Image description

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আপনারা কিছু মনে করবেন না, অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হতে তদবির করেছেন, এটা দুঃখজনক। এটি সিস্টেমের দোষ। মূলত মেধা ও বুদ্ধিমত্তা ছাড়া সামনে এগোনো যায় না। আরো অনেক ব্যাপার আছে যেগুলো আমি আপনাদের সঙ্গে এখানে বলতে চাই না।

আজ শনিবার (২ মে) দুপুরে রাজধানীর শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রখ্যাত চক্ষু চিকিৎসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণে এ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই ধরনের একটা সমাজে আপনারা কী করে আশা করতে পারেন। আপনারা অনেক উপরে উঠবেন, বাংলাদেশকে শিখরে নিয়ে যাবেন—পারবেন না।  মেরিটোক্রেসি ছাড়া, মেধা ছাড়া, সততা ছাড়া, বুদ্ধিমত্তা ছাড়া, পরিশ্রম ছাড়া, কখনো এগুলো যায় না। আপনারাও নিশ্চয় আমার সঙ্গে একমত হবেন, এখানে শিক্ষক আছেন, পণ্ডিত আছেন, পিএইচডি করা লোক আছেন—সবাই এই দিকটা আপনারা খেয়াল রাখবেন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা চলে যাওয়ার পরে আমরা ইন্টারিম গভর্নমেন্টের সময়ে সরকারের ভেতরটা দেখেছি। এখন নির্বাচনের পরে সরকারে এসে সরকারের ভেতরে যত ঢুকছি, তত আতঙ্কিত হচ্ছি। আমরা রাষ্ট্র কাঠামো ও তার মানুষগুলোর দিকে যেদিকে তাকাই সেদিকে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং সামনে এগিয়ে চলার পথে বাধা দেখছি। সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এসব বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‘‘এখন বাংলাদেশে যে নিয়ম হয়েছে তদবির ছাড়া কোনো কাজ হবে না। যেকোনো ব্যাপার তদবির করতে চাও এক মন্ত্রীকে দিয়ে, অমুককে দিয়ে বলাও। এগুলো আগে ছিল না। আমরা তো আগেও মন্ত্রী ছিলাম, সরকার চালিয়েছি। এটা গত ১৫ বছরে হয়েছে।’’

বিএনপির মহাসচিব, জুলাই সনদের প্রতিটি জায়গায় আমরা ছিলাম। আমরা কিছু জায়গায় নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি। স্বাক্ষরও করেছি। এখন অবলীলায় বলছে, সবটাই করতে হবে। উচ্চকক্ষে পিআরে আমরা একমত হইনি। সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়েও আমরা একমত হইনি। সবকিছু সংসদে করতে হবে।
 
তিনি বলেন, অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন বিএনপি সংস্কার মানে না। অথচ বিএনপিই সংস্কারের জনক। জিয়াউর রহমান প্রথম সংস্কার এনেছিলেন। তারা মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছেন, জামায়াত এটা নিয়ে আন্দোলনও করছে। উদ্দেশ্য, বাংলাদেশকে আবারও অস্থিতিশীল করা। আইনমন্ত্রী সংবিধান সংশোধনে কমিটির নাম চেয়েছেন। আশা করি, দ্রুত তারা নাম দেবে।

তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতিতে মেধাবীদের যুক্ত করতে হবে। সঠিক খাতে প্রবাহিত করতে হবে। না হলে এটি অতীতের মতো আগামীতেও ক্ষতি করবে।