Image description

Mirza Galib (মির্জা গালিব)

 
 
বাংলাদেশে জামায়াতের রাজনীতির সিগনেচার পয়েন্ট কী? কোন জায়গায় জামায়াত এমন কন্ট্রিবিউশন করতে পারে, যেটা অন্যদের চাইতে একেবারেই আলাদা?
আমার মতে দুইটা।
 
এক, ওয়েলফেয়ার রাজনীতি। মানুষ সাধারণত রাজনীতি করতে আসে পয়সা কামানোর জন্য, ক্ষমতা দেখানোর জন্য আর নিজের নাম-কামের জন্য। কিন্তু নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে অন্যের উপকার করে বেড়ানো—এইটা রেয়ার। জামায়াত-শিবিরের মধ্যে এইটার চর্চা আছে। তাদের পলিটিকাল ফিলোসফিতে রাজনীতি একটা ইবাদত। এটলিস্ট থিয়োরেটিকালি। প্র্যাকটিকালি এইটার কমবেশি হয়।
 
এই যে শিবির নানা জায়গায় নিজেদের দলের ফান্ড দিয়ে ছাত্রদের জন্য কাজ করে, জামায়াত বিভিন্ন অনুদান দেয়—এইগুলো তারা রাজনৈতিক স্বার্থ না থাকলেও করে। ইবাদত মনে করেই করে। এই সাংগঠনিক মডেলের একটা এক্সটেনশন হইল, তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় গেলে নিজেরা বেশি সুযোগ-সুবিধা না নিয়ে, জনগণের ট্যাক্সের টাকার সুবিধা জনগণের কাছে পৌঁছে দিবে। অবৈধভাবে ট্যাক্সের টাকার নয়-ছয় তো করবেই না, এমনকি বৈধভাবেও নিজেরা কম টাকা খরচ করবে।
 
এই জায়গা থেকেই, জামায়াতের এমপিদের ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি নেয়ার সুবিধা, মন্ত্রীদের সরকারি প্লট নেয়া—আইনিভাবে বৈধ হইলেও, তা তাদের নিজেদের পলিটিকাল ফিলোসফির সাথে কন্ট্রাডিকশন করে। জামায়াতের আমীর যখন এইবার বললেন যে, তার দলের এমপিরা ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি নিবে না, তখন এই ওয়েলফেয়ার মডেলকে হাইলাইট করার একটা প্রবণতা জনগণের চোখে পড়ে। এর মানে এই না যে, জামায়াত সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধাই নিবে না। বরং এর অর্থ হইল, যতটা কম নিয়ে পারা যায়। আর রাজনীতিবিদরা যদি সুযোগ-সুবিধা কম নেন, তাহলে তারা আমলাদের সুযোগ-সুবিধাকেও একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে পারবেন।
 
দুই, ভালো মানুষের রাজনীতি। সমাজের মধ্যে অনেক ভালো মানুষ আছেন, যারা ভালো পরিবেশ পেলে এই ওয়েলফেয়ার রাজনীতিতে আসতেন, মানুষের জন্য কাজ করতেন। কিন্তু রাজনীতির মাঠ কখনোই ফেয়ার খেলা না। এইখানে জেল-জুলুম-নির্যাতনের সম্ভাবনা থাকে সবসময়, এইখানে নিজের জীবনের রিস্ক নিতে হয়। কমন ভালো মানুষরা এই রিস্ক নিতে চান না। জামায়াতের মডেল এইখানে একটা ব্রেকথ্রু অফার করে। যেই মানুষের কোনোদিন রাজনীতি করতে যাওয়ার কথা না, তাকে একটা আদর্শিক মোটিভেশনের মধ্য দিয়ে জামায়াত-শিবির রাজনীতিতে নিয়ে আসে। মানুষের জন্য কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে।
 
জামায়াত এখন প্রধান বিরোধী দল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম তারা সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পেয়েছে। তাদের এখন সামগ্রিকভাবে এমন আচরণ করা উচিত, যাতে মানুষের মনে এই ওয়েলফেয়ার মডেলটার প্রতি আগ্রহ জন্মায়, এর ব্রান্ডিং হয়। শুধু আইনি বৈধতার কথা বলে এমন আচরণ থেকে বিরত থাকা উচিত, যেইটাতে তাদেরকে অন্যান্য দল থেকে আলাদা করা যাবে না। বরং কোনো আইন বা বরাদ্দ যদি তার পলিটিকাল ফিলোসফির সাথে কন্ট্রাডিক্ট করে, তাহলে সেইটার বিরোধিতা করাই তার কাজ হওয়া উচিত। জনগণের কাছে ওয়েলফেয়ার মডেলের ব্রান্ডিং কমে যায়, এই রকম কাজ থেকে সচেতন ভাবে বিরত থাকা উচিত।