বিএনপি সরকারের বিগত প্রায় ৩ মাসের কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে ও কেন নিচ্ছে, সেগুলো সম্পর্কে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের প্রচার করতে বলা হয়েছে। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতিতে যে জুলাই সনদ সই হয়েছে, এর সব পালন করবে বিএনপি। একই সঙ্গে গণভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে বিরোধী দল কিভাবে ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্য প্রচার করছে, তা-ও মানুষকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এক মতবিনিময়সভার আয়োজন করে বিএনপি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভায় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা সারা দেশ থেকে অংশ নেন।
সভায় উপস্থিত একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে এবং প্রতি ৩ মাস অন্তর এই আয়োজন করবে বিএনপি। এদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ মোট ১১টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বক্তব্য দেন। তারা তাদের মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে নেতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। একই সঙ্গে তাদের পরামর্শ নেন।
লিফলেটে যা রয়েছে
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ছিল না। নেতারা বলছেন, এটা একদমই ক্লোজডোর পরিবেশের মতো আলোচনা হয়েছে। সব নেতাকে একটি করে লিফলেট দেওয়া হয়েছে।
গণভোটের ‘ক’ প্রশ্নে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করবে বিএনপি। গণভোটের ‘গ’ প্রশ্নের আলোকে সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হতে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোও বাস্তবায়ন করবে বিএনপি। একই সঙ্গে সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হতে ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে জুলাই সনদের ২২ ও ২৩ নং অনুচ্ছেদ বিরোধী দল ইতিমধ্যেই লঙ্ঘন করেছে। এগুলো মানুষকে জানাতে বলা হয়েছে।
মতবিনিময়সভা সম্পর্কে জানতে চাইলে যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সদস্যসচিব সাজ্জাদুল মিরাজ কালের কণ্ঠকে বলেন, সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে কম আলোচনা হয়েছে। ১৮০ দিনের কর্মসূচি মন্ত্রীরা সভায় ব্যাখ্যা করেছেন। আমরা মন্ত্রণালয়গুলোর কাজ নিয়ে জানতে চেয়েছি, মন্ত্রীরা তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। প্রতি তিন মাস পর পর এই মতবিনিময়সভা করা হবে। এবার শুধু জেলা পর্যায়ের নেতাদের আনা হয়েছিল। এরপর যদি সম্ভব হয়, উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের নিয়েও মতবিনিময় করা হবে। সরকার যেসব প্রকল্প হাতে নিয়েছে সেগুলো সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছে। গণভোট, জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল মানুষের কাছে কিভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে, তা-ও সভায় তুলে ধরা হয়েছে।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, সরকারপ্রধান নেতাকর্মীদের থেকে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চেয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা তাদের প্রকল্পগুলোতে আর কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে মানুষ উপকৃত হতে পারবে, এসব বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে। নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন এবং সরাসরি প্রশ্ন করছেন যে, এটি কেন নেওয়া হয়েছে বা এই পরিকল্পনা নেওয়া ভুল ছিল নাকি সঠিক ছিল? সব বিষয়ে একটা জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছিলেন, প্রশ্নগুলো যেন জনসম্পৃক্ত হয়। মোট ১১টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ যেহেতু নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত- একদম সাধারণ তৃণমূলের মানুষের চিন্তাভাবনাগুলো, মানুষ আসলে সরকারকে নিয়ে কী ভাবছে, কী পরামর্শ দিচ্ছে, তারই একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিফলন এই মতবিনিময় সভায় দেখেছি। আশা করি, এটির মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহিও নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে সরকারের যে ভুলত্রুটিগুলো হচ্ছে, সেগুলো শুধরে আগামীতে আরো ভালোভাবে এগিয়ে যাবে বলে আমরা প্রত্যাশা রাখছি। সরকারের নীতিনির্ধারণ, পদক্ষেপ এবং আগামীর কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।