Image description
নারায়ণগঞ্জ বন্দরের  আওয়ামী যুবলীগ নেতা শীর্ষ সন্ত্রাসী অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজি সহ ১৪ টি মামলার আসামি সোহেল ওরফে ক্যাডার সোহেল'কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১। শুক্রবার দিনগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বন্দর থানাধীন মদনপুরের আন্দিরপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে । গ্রেফতারকৃত সোহেল মদনপুর ইউপি ২নং ওয়ার্ড মেম্বার ও আন্দিরপার এলাকার আনোয়ার হোসেনের পুত্র। তার বিরুদ্ধে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাসহ নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় অন্তত ১৪ টি মামলা রয়েছে ।
 
 
শনিবার সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব-১১ জানায়, বন্দর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সোহেল ওরফে ক্যাডার সোহেল ও তার বাহিনী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বন্দর ও তার আশে পাশের এলাকাকে আতঙ্কের জনপথ তৈরী করে রেখেছে। সোহেলের বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি, জমিদখল ও আধিপত্য বিস্তারসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ঐসব এলাকায় যেকোনো নতুন স্থাপনা নির্মাণের সময় তার বাহিনীকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং মারধরের ঘটনা ছিল নিয়মিত। স্থানীয় ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত 'মাসোহারা' আদায় করার ও অভিযোগ রয়েছে।
 
 
সোহেল তার বাহিনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পৈতৃক জমি ও ভিটেমাটি জোরপূর্বক দখল করে। ভুক্তভোগীদের ভয় দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে জমি লিখে নেওয়া অথবা পেশিশক্তি ব্যবহার করে উচ্ছেদ করার ঘটনায় সে এলাকায় কুখ্যাত। আধিপত্য বজায় রাখতে সোহেল প্রায়ই আগ্নেয়াস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করে আসছিল। সোহেল বাহিনীর ছত্রছায়ায় মদনপুর ও বন্দর, সোনারগাও, আড়াইহাজার এলাকায় মাদকের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠে। তার সরাসরি তত্ত্বাবধান এলাকায় গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিল কেনাবেচা হয়।
 
 
 
উল্লেখ্য যে, এই শীর্ষ সন্ত্রাসী সোহেল এর অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী সোহেল ও তার সহযোগীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র‍্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য বন্দর থানা হস্তান্তর করা হয়েছে।