ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল, পুলিশ ও বহিরাগতদের দফায় দফায় হামলায় পুরো ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। রোববার (১৭ মে) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে ত্রিমুখী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ ১০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, বহিরাগতদের নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল হামলা চালিয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে।
সম্প্রতি সরকার ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়। প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই এ নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নিয়োগ বাতিলের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে তারা ধারাবাহিক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার সকালে নবনিযুক্ত ভিসিকে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শনের কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় ছাত্রদল ও বহিরাগত বিএনপি নেতাকর্মীরা গেট ভেঙে নবনিযুক্ত ভিসি ড. মোহাম্মদ ইকবাল ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। ছাত্রদল সভাপতি জামিলুর জামিল, সেক্রেটারি আব্দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক রায়হান রাহেল ও সহসভাপতি রাকিবের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে এবং তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চলমান ছিল।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েটের শিক্ষা ব্যবস্থা, একাডেমিক কাঠামো ও প্রশাসনিক বাস্তবতা সম্পর্কে অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা তুলনামূলক বেশি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও কার্যকর প্রশাসনিক পরিচালনার স্বার্থে উপাচার্য পদে ডুয়েটের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই নিয়োগ দেওয়া উচিত।