জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের নামে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে লিখেছেন, “আল্লাহ তুমি আমার ফেসবুকেরএই অ্যালগরিদমের হাত থেকে আমাকে মুক্তি দাও। আমিন বলে না বলে কেউ বাদ যাবেন না প্লিজ।”
প্রচারিত ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, “দেশের মানুষ কাজী নজরুল ইসলামকে চিনতোই না। হাদির কবর সেখানে হওয়ায় মানুষ আজ নজরুলকে চেনে, তার কবর কোথায় সেটা জানে।”
দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে।
তবে দ্য ডিসেন্ট এর যাচাইয়ে দেখা গেছে, দাবিটি সত্য নয়। মূলত শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের ৬৪ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আব্দুল্লাহ আল জাবেরের দেওয়া একটি বক্তব্যের কিছু অংশ কেটে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হচ্ছে।
ফটোকার্ডের বক্তব্যটি থেকে সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড সার্চ করা হলে তার এ ধরনের বক্তব্য সম্বলিত সম্পূর্ণ একটি ভিডিও পাওয়া যায়। সেখানে তাকে বলতে দেখা যায়, "আমরা যারা ঢাকার বাইরে থেকে মূলত ঢাকায় আসছি, এদের ক্ষেত্রে চব্বিশের আগে, এটা আরকি আমার কথা বললাম, আমি ২০১২-তে ঢাকায় আসছি, আমাদের যারা সাধারণ জনগণ, এদের অধিকাংশই, যার সাথে আমিও আছি, যারা কোনোদিন জানতাম না যে তিন নেতার মাজারে কে কে শায়িত আছেন বা তিন নেতার মাজারটা কোথায়। এমনকি শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ চিনছে যে নজরুলের মাজারটা কোন জায়গায়।”
তিনি আরও বলেন, ”এই যে বাংলার ভূমিপুত্র, ইতিহাসের যারা মহানায়ক, এদেরকে যে আড়াল করে রাখার একটা প্রচেষ্টা, এইটা দীর্ঘদিন ধরে এই জমিনে ছিল। কিন্তু আসলে শিকড় তো আসলে উপড়ে ফেলার কোনো সুযোগ নাই। আজ হোক কাল হোক, বাংলার এই জমিনকে যারা আজাদি এনে দিয়েছে, তাদেরকে তো অবশ্যই কৃতজ্ঞতায় এবং স্বীকৃতি জানাবে এই বাংলারই যারা জনগণ রয়েছে তারা।
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, তার ৬৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী; তো আমরা মূলত এখানে তার কবর জিয়ারত এবং দোয়া করার উদ্দেশ্যে এখানে এসেছি।"
অর্থাৎ, তিনি নজরুলের মাজারের স্থানের কথা বললেও দেশের মানুষ কাজী নজরুল ইসলামকে চিনতোই না, এমন বক্তব্য দেননি।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের দ্য ডিসেন্টকে জানান, “দেশের মানুষ কাজী নজরুল ইসলামকে চিনতো না এই ধরনের কোন আলাপ আমি করি নাই। প্লে বা নার্সারির একটা বাচ্চাও যখন প্রথম পড়তে শেখে ও জানে, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।”
তিনি বলেন, “মূলত এই আলাপটা ছিলো এমন: দোয়েল চত্বর ঘেঁষেই জাতীয় তিন নেতার মাজার। আমাদের মধ্যে অনেকেই জানেন না এখানে কার মাজার কোনটা! কিংবা কোন তিনজন মহান ব্যক্তিত্ব এখানে শুয়ে আছেন, তাদের নামটাও অনেকে জানেন না। জুলাই পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা নবাব সলিমুল্লাহ, শেরে বাংলা, মওলানা ভাসানী, সোহরাওয়ার্দীর মতো বাংলার ভূমিপুত্রদের নতুন করে জানবার চেষ্টা করছে, তাদের কাছাকাছি আসছে, তাদেরকে ঘিরে একটা নবজাগরণ তৈরি হয়েছে। ইদানীং বিভিন্ন মিছিলগুলোতেও তাদের ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাটতে দেখা যায়, যেইটা অতীতে ছিলো না। কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্মের সাথে পরিচিত নন এমন বাংলাদেশী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর কিন্তু নজরুলের মাজার ঠিক কোথায় এটা বাংলাদেশের অনেক মানুষই জানেন না। শহিদ ওসমান হাদির শাহাদাতের পর এটা নতুন করে আলোচনায় আসে। বাংলাদেশের গণমানুষ চিনেছে নজরুল ইসলামের কবরটা কোথায়! এইখানে সাহিত্যকর্মের অবদান নিয়ে কোন আলাপ করা হয় নাই। শাহবাগ সার্কেল যদি মনে করে তারাই কেবলমাত্র বাংলাদেশের গণমানুষ , তাহলে এই আলাপের কোন ফায়দা নাই।”