আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর সমাবেশে লাখো মানুষের জমায়েত শাসকদের বুকে ঠুকে দেয় ক্ষোভের পেরেক। ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে তৎকালীন সরকারের রোষাণলে পড়ে হেফাজত। তারপর থেকে শীর্ষ নেতাদের দমাতে মামলা হামলা ভয়ভীতি ছিল নিত্যকার ঘটনা।
এরপর জুলাইয়ের রাজপথ থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতির বাঁক বদলে এখনো প্রাসঙ্গিক হেফাজতে ইসলাম।
সবশেষ ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ভিন্ন জোটে অংশ নেয় সংগঠনটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে থাকা পৃথক ৫টি রাজনৈতিক দল৷ জামায়াত জোটে থাকা চারটি রাজনৈতিক দলে হেফাজতের উপদেষ্টা, নায়েবে আমির, যুগ্ম মহাসচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের নেতারা রয়েছেন। এ নিয়ে তখন থেকেই টানাপোড়েন চলছিল সংগঠনটির ভেতরে৷
গত ১৮ এপ্রিল সামগ্রিক বিষয় নিয়ে হেফাজত আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে বৈঠক করেন সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা৷ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতায় অংশ নেয়া হেফাজত নেতাদের নেতৃত্বে থাকা চারটি দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন সংগঠনটির আমিরের নির্দেশপ্রাপ্ত সাতজন নেতা৷ সংগঠনটির অরাজনৈতিক পরিচয় দৃঢ় করতে আলোচনা শেষে আমিরের কাছে পর্যালোচনা পেশ করা হবে৷ যার ভিত্তিতে আসতে পারে যে কোনো সিদ্ধান্ত।
আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর সমাবেশে লাখো মানুষের জমায়েত শাসকদের বুকে ঠুকে দেয় ক্ষোভের পেরেক।
এমন খবর চাউর হওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাধ্যমে গুঞ্জন শুরু হয় হেফাজত ভাঙনের। এসব ঘটনার পরম্পরা নিয়ে সময় সংবাদের মুখোমুখি হন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ কয়েকজন নেতা।
মামুনুল হক বলেন,
আমরা যারা ১১ দলীয় নির্বাচনীয় ঐক্যে ছিলাম, আমরা কী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ছিলাম বা কী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আছি সেইসব নিয়ে মতবিনিময় করবেন। বাইরে থেকে কেউ কেউ চেষ্টা করছেন হেফাজতের কার্যকারিতা নষ্ট করার জন্য।
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ বলেন,
অরাজনৈতিক সংগঠনের রাজনৈতিক কোনো সংগঠনের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা উচিতই না। হেফাজত আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী তিনি বয়োবৃদ্ধ মানুষ, তাকে যে কোনো কথা বললেই তিনি তা বলে দেন।
এদিকে হেফাজতের নীতিনির্ধারণী নেতাদের দাবি জামায়াতের সঙ্গে টানাপোড়েন বাস্তবিক হলেও হেফাজতকে ভাঙার সুযোগ নেই।
হেফাজতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশীরুল্লাহ বলেন, সংগঠনের সাথে জামায়াতের বিশ্বাসগত কিছু বিষয় আছে, নীতিগত কিছু বিষয় আছে এগুলো নিয়ে সামান্য কিছু দূরত্ব আছে।
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, বিগত নির্বাচনে বিভিন্নজন, বিভিন্ন দল, বিভিন্ন অ্যালাইন্স করেছে, জোট করেছে। আমরা সবাইকে সম্বন্বয় করে হেফাজত আমিরের নির্দেশে, সবাইকে সমন্বয় করে আবার হেফাজতকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য চেষ্টা করেছি।
হেফাজতের মধ্যকার টনাপোড়েন বিষয়ক আলোচনাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিকথন বলে জানান কেউ কেউ।
এ নিয়ে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন,
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা দেখছি কেউ কেউ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন দলকে বিভক্ত করার জন্য। হেফাজতের শক্তিকে যারা ভয় করে, আমরা মনে করি তাদের ওই উসকানিতে মানুষ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।
দেশের কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সুরক্ষায় ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় হেফাজতে ইসলাম। ইসলামপন্থিদের এ প্লাটফর্ম কখনও সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত না হলেও প্রায়শই নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে ক্ষমতাসীনদের ওপর।