে এবং খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির গাইবান্ধা জেলা শাখা।
আজ সোমবার (২২ জুন) সকাল ১১টায় গাইবান্ধা পৌর পার্কের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক প্রতিবাদ সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়।
মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সমাবেশস্থলে জড়ো হন নেতাকর্মীরা। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা সাইফুল্লাহর রক্তের বিনিময়ে ন্যায়বিচার চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই—সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন। এতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে।
গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কারযাভীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন মিলন, কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল, গাইবান্ধা জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি আবু হাসান, ফেরদৌস সরকার রুম্মান, জেলা সেক্রেটারি ফাহিম মণ্ডলসহ অন্যান্য নেতারা।
বক্তারা বলেন, সাইফুল্লাহ বারী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। বক্তারা বলেন, শুধু গ্রেপ্তার নয়, খুনিদের ফাঁসি পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, একজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও মূল অভিযুক্ত মুকুল, পলাশসহ অন্যরা এখনও পলাতক রয়েছে। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বক্তারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস সরকার রুম্মন বলেন, আমাদের নেতা সাইফুল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে, আর সালাউদ্দিনের ফুসফুস ফুঁড়ে দেওয়া হয়েছে—এটা কোনো সাধারণ সংঘর্ষ নয়, এটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। আমরা ন্যায়বিচার দাবি করছি। খুনিদের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না।