রাজধানীর মিরপুরের হযরত শাহ আলী (র.)-এর মাজারে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিশৃঙ্খল ঘটনার সঙ্গে ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে প্রচারণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, “গত ১৪ মে দিবাগত রাতে মিরপুরের শাহ আলী মাজার প্রাঙ্গণে যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, তার সাথে ছাত্রশিবিরের দূরতম কোনো সম্পর্ক বা সম্পৃক্ততা নেই। ছাত্রশিবির দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল একটি নিয়মতান্ত্রিক, সুশৃঙ্খল এবং আদর্শিক ছাত্রসংগঠন। কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়, মাজার বা সাধারণ দর্শনার্থীদের ওপর হামলা কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ছাত্রশিবিরের নীতি, আদর্শ ও সাংগঠনিক ঐতিহ্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।”
নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন না করেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং কতিপয় গণমাধ্যম সম্পূর্ণ অন্যায় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ঘটনার সাথে ছাত্রশিবিরের নাম জড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যেখানে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এবং খোদ প্রশাসনের অন্য একটি সূত্র এই ঘটনাকে স্থানীয় মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে জনসাধারণের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ও বিশৃঙ্খলা হিসেবে উল্লেখ করেছে, সেখানে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যপ্রমাণ ও তদন্ত ছাড়াই একটি সুশৃঙ্খল ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছাত্রসংগঠনকে অভিযুক্ত করা গভীর ষড়যন্ত্রেরই অংশ। মূলত একটি বিশেষ মহলের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল এবং ছাত্রশিবিরের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই এই পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে এ ধরনের দায়িত্বহীন, অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। একইসাথে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ দেশবাসীকে এ ধরনের যেকোনো সাজানো অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।