বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশ এবং দেশের মানুষ নিয়ে একটা পরিকল্পনা রয়েছে। একটা সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আগামী নির্বাচনে নির্বাচিত হলে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন। তারেক রহমান সাংবাদিকদের সামনে আগামী দিনে তার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন, সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। তিনি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবেন কি পারবেন না তা আগামি বলে দেবে। সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাদেরও একই আকাক্সক্ষা। আমরা আশাবাদী হতে চাই। আশাই মানুষকে সামনের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
তারেক রহমান দেশের মানুষের শিক্ষা, মানুষের স্বাস্থ্য, নারীদের অধিকার এবং সামাজিক ক্ষমতায়ন নিয়ে বলেছেন। বলেছেন, নারীর অধিকার বা ক্ষমতায়ন করতে হলে নারীর কর্মসংস্থানের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি কৃষি এবং কৃষকের উন্নয়নের কথা তুলে ধরেছেন। পরিবেশ, বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানির সমস্যা নিয়ে বলেছেন। আইটি ব্যবস্থাপনাও বাদ দেননি। তার বক্তব্যে, একজন আধুনিক মনস্ক রাজনীতিকের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ জটিল কিছু বোঝে না। সহজ কথা সহজ করে শুনতে চায়। সংস্কার কি হবে, না হবে তা নিয়ে খুব যে ভাবে, তা মনে হয় না। এ দেশের সাধারণ মানুষ খাদ্য, বস্ত্র এবং বাসস্থানের নিশ্চয়তা চায়। এরপর শিক্ষা ও চিকিৎসা। এবং সামাজিক নিরাপত্তা। এগুলোর নিরাপদ নিশ্চয়তা পেলেই, তারা নিজেদের সুখী মনে করে। তারেক রহমানের সেদিনের কথামালা’য় এরকম একটা সুখী সমাজের চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম নতুন কিছু দেখতে চায়, যা আধুনিক বিশ্ব বা উন্নত দেশের জীবন ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি। এ রকম একটা রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে একজন অভিভাবকের উপস্থিতি প্রয়োজন। তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন, দেশে ফিরে বিভিন্ন এলাকার নবীনদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এটা উপলব্ধি করেছেন। সাধারণ মানুষ আর পেছনের দিকে ফিরে যেতে চায় না। নতুন এবং আধুনিক উন্নত পথে হাঁটতে চায়। নতুনেরা চাইছে, এমন স্বপ্ন দেখানো নেতা বা অভিভাবক। এটা যে এটা তিনি উপলব্ধি করেছেন, সেটাই হতে পারে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত।
বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের বেশি নারী। নারীর সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা বা স্বাবলম্বী করতে হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। আর্থিক স্বাবলম্বী না করা গেলে সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র যতই আইন প্রণয়ন করুক না কেন, নারীকে অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভর হবে। তাহলেই নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তারেক রহমান নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি উল্লেখ করে সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরেছেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান উল্লেখ করেছেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়েছে সামনে আমাদের অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন রকম মতপার্থক্য আছে। রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আজকে আপনাদের কাছে এবং আপনাদের মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলের সদস্যদের কাছে সামগ্রিকভাবে সমাজের সব মানুষের কাছে আমি একটি বিনীত আহ্বান রাখতে চাই যে, বিভিন্ন মতপার্থক্যগুলো যাতে আমরা আলাপ-আলোচনা করতে পারি। আমাদের যে কোনো মূল্যে ডেমোক্রেটিক প্রসেস চালু রাখতে হবে।
আমাদের জবাবদিহি চালু রাখতে হবে। সাংবিধানিক রাজনীতি অব্যাহত রাখতে হলে পরমতসহিষ্ণুতা, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং জবাবদিহি একটা আধুনিক রাষ্ট্রের জন্য খুব জরুরি। গত ১৬ বছর পতিত সরকার এই ব্যবস্থা বিনষ্ট বা ভেঙে দেয়ায় দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা দেখা দেয়। সরকার হয়ে ওঠে একনায়ক ফ্যাসিস্ট। অবশেষে জনগণ বিদ্রোহী হয়ে ওঠে, এবং ফ্যাসিস্টকে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান এটা প্রত্যক্ষ করেছেন। এবং বুঝতে পেরেছেন, একটা আধুনিক রাষ্ট্র কাঠামো দাঁড়া করাতে হলে বিভিন্ন মতাদর্শের ঐকমত্য প্রচেষ্টা জরুরি। দেশ ও জাতির স্বার্থে সব দলকে ঐকান্তিক উদ্যোগ নিতে হবে। এটা দেশের জন্য আশাবাদ।
বিএনপি চেয়ারম্যান, কৃষি এবং কৃষকের কথা বলেছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদের প্রধান কাঠামো হচ্ছে কৃষি অর্থনীতি। বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের মুখে আহার তুলে দিচ্ছেন এ দেশের কৃষকরা। অথচ তারা সবসময় বঞ্চিত। নেই সামাজিক সম্মান বা স্বীকৃতি। কথা বলার নেই কোনো প্ল্যাটফর্ম। আছে শুধু বঞ্চনা। কৃষকের আছে মাটির সঙ্গে গভীর প্রেম। তাই বঞ্চনার পরও তারা প্রতি বছর ফসল ফলায়। মানুষের মুখে আহার তুলে দেয়। বাংলাদেশকে যদি খাদ্য আমদানি করতে হয় তাহলে কোনো খাত দিয়েই তা পূরণ করা সম্ভব হবে না। কৃষক যাতে তার শ্রমের সঠিক মূল্য পায়, সেজন্য উদ্যোগ নিতে হবে। বিষয়টি উপলব্ধি এবং উল্লেখ করে কৃষি, কৃষক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়টি প্রকাশ করেছেন তিনি।
কলকারখানার বর্জ্যে নদীর পানি একেবারে দূষিত। বিশুদ্ধ পানির জন্য ব্যাপকভাবে ভূগর্ভস্থ পানি ওঠানো হচ্ছে। এভাবে ভূগর্ভস্থ পানি তোলা হলে আগামীতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক গভীরে চলে যাবে। কিংবা ভূমি শুকিয়ে মরুভূমির রূপ নিতে পারে। আগামীতে নদী দূষণ এবং ভূগর্ভস্থ পানির অভাব দেখা দেবে। শহরের মানুষ বিশুদ্ধ পানির অভাবে পড়ে যাবে। এর প্রতিকারে এখনই নদীর পানি বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া চালু করতে হবে। নগরের এই বড় সমস্যাটিও তারেক রহমানের কথায় এসেছে।
পরিশেষে বলা যায়, বিএনপি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই দল অনেকবার নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছে। আশা করা যায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করবে। সেই সঙ্গে আশা থাকবে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাংবাদিকদের সামনে যা বলেছেন, তা কার্যকর করার চেষ্টা করবেন। সেই সঙ্গে এটাও মাথায় রাখতে হবে, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে অদৃশ্যমান অনেক চ্যালেঞ্জ থাকে। সেসব মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে।