Image description

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে করমর্দন ও যৌথ ছবি তুলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কূটনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম অপমান ও অস্বস্তিতে ফেলেছে ইরান। এনিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দেশটি । বৈঠক শুরুর আগে তেহরানের এই অবস্থানের কারণে নির্ধারিত ফটোসেশন ও সংশ্লিষ্ট কিছু আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম বাতিল করতে হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

 

 

বিজ্ঞাপন

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এবং ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকের আয়োজকরা দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ, করমর্দন এবং যৌথ ছবি তোলার ব্যবস্থা করেছিলেন। তবে শুরু থেকেই এসব আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করে ইরানি প্রতিনিধিদল।

 

তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে তারা মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো যৌথ ছবিতে অংশ নেবেন না। এর ফলে পূর্বনির্ধারিত ফটোসেশন এবং সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনাও শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়।

বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে জানা যায়, ইরানি প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থাকলেও সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেননি। সাংবাদিকরা কক্ষ ত্যাগ করার পর তারা বৈঠক কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় সাংবাদিকদের বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে মার্কিন প্রতিনিধিদল অতিরিক্ত পাঁচ মিনিট সময়ও চেয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সুইজারল্যান্ডের বুরগেনস্টকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি । তার সঙ্গে ছিলেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফসহ দেশটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, করমর্দন ও যৌথ ছবির মতো প্রচলিত কূটনৈতিক সৌজন্য এড়িয়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নিজেদের কঠোর রাজনৈতিক অবস্থানের বার্তা দিতে চেয়েছে তেহরান। তাদের মতে, আলোচনার টেবিলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের আরেকটি প্রতীকী অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।