Image description

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ৭ খুন মামলার প্রধান আসামী ফাঁসির দ-প্রাপ্ত নূর হোসেন এখনো কারাগারে থাকলেও তাকে নিয়ে ভীত পরিবারগুলো। তাঁদের অভিযোগ নূর হোসেনের লোকজন প্রচার করছে সে নাকি দ্রুত জামিন পেয়ে বেরিয়ে যাবে। এ বক্তব্য প্রচারের কারণে ভয় বাড়ছে।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম সহ সাত জনকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। এরপর ৩০ এপ্রিল ৬ জন ও ১ মে আরেক জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ভয়াবহ ঘটনাটির পর থেকে আত্মগোপনে থাকা নূর হোসেন পালিয়ে চলে যায় ভারতে। ২০১৫ সালের ১৪ জুন ভারতের কলকাতায় ৩ সহযোগী সহ গ্রেফতার হয় সে। ওই বছরের ১২ নভেম্বর নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ইতোমধ্যে তাঁর ফাঁসির সাজা হয়েছে।

নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেছেন, আমাদের মতো গোটা দেশের মানুষ হত্যার বিচারের অপেক্ষায় বসে আছে। আমাদের সাতটা পরিবার প্রতিনিয়ত কান্না করে যায়। আমাদের যা হারানোর সেটা তো হারিয়ে ফেলেছি,এখন শুধু বসে আছি আল্লাহ তা'আলা যেন বিচারটা দেখায়। জজকোর্ট আর হাইকোর্টের রায় দেখে আমরা ভেবেছিলাম বিচারটা দ্রুত পেয়ে যাবো। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে এ রায় কি কারণে ঝুলে আছে তা জানিনা। এখানে তো আমাদের হাতে কিছু নেই সবকিছু সরকারের উপর নির্ভর করে। তারা চাইলেই বিচারটা হয়। আমরা সব সময় ভয়ে ভীতিতে থাকি। কারণ মানুষ এখন বলে নূর হোসেন বেরিয়ে আসবে। যদি নূর হোসেন ঠিকই আসে তাহলে সে আমাদের উপর তো প্রতিশোধ নিবে। কারণ আমরা এই মামলার জন্য যুদ্ধ করে গেছি। হতাশায় ভুগি যে আদৌও বিচারটা হবে কিনা।

নূর হোসেনের ভাই-ভাতিজা সিদ্ধিরগঞ্জে পুনরায় নূর হোসেনের সাম্রাজ্য কায়েম করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। বিভিন্ন মহলে করে যাচ্ছেন নানা তদবির। তবে এই আধিপত্য বিস্তারে কাল হয়ে দাঁড়াতে পারেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী বিউটি ও বাকি ৬ পরিবারের সদস্যরা।

সবশেষ ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারীর নাসিক নির্বাচনের আগেও এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছিল। নির্বাচনের দুটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভাই-ভাতিজাকে জেতাতে কারাগারের কনডেম সেলে বসেই মোবাইল ফোনে এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠদের ফোন দেন নূর হোসেন। ফোনে তিনি বলেন, ‘শোনেন, আপনারা আমার ভাই নূর উদ্দিনকে পাস করান। টাকা-পয়সা যা লাগে নেন, কিন্তু নূর উদ্দিনকে পাস করান। যদি না করান তাইলে আমি ২০২৩ সালে জেল থেকে মুক্তি পাইতাছি। তখন কিন্তু কাউরে ছাড়ুম না। যা করার করমু।’

এদিকে আপসের বিষয়ে সেলিনা ইসলাম বিউটি জানান, আমি কখনো তাদের সঙ্গে আপোষ করবো না। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার স্বামীর হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করে যাবো।