Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে (পাবনা-সিরাজগঞ্জ) এমপি পদে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার নারী নেত্রী অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা। এই সংরক্ষিত আসনের জন্য বিএনপি ও জোটের পক্ষ থেকে ঘোষিত ৩৬ জনের চূড়ান্ত তালিকায় তিনি স্থান পেয়েছেন।

গতকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এছাড়া তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

পাবনার চাটমোহর পৌর সদরের আফ্রাতপাড়া মহল্লার বাসিন্দা প্রয়াত বিএনপি নেতা আক্কাস আলী মাস্টারের মেয়ে রুমা চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে চতুর্থ। স্থানীয়দের মতে, রাজপথের লড়াই-সংগ্রাম ও দলের প্রতি অবিচল আনুগত্যের স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি এই মনোনয়ন পেয়েছেন।

রুমার রাজনৈতিক জীবন থেকে জানা যায়, বিগত দেড় দশকে বিএনপির প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তার সরব উপস্থিতি ছিল। ইডেন কলেজে অধ্যয়নকালীন সময় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পরও তিনি বারবার পুলিশের বাধা, হামলা, জেল-জুলুম এবং অসংখ্য মামলার সম্মুখীন হয়েছেন। রাজনৈতিক চাপ ও নির্যাতনের মুখেও রাজপথ ছাড়েননি তিনি।

১/১১-পরবর্তী সময় থেকে দলের ঘোষিত সব কর্মসূচিতে সম্মুখ-সারিতে থেকে সক্রিয় ছিলেন রুমা। আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকার কারণে তিনি তৎকালীন সরকারের চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং ২০১৮ সালে তাকে কারাভোগও করতে হয়। এছাড়া ৮ দিন রিমান্ডে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

পরবর্তীকালে ঢাকাসহ সারাদেশে দলীয় কার্যক্রম জোরদার করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ এলাকা পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে নারী জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, ওয়ান ইলেভেন থেকে মাঠে ছিলাম। দলের দুর্দিনে নানা মেরুকরণ হয়েছে। কিন্তু আমার ঠিকানা ছিল বিএনপি ও জিয়া পরিবার। দলের জন্য কখনো আপস করিনি। নারী জাগরণের অগ্রদূত ও সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন করেছি। পরে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেও আন্দোলন সংগ্রাম করেছি।

আরও বলেন, তাই সংরক্ষিত নারী এমপি প্রার্থী হিসেবে দল আমাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশা করছি দলকে আরও সুসংগঠিত করতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারবো।