চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আলোচিত গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন ওরফে শিবির জামাল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। পুলিশ প্রযুক্তি, সিসিটিভি চিত্র বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে নাজিম উদ্দিন প্রকাশ ওরফে বাইট্টা নাজিম (৫২) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় নিহতের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়।
গত ১০ জানুয়ারি ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর দিঘিরপাড় এলাকায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের গুলিতে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী শিবির জামাল উদ্দিন (৪৫) নিহত হন এবং তার সঙ্গী নাছির উদ্দিন (৪২) গুরুতর আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রধারীদের ফেলে যাওয়া ১১টি পিস্তলের খোসা উদ্ধার করে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে দেখা যায়, নিহত শিবির জামালের সঙ্গী নাজিম উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকতে পারে। এরপর র্যাব-৭ এর সহায়তায় সোমবার রাতে চট্টগ্রাম শহরের কোতোয়ালী থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে নাজিম স্বীকার করে, হত্যার দিন গুলি ছোঁড়ার পর সে নিহত জামালের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নিয়ে হত্যাকারীদের সঙ্গে পালিয়ে যায় এবং মোটরসাইকেলটি তার নিজ বাড়ি লেলাংয়ের কাবিল মিস্ত্রী বাড়িতে লুকিয়ে রাখে। পরে তার দেখানো মতে পুলিশ মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে।
নাজিম আরও জানায়, গত বছর চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টস কারখানায় ঝুট ক্রয়ের টেন্ডার দাখিল নিয়ে নিহত জামালের সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত কুখ্যাত সন্ত্রাসী বড়ো সাজ্জাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর বড়ো সাজ্জাদ তার সহযোগীদের মাধ্যমে একাধিকবার জামালকে হত্যার হুমকি দেয়।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রেপ্তাকৃত নাজিম ফোনের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের দিঘিরপাড় এলাকায় ডেকে আনে। মোটরসাইকেল যোগে তিন সশস্ত্র হামলাকারী এসে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে জামালকে হত্যা করে এবং নাছিরকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে যায়।
বুধবার সন্ধ্যায় ফটিকছড়ি থানার ওসি মো. সেলিম জানান, গ্রেপ্তার নাজিমের বিরুদ্ধে খুন, দস্যুতা ও অস্ত্র আইনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।