Image description

বিশেষ কোনো ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোত্রকে টার্গেট করে কারও ক্ষতি না করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি জাপান সফর শেষে দেশে ফিরে শনিবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান। এ সময় গত ২ মে থেকে এক সপ্তাহব্যাপী জাপান সফরের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নির্যাতন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, আমরা এই বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমাদের যা করণীয় তা করব। পশ্চিমবঙ্গ কেন, দুনিয়ার যেকোনো জায়গায় যদি কোনো নিরীহ মানবগোষ্ঠীর ওপর জুলুম করা হয়, আমরা তার বিপক্ষে। মজলুম যেখানেই থাক, আমরা তাদের পক্ষেই থাকব। ভারতের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ, তাই সেখানে সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার ভোগ করার পূর্ণ এখতিয়ার আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রতিবেশীকে আমরা সম্মান করি, কিন্তু কোনো প্রতিবেশী আমাদের অপমান করবে—এটাও আমরা চাই না। তিনি বলেন, সরকার এখন বেশি ‘পলিটিসাইজড’ হয়ে গেছে। তবে এই মুহূর্তে সবখানে দলীয়করণ বাদ দিয়ে দেশের মানুষের নিরাপত্তাকে আগে নিশ্চিত করতে হবে। নওগাঁ বা চট্টগ্রামের মতো জায়গায় যারা অপরাধ করে পালিয়ে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকের যুদ্ধ বাদ দিয়ে বাস্তবে যুদ্ধ করতে হবে বলেও গুরুত্বারোপ করেন ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, জাপান থেকে ফেরার পথে তারা থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন, সেখানে ৬৪ জন ‘জুলাই যোদ্ধা’কে দেখতে, যারা সেখানে চিকিৎসাধীন। তাদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত করুণ; কারও হাড় নেই, কেউ প্যারালাইজড হয়ে গেছে। তাদের এই কষ্টের ভাগীদার হওয়া নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আহতদের সুচিকিৎসা এবং তাদের পরিবারের জন্য সাইকোথেরাপির ব্যবস্থা করতে হবে। যাদের দেশে চিকিৎসা সম্ভব নয়, তাদের বিদেশে পাঠাতে হবে। বিশেষ করে গুরুতর নার্ভ ইনজুরির রোগীদের সিঙ্গাপুরে পাঠানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রবাসীদের সঙ্গে আলোচনায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি উঠে এসেছে। আহত ও পঙ্গু ব্যক্তিরাও জানিয়েছেন, সুস্থ হয়ে ফিরলে তারা জাতির প্রয়োজনে আবারও লড়াই করবেন, তবে গণভোটের রায় এবং ‘জুলাই সনদ’ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো ধরনের ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ বা অসম্পূর্ণ বাস্তবায়ন গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, গত ২ মে তারা জাপান ও থাইল্যান্ড সফরে যান। জাপানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন বৈঠক করেন, যার মধ্যে জাপান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। জাপান বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার উল্লেখ করে তিনি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাপানি সংস্থাগুলোর সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ, কুষ্ঠ নির্মূল, রোহিঙ্গা সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি জানান। এছাড়া বাংলাদেশে একটি আধুনিক ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল স্থাপনের প্রস্তাব জাপানি প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজার পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য তিনি নিজে পাইকারি ও খুচরা বাজার পরিদর্শন করবেন এবং প্রয়োজনে উৎপাদন পর্যায়েও যাবেন।

তিনি বলেন, বিরোধী দলে থাকলেও দেশের স্বার্থে তারা সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা করবে, তবে দেশের ক্ষতি হলে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে প্রতিবাদ ও প্রয়োজন হলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ অনেকে।