প্রবাস থেকে ফিরে প্রাণ হারালেন নাছির উদ্দিন। ৪৫ বছর বয়সেই থেমে গেল তাঁর জীবনের ঘড়ি। প্রতিপক্ষের এলোপাতাড়ি গুলিতে গত রোববার রাতে খুন হন তিনি। অথচ মৃত্যুর আগে বাঁচতে চেয়েছিলেন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমসেরপাড়ার যুবদলের এই কর্মী। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করেন তিনি। রক্তাক্ত দেহ নিয়ে তিনি তাঁর মামি দিলুয়ার বেগমকে বলেন, ‘আমি বাঁচব, আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাও।’ বাড়ির লোকজন একটি ভ্যানে করে রাউজান হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁকে। সেখান থেকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তবে নাছিরকে বাঁচানো যায়নি।
২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর নিহত যুবদলকর্মী নাছির উদ্দিনকে কুপিয়ে মৃত্যু হয়েছে ভেবে ফেলে যায় ডাকাত আলম। সেই যাত্রায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বেঁচে যান তিনি। নাছিরের স্ত্রী বেদুরা বেগম বলেন, ‘এর আগেও ডাকাত আলম আমার স্বামীকে একবার হত্যার চেষ্টা করে। তখন বেঁচে গেলেও এবার আর শেষ রক্ষা হলো না তাঁর।’
তবে গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি। কোনো আসামিকে আটকও করতে পারেনি পুলিশ। গতকাল নিহতের ময়নাতদন্ত ও জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের বক্তব্য
নিহত নাছিরের মামাতো ভাই আবদুর রহিম বলেন, ‘নাছির ভাইসহ আমরা কয়েকজন একটি কালভার্টে বসে আড্ডা দিয়ে রাত ৯টার দিকে বাড়ি চলে যাই। নাছির ভাই নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে ডাকাত আলমের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী মামুন, রুবেল, রাজুসহ ৮/১০ জন মিলে গুলি করে।’
নাছিরের মামি দিলুয়ার বেগম বলেন, ‘গুলির শব্দ শুনে আমরা ভয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাঁচাও বাঁচাও আর্তচিৎকারে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি নাছির রক্তাক্ত অবস্থায়। সেই আমাকে বলছিল, ‘আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাও, আমি বাঁচব।’