বর্তমানে বাংলাদেশে একটি প্রচলিত পদ্ধতি হচ্ছে সমিতি, এনজিও বা কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কিস্তিতে গরু কেনা-বেচা করা। ইসলামী শরিয়ায় এটি জায়েজ কিনা এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।
সমিতি থেকে কিস্তিতে গরু কেনা-বেচা সঠিক কিনা এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি বলেন, সমিতি বা যে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কিস্তিতে গরু কেনা-বেচা জায়েয বা বৈধ, যদি তাতে সুদের মিশ্রণ না থাকে এবং নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে চলা হয়।
তিনি কিস্তিতে পণ্য কেনা-বেচার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্তগুলোর ওপর জোর দিয়েছেন-
মূল্য সুনির্দিষ্ট থাকতে হবে: চুক্তির সময়ই গরুর মোট দাম কত হবে, তা পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
সুদ বর্জন: কিস্তির মেয়াদ বাড়লে বা পরিশোধে দেরি হলে যদি অতিরিক্ত টাকা বা জরিমানা নেওয়া হয়, তবে সেটি সুদ হিসেবে গণ্য হবে এবং তা হারাম।
বস্তু হস্তগত হওয়া: সমিতি বা বিক্রেতা আগে গরুটির মালিকানা গ্রহণ করবে, এরপর ক্রেতার কাছে তা কিস্তিতে বিক্রি করবে।
বিশেষ সতর্কবার্তা: যদি সমিতি আপনাকে নগদ টাকা লোন দেয় এবং সেই টাকা দিয়ে আপনি গরু কেনেন, আর সমিতি যদি আপনার কাছ থেকে আসল টাকার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করে, তবে সেটি সুদি কারবার।
মূল কথা: যদি গরু বা পণ্যের দাম শুরুতে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় (যদিও তা নগদ মূল্যের চেয়ে বেশি হয়) এবং পরবর্তীতে কিস্তিতে পরিশোধের সময় তা না বাড়ে, তবে তা বৈধ।