Image description

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তিকে বাস্তবতার আলোকে দেখার কথা বলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, “এইটাই একমাত্র চুক্তি না, এইরকম আরো বহু চুক্তি আছে। আমরা বাস্তবতার আলোকে দেখার পক্ষে।”

শনিবার দুপুরে জাপান থেকে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শফিকুর রহমান।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে, যা নিয়ে বিভিন্ন থেকে সমালোচনা আসছে। সমালোচকরা বলছেন, চুক্তিটিকে বাংলাদেশের ‘স্বার্থবিরোধী’।

চুক্তিতে ১৩১টি শর্ত বাংলাদেশকে মানতে হবে; সেটি এখনো কার্যকর না হলেও ইতোমধ্যে সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনাসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির চুক্তি করেছে।

বাণিজ্য চুক্তি করার সময় অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, চুক্তি করার বিষয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলাম ‘সম্মতি’ দিয়েছে।

যদিও জামায়াতে ইসলামীর দাবি, এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়নি।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে শফিকুর রহমান বলেন, “আমি আসলে ভাই বাস্তব দেখে পদক্ষেপ নেওয়ার মানুষ। আমি এখানে (বিমানবন্দরে) নেমেই নিয়ত করেছি, সম্ভব হলে আজকে ঢুকবো, না হলে কালকে ঢুকবো। আমি যাবো পাইকারি বাজারে, আমি যাবো খুচরা বাজারে।

“আমি যাবো যেখান থেকে মালগুলা আসে… এটা দুইশ মাইল দুরে হলেও ওখানেও যাবো। উৎপাদনস্থলে এটার দাম কত; এইখানে আসার পর পাইকারি মার্কেটে কি; তারপর খুচরা মার্কেটে কি, এই তিনটা যাচাই করার পরে আমরা আমাদের ভূমিকা নেব ইনশাআল্লাহ। আমরা চুপ থাকবো না।”

জামায়াতে ইসলামীর আমির জাপান থেকে ব্যাংকক হয়ে ঢাকায় ফেরেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মো. সেলিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের নেতা আতাউর রহমান সরকার।

বিরোধীদলীয় নেতা তার জাপান সফরের কথা তুলে ধরে বলেন, গেল ২ মে তিনসহ তিনজনের একটি প্রতিনিধি দল জাপানের উদ্দেশে রওয়ানা করেন। তার সঙ্গে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি এবং আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মীর আহমাদ বিনকাসেম আরমান এমপি।

সফরে ইসলামিক মিশন জাপান আয়োজিত কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন ও শিক্ষা শিবির-২০২৬ এ অংশগ্রহণ করেন। ৪ মে টোকিওর কামিনাকাযাতোতে তাকিনোগাওয়া হলে ইসলামিক মিশন জাপানের আয়োজনে সংবর্ধনা গ্রহণ করেন। ৫ মে জাপানের নাগোয়া শহরে বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন আমির।

৭ মে জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইওহেই সাসাকাওয়া এবং টোকিও মেট্রোপলিটন গভর্নমেন্টের ভাইস গভর্নর মাৎসুমোতো আকিকোর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় শফিকুর রহমানের। এদিনই তিনি জাপানের পার্লামেন্ট ভবন পরিদর্শন করেন।

৮ মে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক ইয়ামাদা তেতসুয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।

সবশেষ শুক্রবার জাপান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার শিমাদা তোমোকির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, তার আট দিনের এই সফর ছিল সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের।

দেশে ফেরার আগে শনিবার সকালে ব্যাংককে হাসপাতালে আহত চিকিৎসাধীন জুলাই যোদ্ধাদের দেখতে যান তিনি।

বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের কষ্ট ভাগ করে নিতে আমরা হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সরকারকে বলব, আহতদের অনেকের গোটা পরিবারই ‘ট্রমাটাইজড’। সরকারকে অনুরোধ করব, আরো যারা বাকি আছে, সবার দায় সরকারকে নিতে হবে। তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা করাতে হবে।

“তিনজন আহত আছেন, যাদের ব্যাংককের চিকিৎসায়ও হচ্ছে না, তাদের সিঙ্গাপুরে নিতে হবে।”