ক্ষমতায় আসলে যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথের সঙ্গীদের নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি ছিল বিএনপির। সরকার গঠনে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় শরীক দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ১২-দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও গণতন্ত্র মঞ্চের ব্যানারে ত্রিশটিরও বেশি রাজনৈতিক দল (নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত) বিভিন্ন সময় বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে সঙ্গী ছিল। দলগুলোর নেতাদের অনেকে জেল-জুলুমের শিকারও হয়েছেন। নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে শরীকরা মূল্যায়িত হবেন এমন প্রত্যাশা ছিল রাজপথের সঙ্গীদের। সরকার গঠন করেছে বিএনপি, কিন্তু দলটি জাতীয় সরকারের ধারণা থেকে বের হয়ে এসেছে। যদিও শরিক দলগুলোর দু’জনকে সরকারের মন্ত্রীত্ব দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এটিকে জাতীয় সরকার বলছেন না কেউই। বিএনপির পক্ষ থেকেও তা বলা হচ্ছে না। জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে শরীকদের সঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী সময় কোনো আলাপ-আলোচনা করেনি বিএনপি। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর জোট সঙ্গীদের নিয়ে পথচলার কোনো লক্ষণই দেখছেন না শরীকরা। তাদের কেউ কেউ মনে করেন, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় বিএনপি অতীত ভুলে গেছে। কেউ কেউ বলছেন, এটাই দেশের রাজনৈতিক ট্রেডিশনে (ঐতিহ্য) পরিণত হয়েছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, সরকার এখনও হানিমুন পিরিয়ডে আছে। একটু গুছিয়ে জোট সঙ্গীদের মূল্যায়ন করবে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যে যার মতো রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। বিএনপি-জামায়াত জোট ভেঙে যাওয়ার পর ছোট দলগুলো নিজেদের মতো করে ছোট ছোট জোট গঠনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ ছিল। ১২-দলীয় জোট-এর ব্যানারে ১২টি দল, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট এর ব্যানারে এবং গণতন্ত্র মঞ্চের ব্যানারে কয়েকটি দল ঐক্যবদ্ধ থেকে রাজপথে ছিলো।
শেখ হাসিনার টানা তৃতীয় মেয়াদের এক বছর আগে (২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর) ঢাকায় বিশাল শো’ডাউন করে বিএনপি। তার আগে নয়টি সাংগঠনিক বিভাগীয় সমাবেশ করে দেশজুড়ে সরকার বিরোধী অবস্থান শক্তিশালী করে দলটি। ঢাকার সমাবেশ থেকে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। দলটি নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনের সমাবেশ করতে চাইলেও সেই সুযোগ দেয়নি সরকার, নানা টালবাহানার পর ঢাকার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গোলাপবাগ মাঠে দলটি বিভাগীয় সমাবেশ করার অনুমতি পায়। সেই সমাবেশের মধ্যমনি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে সংসদ বিলুপ্ত, সরকারের পদত্যাগ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিসহ ১০ দফা ঘোষণা করেন। দশ দফা দাবি আদায়ে ওই সময়কার সরকার বিরোধী দলগুলোকে যুগপৎ আন্দোলনে সঙ্গী হওয়ার আহ্বান জানায় বিএনপি। সেই থেকে শেখ হাসিনা সরকারের পতন পর্যন্ত বিরোধী দলগুলোর বিরাট একটি অংশ বিএনপির সঙ্গে একযোগে কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাধ্যানুযায়ী মাঠে ছিল। ১০ ডিসেম্বর ১০ দফা ঘোষণার পর ওই রাতে জামায়াতে ইসলামীও বিএনপির দফাগুলোর সঙ্গে মিল রেখে (কিছু বিষয় সংযোজন করে) পৃথকভাবে ১০ দফা ঘোষণা করে। বিএনপি ঘোষিত দশ দফা দাবি আদায়ে দলটির যুগপৎ সঙ্গীদের সঙ্গে নানা বোঝাপড়া ছিল। অন্তত ৫০টি সংসদীয় আসন ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল শরীক দলগুলোকে। সরকার গঠন করতে পারলে আন্দোলনে থাকা শরীক দলগুলোকে নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠন করারও কথা ছিল। কিন্তু সেই কথা রাখেনি বিএনপি, এমনটিই বলছেন জোটসঙ্গীরা।
অবশ্য, বিএনপির পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করা হচ্ছে। ৫ আগস্ট, ২০২৪ ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জামায়াত হটাৎ করে একলা চলো নীতি, এমনকি বিএনপির ‘মাইনাস’ করার নীতিতেও হেঁটেছে। যা নিয়ে এক পর্যায়ে দুটি দলের মধ্যে মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগীদের কথা বাদ দিলেও আরও অনেকগুলো দল বিএনপির সঙ্গে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পর্যন্ত বরাবরই ঐক্য বজায় রেখেছে।
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মনে করেন, বিএনপি এখন জাতীয় সরকারের কোনো আইডিয়ার মধ্যে আছে বলে মনে হচ্ছে না। তিনি বলেন, জাতীয় সরকারের প্রস্তাব বিএনপিরই ছিল, বাস্তবে বিএনপি সেই অবস্থানে এখন আর নেই। এটা তখনকার সময় তাদের রাজনৈতিক কৌশলও হতে পারে। বিএনপির মিত্র এই রাজনীতিক শীর্ষনিউজ ডটকম-এর এই প্রতিবেদকের সঙ্গে ১৫ জুন আলাপকালে বলেন, গত চার মাসে (জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর) আমাদের সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক কোনো এনগেইজমেন্ট (সংযোগ) নেই। নির্বাচনের পর রাজপথের সঙ্গীদের নিয়ে বৈঠক হতে পারতো, এটা অনেক সুন্দর হতো। আমার মনে হয় না- তারা এমনটা আর করবেন। হয়তো তারা এখন একলা চলবেন। তারা (বিএনপি) বলেছিলেন, আলোচনা করবেন, বসবেন, কিন্তু বসলেন না, হয়তো বসবেন, তবে সেটা কখন তা জানি না। সাইফুল হক বলেন, নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি (সংখ্যাগরিস্টতা) পাওয়ায় অতি আত্মবিশ^াসী হয়ে উঠেছেন। ফলে নির্বাচনের পর চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও অফিসিয়ালি কোনো যোগাযোগ বিএনপির পক্ষ থেকে করা হয়নি। তবে, আনঅফিসিয়িাল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা বা কথা হয়েছে। বিএনপির এই যুগপৎ সঙ্গী বলেন, বিএনপিকেই ঠিক করতে হবে তারা বাংলাদেশে এককভাবে রাজনীতি করবেন, নাকি সঙ্গীদের নিয়ে এক ছাতার নিচে থাকবেন। জাতীয় সরকার বা জোটসঙ্গীদের সঙ্গে যোগাযোগ না রেখে বিএনপি ‘প্রকারান্তরে শরীকদের বিরোধী শিবিরে ঠেলে দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, বিএনপি দলের বাইরে দুইজনকে প্রতিমন্ত্রী করেছে, তাদের একজন মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, যিনি গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক। আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রভাগে ছিলেন। নুরুল হক নুর প্রতিমন্ত্রী হয়েছে, যিনি বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের সরাসরি সঙ্গী ছিলেন না। তিনি গণতন্ত্র মঞ্চে ছিলেন, ইসরাইল এর গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে তার বৈঠকের খবরে আমরা বৈঠক করে মঞ্চের কার্যক্রম থেকে তার দলকে অব্যাহতি দিয়েছি। আর ববি হাজ্জাজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষে ভোট করেছেন, ফলে তিনি এখন বিএনপির লোক। তাহলে দেখা গেল, যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির রাজপথের সঙ্গীদের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে একমাত্র ‘জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি’ই মূল্যায়িত হয়েছেন। বাকীরা কোথাও স্থান পাননি।
সাইফুল হক বলেন, বিরোধী দলে থাকলে এক ধরনের আচরণ আর সরকারি দলে থাকলে আরেক ধরনের আচরণ, এটা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। বিএনপি যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে, ভবিষ্যতে দলটির ওপর শরীকরা আস্থা রাখবে না, রাখতে পারবে না। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দল হয়েও তাদের জোট সঙ্গীদের মূল্যায়ন করেছে। শরীক দল থেকে বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ করেছে। সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনের ক্ষেত্রেও তারা উদারতা দেখিয়েছে। এনসিপি ভাগে একটি আসন পেলেও তাদের দেওয়া হয়েছে দু’টি। জাগপার শফিউল আলম প্রধানের মেয়েকে সংসদে পাঠিয়েছে। অন্য একটি ইসলামী দলকেও একটি নারী আসন ছেড়ে দিয়েছে। একজন জুলাই শহীদের মাকে তারা সংরক্ষিত আসন দিয়ে সংসদে ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি আন্দোলন সংগ্রাম চলাকালে জাতীয় সরকারের আশ^াস দিলেও এখন আর এ বিষয়ে কিছুই বলছে না।
জাতীয় দল-এর চেয়ারম্যান ছিলেন সৈয়দ এহসানুল হুদা। তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন। কিন্তু নির্বাচনে জয় পাননি। শীর্ষনিউজ ডটকম-এর এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমি এখন আর আমার দল করি না। এখন বিএনপি করি। দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে, এটাও মূল্যায়ন। হয়তো ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু হবে।
বিকল্প ধারা বাংলাদেশের একাংশ বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ সঙ্গী হয়ে রাজপথে ছিল। দলটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী’র সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর বিএনপি আমাদের সঙ্গে কোনো ধরণের যোগাযোগ রাখেনি। সম্মিলিতভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা থাকলেও বিএনপি এখন নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত। জোট বিজয়ী হলে জাতীয় সরকার গঠন করবে এমন কথা থাকলেও বিএনপি সেটি নিয়ে এখনও আমাদের কোনো আশ^াস দেয়নি। ইতোমধ্যে চারমাস অতিবাহিত হয়ে গেছে। তবে আশা ছাড়েননি এই রাজনীতিক, তিনি মনে করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যস্ততার কারণে হয়তো সময় পাননি। তিনি ফ্রি হলে হয়তো আমাদের সঙ্গে বসবেন, মূল্যায়ন করবেন। তিনি বলেন, তারেক রহমান সময় না পেলে হয়তো নজরুল ইসলাম খান (বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও জোট সমন্বয়ক) আমাদের নিয়ে বসবেন। ১৫ জুন মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে নুরুল আমিন বেপারী বলেন, নজরুল ইসলাম খান চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে গেছেন, এসে হয়তো আমাদের সঙ্গে বসবেন।
বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ লেবার পার্টিকে আসন ছাড় না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত জামায়াত জোট যোগ দেয়। অন্য শরীকদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ সংসদে রয়েছেন। কিন্তু সরকারে নেই তিনি। সরকার গঠনের আগে তার দলের ধারণা ছিল তিনি হয়তো পূর্ণ মন্ত্রী হচ্ছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তবে দলটির নেতাকর্মীরা আশা ছাড়েননি। তারা মনে করছেন, সরকার প্রধানের মাথায় রয়েছে বিষয়টি, তিনি অবশ্যই মূল্যায়ন করবেন।
জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের নেতাদের ১৫টি আসন ছেড়ে দিয়েছিল। এর মধ্যে মিত্র পাঁচটি দলকে ছাড়া হয়েছিল আটটি আসন, যারা তাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে। মিত্র পাঁচটি দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে (খেজুরগাছ) চারটি এবং গণসংহতি আন্দোলন (মাথাল), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি (কোদাল), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি (গরুর গাড়ি) ও গণ অধিকার পরিষদকে (ট্রাক) একটি করে আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে জয়ী হন মাত্র তিনজন। তাঁরা হলেন গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বিজেপির আন্দালিভ রহমান পার্থ ও গণ অধিকার পরিষদের মো. নুরুল হক নূর। এ ছাড়া আরও পাঁচটি শরিক দলের প্রধানসহ সাতজন নেতা নিজস্ব দল ভেঙে কিংবা বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হন। এরা নিয়েছিলেন ধানের শীষ প্রতীক। তাঁরা হলেন বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (একাংশ) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাস। এর মধ্যে কেবল শাহাদাত হোসেন সেলিম ও ববি হাজ্জাজ জয়ী হন।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে ২৮ মার্চ, লন্ডনে স্বাধীনতা দিবসের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথম ঘোষণা দেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত দলগুলোকে নিয়ে একসঙ্গে আন্দোলন এবং একসঙ্গে নির্বাচন করবেন। নির্বাচনে জয়ী অথবা পরাজিত সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করবে বিএনপি। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বিএনপির নেতারা জাতীয় সরকারের কথা একাধিবার বলেছিলেন। সরকার গঠনের আগ পর্যন্তও এই কথার উপর ছিল বিএনপি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাতীয় সরকার গঠিত হয়নি। নির্বাচনের ঠিক আগে, ৪ জানুয়ারি, সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিষয়টির উল্লেখ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বিএনপি জনমতের ওপর বিশ্বাসী। নির্বাচনে জয়লাভ করলে আমরা একা সরকার গঠন করব না; বরং যারা দীর্ঘ সময় আমাদের সঙ্গে রাজপথে যুগপৎ আন্দোলন করেছে, তাদের নিয়েই একটি জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। তবে এটি কোনো সর্বদলীয় সরকার হবে না।’ কিন্তু সরকার গঠনের পর সেই কথা রাখা হয়নি সংশ্লিষ্টদের।
শীর্ষনিউজ