Image description
তদন্ত করবে প্রসিকিউশন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। তার শরীরে বিষ প্রয়োগের কিছুদিনের মধ্যেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে তিনি লিভার সিরোসিস, পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, ডিপ্রেশন ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হন। বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এসব রোগ ধরা পড়ে। এছাড়াও তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেয়নি শেখ হাসিনার সরকার। অসুস্থ অবস্থায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী সরকারের বন্দিশালা থেকে মুক্তি পেলেও আর সেরে ওঠেননি। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ‘গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া ফোরাম’-এর চেয়ারম্যান কানাডা প্রবাসী মোহাম্মদ মমিনুল হক (মিলন) রোববার ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর দাখিল করা আবেদনে এসব অভিযোগ করেন। প্রসিকিউশন তার আবেদনটির বিষয়ে তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে। মোহাম্মদ মমিনুল হক অভিযোগে খালেদা জিয়ার ওপর বিষ প্রয়োগ ও বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর জন্য গণ-অভ্যুত্থানে পতন হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার দাবি করেছেন। একই সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচারও দাবি করেন তিনি। ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এক-এগারোর সরকার গঠিত হয়। ওই সরকারের মূল লক্ষ্যই ছিল খালেদা জিয়া ও তার পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট মামলার মাধ্যমে নিঃশেষ করে দেওয়া। এর ধারাবাহিকতায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয়। পরে তাকে ২০০ বছরের পুরোনো জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়। যেখানে মানুষ থাকার কোনো পরিবেশ ছিল না। সেই কারাগারেই খালেদা জিয়ার শরীরে স্লো পয়জনিং দেওয়া হয়। শেষের দুই বছর বাড়িতে কারাবন্দি ছিলেন খালেদা জিয়া। তখন খালেদা জিয়ার বয়স ৭৫ বছরের বেশি ছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথমবার খালেদা জিয়ার ওপর ‘স্লো পয়জনিং’ নিয়ে অভিযোগ করেন। পরে ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ধামরাইয়ে বিএনপির সমাবেশে মহাসচিব দাবি করেন, স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসও একই অভিযোগ করেন। মির্জা আব্বাস তখন জানিয়েছিলেন, ভারতীয় এক সাংবাদিক ঢাকায় এসে তার সঙ্গে দেখা করেন। তখন ওই সাংবাদিক বলেছিলেন, ‘আমরা কী নিয়ে লাফালাফি করছি, উনি (খালেদা জিয়া) তো দুই বছরও বাঁচবেন না।’ মির্জা আব্বাস তখন প্রশ্ন করেন, কেন? জবাবে ওই সাংবাদিক জানান, ‘ওভাবেই ডিজাইন করা আছে। অর্থাৎ এমন করে ডিজাইন করা হয়েছে, উনি ধীরে ধীরে মৃত্যুবরণ করবেন।’

অভিযোগে আরও বলা হয়, খালেদা জিয়ার পরিবার, আইনজীবী ও চিকিৎসকরা ২০১৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় তৎকালীন আওয়ামী সরকারের কাছে খালেদা জিয়ার বিদেশে সুচিকিৎসার জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সরকার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। চিকিৎসা প্রদান না করে পরিকল্পিতভাবে খালেদা জিয়াকে হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে। এর মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন।

এদিকে অভিযোগকারী দাখিলকারী কানাডা প্রবাসী মোহাম্মদ মমিনুল হক (মিলন) রোববার যুগান্তরকে বলেন, চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তিনি অভিযোগটি জমা দেওয়ার পর চিফ প্রসিকিউটর তাকে জানিয়েছেন, অভিযোগটি তদন্ত সংস্থার কাছে পাঠানো হবে। তারা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেবে।

আসামি চুপ থাকবেন : চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে গুমসহ হত্যা মামলায় জিয়াউল আহসানের পাশাপাশি সাবেক এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় রোববার। তাদের উপস্থিতিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি এ মামলায় ফজলে করিম ও জিয়াউলকে গ্রেফতার দেখানোসহ জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চান। পরে ট্রাইব্যুনাল তার আবেদন মঞ্জুর করেন। অভিযোগ পড়ার একপর্যায়ে কথা বলার জন্য কাঠগড়া থেকে দাঁড়ান জিয়াউল আহসান। তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমি বরখাস্ত নই। একজন অবসরপ্রাপ্ত। তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, যখনই কোনো আসামি আইনজীবী নিয়োগ দেন, তখন তার হয়ে আইনজীবীই কথা বলবেন। আসামি চুপ থাকবেন।

এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ ৭ নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদ। গণ-অভ্যুত্থানে লক্ষ্মীপুরে শিক্ষার্থীসহ ৫ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামিন পুনর্বহালের আবেদন করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী।