Image description

বিএনপি’র হাইকমান্ডের কঠোর হুঁশিয়ারির পরও দলের তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মী বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের অপকর্মে নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হচ্ছে গণমাধ্যমে। তাদের বিরুদ্ধে নালিশ উঠছে সংসদেও। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন দলের দায়িত্বশীল নেতারা। তবে অপকর্মে জড়িয়ে পড়া এসব নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছে বিএনপি। সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছে আইনি ব্যবস্থাও। সম্প্রতি দেশব্যাপী চাঁদাবাজদের তালিকা করেছে প্রশাসন।

তালিকায় বিএনপি’র কেউ জড়িত থাকলে তাকেও ছাড় না দেয়ার বার্তা দেয়া হয়েছে সরকারের তরফে। গত এক মাসে বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি নেতিবাচক ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) ভবনে পুলিশের উপস্থিতিতেই টেন্ডার বাক্স ছিনিয়ে নেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় যুবদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ হয়। সমালোচনা হয় বিভিন্ন মহলে। পরে রাতেই টেন্ডার বাক্স ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে যুবদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করে রাজশাহী মহানগর যুবদল। এর আগে রোববার বাস টার্মিনালে চাঁদাবাজির অভিযোগে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমকে আটক করে পুলিশ।

আটকের পর থানা ঘেরাও করেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও তার অনুসারীরা। দিনভর থানা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো কুমিল্লায়। ১২ ঘণ্টা পর থানা থেকে ছাড়া পান কাইয়ুম। উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য নেতাদের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এর আগে নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পূর্বধলার একটি ফিলিং স্টেশনে এ হামলা চালানো হয়। এ সময় তার গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে সংসদে স্পিকার বরাবর নালিশ জানান ওই সংসদ সদস্য। বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা। পরে সরকার দলের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন। কেন্দ্র থেকে নেয়া হয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা।

সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি’র ও ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। এ বিষয়ে নেত্রকোণা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি ডা. আনোয়ার হোসেন মানবজমিনকে বলেন, দলের কোনো নেতাকর্মী অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি। দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কঠোর বার্তা দিয়েছি- কেউ দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করলে ছাড় পাবে না। সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়া হবে।

এর আগে নোয়াখালীর হাতিয়ায় ওই আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নেতৃত্বে তার গাড়িবহরে এ হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার বিচার চেয়ে সংসদে স্পিকারের কাছে তিনিও নালিশ জানান। ওদিকে সম্প্রতি দলের চাঁদাবাজ, কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বদানকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যান চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। অপকর্মে জড়িত এসব নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের ‘ঘুম হারাম করে দেয়ার’ হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের দলের অবস্থান জিরো টলারেন্স। কেউ কোনো অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে না, আইনি ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।

দলের কেউ চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং ও টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত থাকলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী রাজনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৫ই আগস্টের পর থেকে দলের কোনো নেতাকর্মী অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বিএনপি সরকার গঠনের আগে ৭ সহস্রাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়। সরকার গঠনের পরও বেশকিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তাকে কোনোভাবে ছাড় দেয়া হবে না। এটাই বিএনপি’র নীতি-নির্ধারণী ফোরামের সিদ্ধান্ত।