ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মো. রাজু মোল্লা নামে যুবলীগের এক নেতাকে কৃষক দলে পদ দেওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজু মোল্লা উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
রোববার (১৪ মার্চ) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল ফরিদপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে উপজেলা শাখার সহ-সাংগঠনিক পদ দেওয়া হয়। এমন একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি করে।
এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা শরীফ সোহান ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিএনপির সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম বাবুলকে দলের নির্যাতিত নিবেদিত কর্মী ছাড়া অন্য দল থেকে প্রবেশকারীদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, ‘এতদিন ত্যাগীরা ভেবেছিল, কমিটি হবে ত্যাগীদের দিয়েই। হয়তো অন্য দল থেকে যারা এসেছে তারা দল করবে, ভোট দেবে, জেলে থাকার কথা অনেকেরই, হয়তো সেই পুরস্কার হিসেবে বাড়িতে থাকবে ফ্যামিলির সঙ্গে কিন্তু কমিটিতে আসবে না। এখন যদি রাজু মোল্লাকে দিয়ে সূচনা করে অন্যদের দোষ কোথায়?’
তিনি আরও লিখেন, ‘এখানেই যদি সমাপ্ত না করেন, এভাবে সব অনুপ্রবেশকারী, লীগ থেকে আসা সবাই সুযোগ নেবে এবং পাবে। ত্যাগীরা পিছিয়ে যাবে এমনকি পিছিয়ে গেছে অনেকেই।’
‘তারা যে যেখান থেকে এসেছে ভোট দিয়েছে কষ্ট করেছে তাদেরও ফেলে দিতে চাই না, তাদের গোপনে অন্যভাবে সম্মানিত করুক, কমিটিতে পোস্ট (পদ) দিয়ে নয়। এখানেই যদি না থামেন, দলের দুর্দিন আসার সময় লাগবে না,’ বলেন ছাত্রদল নেতা শরীফ সোহান।
অনেকে লিখেছেন, এই রাজু মোল্লা বিগত ১৭ বছরে আ’লীগের কাজী জাফর উল্লাহর সঙ্গে ছিলেন। কিছুদিন নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে ছিলেন, আবার কাজী জাফর উল্লাহর সঙ্গে ফিরে এসেছেন। সর্বশেষ, ৫ আগস্টের পরে বিএনপির সঙ্গে মিশে পদ বাগিয়ে নিয়েছেন অল্প দিনেই। বিষয়টি তারা অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেছেন। আবার অনেকে লিখেছেন টাকার বাণিজ্যে পদ পেয়েছে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, ‘যুবলীগ থেকে এসেই পদ পাওয়াটা কোনোভাবেই ঠিক হয় নাই, এর বেশি মন্তব্য করতে পারছি না।’
উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মির্জা ইমরান হোসেন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নেতাকর্মীদের এই বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি বন্ধ করার অনুরোধ জানান এবং নেতা (এমপি) যেটা করেছেন তার বাইরে কথা বলার সুযোগ নেই।’