Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ও ছাত্রশিবির নেতা সাদিক কায়েমের মধ্যে তুমুল তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে ‘আবারও কি উল্টো পথে রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এ বিতর্কে জড়ান।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) আলোচনার এক পর্যায়ে পারস্পরিক অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠান। এ সময় উপস্থাপক দুইজনকে বারবার শান্ত করার চেষ্টা করেন। সাদিক কায়েম বলেন, ‘আপনি একটু আগে আমাকে ‘গুজববাজ’ বলেছেন কিসের ভিত্তিতে এমন মন্তব্য করেছেন? আমি যে কথাগুলো বলছি, সেগুলোর পক্ষে আমার কাছে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। আবিদ ভাইয়ের একটি চমৎকার গুণ আছে তিনি কবিতার মতো করে মিথ্যা বলতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যখন কথা বলি, তখন আমাকে কথা শেষ করতে দেওয়া উচিত। একজন ছাত্রনেতা হিসেবে আমি আবিদ ভাইয়ের কাছ থেকে সেইটুকু শালীনতা প্রত্যাশা করি। তিনি যখন কথা বলেছেন, আমি তো বাধা দিইনি। আমার বক্তব্য শোনার পর তার কোনো মতামত থাকলে সেটি জানাতে পারেন। আমি এখানে কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে আসিনি, আমি শান্তভাবেই আমার কথা বলতে চাই।’

আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নোংরা রাজনীতির একটি ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে, যার উৎস হিসেবে আমি ঢাবি কণ্ঠস্বর  নামের একটি প্ল্যাটফর্মকে উল্লেখ করতে চাই। পরবর্তীতে এই প্ল্যাটফর্মটির নাম পরিবর্তন করে ডেইলি ডাকসু রাখা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে ঢাবি ক্যাম্পাসে এই প্ল্যাটফর্মের নামে একের পর এক ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু ‘ঢাবি কণ্ঠস্বর’ নয়, পরিচিত আরও কিছু প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও অপতথ্য ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে। বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের নামে এমন বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে, যা আমরা কখনোই দিইনি। এতে করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে একটি বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।

আবিদ আরও বলেন, ‘এই ভুয়া কনটেন্ট ও ফটোকার্ডগুলো পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়েছে। এর পেছনে কারা জড়িত, সেটিও খুঁজে বের করা প্রয়োজন। আমি একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করতে পারি, যিনি চট্টগ্রামের লোহাগড়া উপজেলার চম্বড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। তার সঙ্গে সাদিক কায়েমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও আমি জানি।’

এক পর্যায়ে সাদিক কায়েম বলেন, ‘তারা বারবার প্রকাশ্য রাজনীতির কথা বলছে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, ছাত্রদলের কাছে প্রকাশ্য রাজনীতির অর্থ হলো দিনের আলোতে ক্যাম্পাসে বা বহিরাগতদের এনে দেশীয় অস্ত্র রামদা, চাপাতি দিয়ে হামলা চালানো। আমরা কুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন ঘটনা দেখেছি, সর্বশেষ ঢাকা পলিটেকনিকেও একই চিত্র দেখা গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের এই তথাকথিত প্রকাশ্য রাজনীতি মানে সহিংসতা ও দখলদারিত্ব। অন্যদিকে আমরা চাই নিয়মিত শিক্ষার্থীরাই হলে থাকবে, কোনো অছাত্র হলে অবস্থান করবে না। কিন্তু তাদের কাছে প্রকাশ্য রাজনীতি মানে হলে অছাত্রদের রাখা যাদের অনেকের সেশন ২০০৫-০৬ সালের। এটি সত্যিই লজ্জাজনক।’

জবাবে আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা প্রথম আধিপত্য বিস্তার করেছে, তারা হলো শিবির সাধারণ শিক্ষার্থীর নাম ব্যবহার করে। ওই দিন বিকেল থেকেই হলে থাকা শিবিরের কর্মীরা একত্রিত হয়ে ‘ছাত্র প্রতিনিধি’ পরিচয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম চালায় এবং কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের শিক্ষার্থীকে হলে উঠতে দেওয়া হয়নি।

তিনি দাবি করেন, এরাই মূলত ছায়া প্রশাসন হিসেবে কাজ করেছে। আবুজর গিফারী হলে ছাত্রদলের সমাজসেবা সম্পাদক মাহফুজকে থাপ্পড় মেরে বের করে দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে জসিমউদ্দিন হলে সিফাত ইবনে আমিনকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, আমি নিজে উপস্থিত থেকে দেখেছি, শিবির তাকে হলে ঢুকতে বাধা দিয়েছে। ৫ আগস্টের বিকেল থেকেই শিবির এই ধরনের আধিপত্যমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। এখন সাদিক কায়েম যাদের ‘আদুভাই’ বলে উল্লেখ করছেন, তিনি হয়তো তা নিয়ে গর্বের সাথেই কথা বলছেন।