Image description

তিনি স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের এই সহায়তামূলক ভূমিকাকে ম্যাককিনসি এবং বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের মতো আন্তর্জাতিক পরামর্শক সংস্থাগুলোর কাজের সাথেও তুলনা করেছেন। এই দাবিগুলোর মাধ্যমে বিতর্কের সমাধান হবে না। বরং এসব দাবির সূত্র ধরেই অনুসন্ধান শুরু হওয়া উচিত।

মাঝে মাঝে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক দলিল ফাঁস হওয়া কোনো স্মারকলিপি বা গোপন ব্যাংক রেকর্ড হয় না। বরং সেগুলো হয় বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের নিজেদের লেখা প্রকাশ্য বিবৃতি। আর ঠিক এ কারণেই বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদের সাম্প্রতিক ফেসবুক সাফাইটি যতটা সমালোচিত হয়েছে এটা তার চেয়ে ঢের বেশি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের দাবি রাখে।

ইব্রাহিম বলেছেন যে তার কোম্পানি স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল এবং শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতুর জন্য জাপানের মিয়াগাওয়া কেনসেটসু থেকে প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে সহায়তা করেছে। তিনি জোর দিয়ে দাবি করেছেন যে এখানে স্বার্থের কোনো সংঘাত নেই, কারণ তার বাবার মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পগুলোর সাথে জড়িত নয়।

তিনি স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের এই সহায়তামূলক ভূমিকাকে ম্যাককিনসি এবং বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের মতো আন্তর্জাতিক পরামর্শক সংস্থাগুলোর কাজের সাথেও তুলনা করেছেন।

এই দাবিগুলোর মাধ্যমে বিতর্কের সমাধান হবে না। বরং এসব দাবির সূত্র ধরেই অনুসন্ধান শুরু হওয়া উচিত।

৩.৪ বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন

অর্থনীতির সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্নটি দিয়ে শুরু করা যাক: আসলে টাকাটা কার কাছে আছে?

ইব্রাহিমের ফেসবুক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল মিয়াগাওয়া কেনসেটসুকে যুক্ত করে ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ "নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছে"। স্ট্যালিয়নের নিজস্ব ওয়েবসাইট আরও এক ধাপ এগিয়ে বর্তমানে দাবি করছে যে, তারা মিয়াগাওয়া কেনসেটসু থেকে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) হিসেবে প্রায় ৩.৩ বিলিয়ন ডলার "সফলভাবে নিশ্চিত করেছে"।

এটি একটি বিস্ময়কর দাবি।

মিয়াগাওয়া কেনসেটসুর ব্যাপারে যেসব কর্পোরেট তথ্য পাওয়া যায় তাতে এ সংক্রান্ত অসামঞ্জস্যতাকে এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্স (S&P Global Market Intelligence) মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কে.কে.-কে আইচি-র টয়োটা-তে অবস্থিত মাত্র আটজন কর্মী বিশিষ্ট একটি জাপানি আবাসিক-নির্মাণ/বাড়ি তৈরির কোম্পানি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মাত্র আটজন কর্মী। অথচ জনগণকে বলা হচ্ছে যে এই কোম্পানিটি প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের দুটি বাংলাদেশি অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়নের সাথে যুক্ত।

ছোট কোম্পানিগুলো অবশ্যই বিশাল প্রকল্পের স্পন্সর হতে পারে। একজন স্পন্সরকে তার নিজস্ব ব্যালেন্স শিট থেকে মাল্টিবিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়ন করতে হয় না। এটি একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করতে পারে, একটি স্পেশাল-পারপাস ভেহিকল (বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য প্রতিষ্ঠান) স্থাপন করতে পারে, ব্যাংক থেকে প্রকল্প অর্থায়ন পেতে পারে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিয়োগ করতে পারে, এক্সপোর্ট-ক্রেডিট অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে পারে, অথবা বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারদের নিয়ে আসতে পারে।

প্রশ্ন হলো- মিয়াগাওয়া কেনসেটসু যদি কেবলই প্রকল্পের স্পন্সর হয়, তবে প্রকৃত অর্থায়নকারী কারা? কোন কোন ব্যাংক তহবিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে? কোন কোন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী অংশগ্রহণ করছে? স্পন্সর কী পরিমাণ ইক্যুইটি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে? কোনো টার্ম শিট (term sheet) কি আছে? অর্থায়নের কোনো প্রতিশ্রুতি? আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো ব্যাংকের চিঠি? ফিন্যান্সিয়াল ক্লজ (অর্থায়নের আনুষ্ঠানিক চুক্তি) কি সম্পন্ন হয়েছে? সরকারের কী ধরণের গ্যারান্টি, রাজস্ব গ্যারান্টি, ভায়াবিলিটি-গ্যাপ ফান্ডিং (viability-gap funding), জমির প্রতিশ্রুতি বা অন্যান্য সম্ভাব্য দায়ের কথা বিবেচনা করা হয়েছে?

যতক্ষণ না এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ ৩.৪ বিলিয়ন ডলার "নিশ্চিত করা হয়েছে" বলা আর ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুত অর্থায়ন যে আসলেই বিদ্যমান তা প্রমাণ করা এক বিষয় নয়।

এফডিআই (FDI) কোনো জাদুর শব্দ নয়

ফেসবুকের সাফাইটিতে আরেকটি ধারণাগত সমস্যা রয়েছে। সাঈদ ইব্রাহীম এই লেনদেনটিকে বাংলাদেশের ঋণ-নির্ভর অবকাঠামো থেকে বেরিয়ে এফডিআই-এর দিকে যাওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার পোস্টে বলা হয়েছে যে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্যই স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে বাংলাদেশের ক্রমাগত ঋণের ওপর নির্ভরতার চেয়ে বরং এফডিআই-এর প্রয়োজন বেশি।

এই উপস্থাপনটি অর্থনৈতিকভাবে অসম্পূর্ণ। একটি বিদেশি কোম্পানি অংশগ্রহণ করলেই কোনো পিপিপি (PPP) ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই হয়ে যায় না। এর হিসাব-নিকাশ নির্ভর করে অর্থায়নের কাঠামোর ওপর। বিদেশি স্পন্সরের ইক্যুইটি এফডিআই হিসেবে গণ্য হতে পারে। সম্পর্কিত-পক্ষের (related-party) অর্থায়নও কখনো কখনো এফডিআই কাঠামোর আওতায় পড়তে পারে। সম্পর্কহীন বিদেশি ব্যাংকের ঋণ সাধারণত ইক্যুইটি এফডিআই-এর পরিবর্তে বাহ্যিক ঋণ হিসেবেই বিবেচিত হয়। সরকারের অবদান সরকারি ব্যয় হিসেবেই থেকে যায়। অভ্যন্তরীণ অর্থায়ন অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ হিসেবেই থাকে।

অন্যভাবে বললে, "পিপিপি", "বিদেশি অর্থায়ন" এবং "এফডিআই" সমার্থক শব্দ নয়।

এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ করদাতারা শেষ পর্যন্ত একটি সেতুর সাথে জুড়ে দেওয়া তকমার পরোয়া করে না, বরং এর অর্থনৈতিক ঝুঁকি কে বহন করছে তা নিয়ে মাথা ঘামায়। সরকার যদি অ্যাভেইল্যাবিলিটি পেমেন্ট (availability payments), ন্যূনতম রাজস্ব, বিনিময়-হার সুরক্ষা, সার্বভৌম গ্যারান্টি, চুক্তি বাতিলের ক্ষতিপূরণ বা অন্যান্য সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে প্রকল্পটিকে রাজনৈতিকভাবে "বিদেশি বিনিয়োগ" হিসেবে বাজারজাত করা হলেও করদাতাদের বিশাল দায়ের মুখে পড়তে হতে পারে।

অতএব, ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই উদযাপনের আগে, এর মূলধন কাঠামো প্রকাশ করুন।

ম্যাককিনসি-র সাথে তুলনা উত্তরের চেয়ে বেশি প্রশ্নের জন্ম দেয়

সাঈদ ইব্রাহীম আহমেদ স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের ভূমিকাকে ম্যাককিনসি এবং বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের সাথে তুলনা করে যুক্তি দিয়েছেন যে, এই ধরনের সংস্থাগুলো নিজেরা অবকাঠামো নির্মাণ না করেই বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াগুলোকে সহজতর করে।

এই উপমাটি আলংকারিক দিক থেকে চতুর হলেও বিশ্লেষণাত্মক দিক থেকে দুর্বল। সমস্যাটি এই নয় যে পরামর্শকরা লেনদেনে সহায়তা করতে পারে কিনা। অবশ্যই তারা পারে। আসল প্রশ্ন হলো, বর্তমান মন্ত্রিসভার একজন মন্ত্রীর ছেলের সাথে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে বাংলাদেশ সরকারের সাথে জড়িত একটি মাল্টিবিলিয়ন ডলারের লেনদেনে সম্ভাব্যভাবে মূল্যবান মধ্যস্থতাকারীর স্থান দখল করলো!

স্ট্যালিয়নের ওয়েবসাইট সাঈদ ইব্রাহীমকে এর চেয়ারম্যান হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং তার টরন্টো, কেন্ট এবং ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনে পড়ালেখার পাশাপাশি আর্থিক খাতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু সমালোচনার বিপরীতে, সাঈদের "একটিও প্রকাশনা নেই" বলাটাও ভুল হবে। এআইইউবি (AIUB)-এর জার্নাল রেকর্ডে তার নামে অন্তত তিনটি পেপার পাওয়া যায়: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রড-মার্কেট ইনডেক্সকে প্রভাবিত করার বিষয়গুলোর উপর ২০২২ সালের একটি প্রবন্ধ, ২০২৩ সালের একটি কর্পোরেট-গভর্ন্যান্স পেপার এবং ডিএস৩০ (DS30) কোম্পানিগুলোর উপর ২০২৩ সালের একটি সিএপিএম (CAPM) স্টাডি।

এআইইউবি তাকে একজন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতার মধ্যে অ্যাস্টন ইউনিভার্সিটির একটি ডিবিএ (DBA)-এর উল্লেখ করেছে; এর আগে একটি জার্নালের জীবনীতে তাকে সেই ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।

এই বিষয়গুলো সঠিকভাবে বলা উচিত। কিন্তু এগুলো জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের কোনো সমাধান দেয় না।

একজন সহকারী অধ্যাপক হওয়া, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকা, পেপার প্রকাশ করা বা পুঁজিবাজারের অভিজ্ঞতা থাকা মানেই ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক অবকাঠামো অর্থায়নের সূচনা বা কাঠামো তৈরির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা প্রমাণ করে না। সেই সক্ষমতা লেনদেনের মাধ্যমেই প্রমাণিত হওয়া উচিত।

এরপর আসে ইউসিবি (UCB) প্রসঙ্গ

সাঈদ ইব্রাহীম তার বিদেশি-বিনিয়োগ যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজে তার পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, সেখানে থাকাকালীন তার দল বাংলাদেশে ১০০ কোটি টাকারও বেশি বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ আনতে সাহায্য করেছিল।

কর্পোরেট রেকর্ড নিশ্চিত করে যে ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ একটি বড় ব্রোকারেজ ব্যবসা। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্স এটিকে ২৩৫ জন কর্মচারী বিশিষ্ট এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি-এর একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

তবে এখানে সমালোচকদের সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। ইউসিবির সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের এবং এস. আলমের মধ্যে নথিভুক্ত ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে এবং এস. আলম সম্পর্কিত ব্যবসাগুলোর সাথে ইউসিবির ব্যাংকিং সম্পর্কও ছিল। কিন্তু এই বিষয়গুলো এটা প্রমাণ করে না যে ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ একটি এস. আলম "মানি-লন্ডারিং মেশিন" বা অর্থ পাচারের যন্ত্র ছিল। বর্তমানে পাওয়া তথ্যগুলো ঐতিহাসিক সম্পর্ককে ব্রোকারেজের মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণের সমতুল্য মনে করার বিরুদ্ধে বিশেষভাবে সতর্ক করে।

এই পার্থক্যটি এই কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত ঘিরে থাকা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। সম্পর্কগুলো নিয়ে তদন্ত করুন। লেনদেনগুলো প্রকাশ করুন। অর্থের উৎস ও গন্তব্য অনুসন্ধান করুন। কিন্তু রায় ঘোষণার আগে অভিযোগ প্রমাণ করুন।

আসল সমস্যা ক্রয় প্রক্রিয়ায়

সাঈদ ইব্রাহীমের সাফাইয়ের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি হতে পারে তার এই বিবৃতিটি যে, প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের পিপিপি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং নির্ধারিত জাপানি কোম্পানি সেই কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরাসরি সরকারের সাথে সমন্বয় করবে।

এটি বিষয়টিকে সরাসরি সরকারি ক্রয় এবং পিপিপি শাসনের আওতায় নিয়ে আসে। পিপিপি লেনদেনের জন্য বাংলাদেশের একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো রয়েছে। পিপিপি কর্তৃপক্ষ নিজেই পিপিপি আইন ২০১৫, পিপিপি প্রকল্পের জন্য প্রকিউরমেন্ট গাইডলাইন ২০১৮, আনসলিসিটেড প্রপোজাল (অযাচিত প্রস্তাব)-এর গাইডলাইন ২০১৮ এবং গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট (জিটুজি) পিপিপি-র জন্য আলাদা কাঠামো প্রকাশ করে।

এই কাঠামোর অস্তিত্বের পেছনে একটি কারণ রয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক ক্রয় প্রক্রিয়া কোনো আমলাতান্ত্রিক অলংকরণ নয়। এটি এমন একটি প্রধান প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে করদাতারা জানতে পারে যে রাষ্ট্র তার অর্থের সঠিক মূল্য পাচ্ছে কিনা এবং এটা রাজনৈতিক সংযোগকে অর্থনৈতিকভাবে মূল্যবান সরকারি সুযোগ পাওয়ার নির্ণায়ক হওয়া থেকে বিরত রাখে।

বাংলাদেশের পিপিপি কাঠামোতে আনসলিসিটেড প্রপোজাল বা অযাচিত প্রস্তাবের জন্য কিছু পদ্ধতি রয়েছে, কিন্তু একটি অযাচিত প্রস্তাব মানেই কোনো প্রশ্নাতীত একচেটিয়া চুক্তি নয়। কাঠামোর আইনি ধারাভাষ্যে বাধ্যতামূলক প্রতিযোগিতামূলক বিডিং-এর শর্তগুলোর বর্ণনা দেওয়া আছে, যার মধ্যে আনসলিসিটেড প্রপোজাল গাইডলাইনের অধীনে মূল প্রস্তাবকদের মূল্যায়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। প্রাসঙ্গিক সরকারের সাথে সরকারের চুক্তির শর্তাবলী সঠিকভাবে পূরণ হলে একটি পৃথক জিটুজি (G2G) কাঠামো ভিন্নভাবে কাজ করতে পারে। এটি সরকারের জন্য কিছু সোজাসাপ্টা প্রশ্নের জন্ম দেয়:

প্রতিযোগিতামূলক বিডিং হয়েছিল কিনা?

যদি না হয়ে থাকে, তবে ঠিক কোন বিধিবদ্ধ বা নিয়ন্ত্রক ব্যতিক্রম প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থাকে অনুমোদন দেয়?

এটি কি কোনো অযাচিত প্রস্তাব ছিল?

যদি তাই হয়, তবে মূল প্রস্তাবক কে ছিলেন, এটি কখন জমা দেওয়া হয়েছিল, কে এটি মূল্যায়ন করেছিল এবং এরপর কী প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল?

সরকার কি জিটুজি (G2G) মর্যাদার দাবি করছে?

যদি তাই হয়, তবে জিটুজি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি কোথায়, এবং জাপান সরকার আসলে এখানে কী ভূমিকা পালন করছে?

কোন প্রক্রিয়ায় মিয়াগাওয়া কেনসেটসুক নির্বাচন করা হলো?

কোন প্রক্রিয়ায় স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালকে নির্বাচন করা হলো?

এবং সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- কে স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালকে টাকা দেবে এবং কত টাকা দেবে?

সাঈদ ইব্রাহীমের পোস্টে বলা হয়েছে যে সরকার বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আনা কোম্পানিগুলোর জন্য ১.২৫ শতাংশ প্রণোদনার প্রস্তাব করেছে। যদি ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের কোনো লেনদেনে এরকম কোনো শতাংশ প্রযোজ্য হয়, তবে গণিতের হিসাবে সেটি দাঁড়ায় প্রায় ৪২.৫ মিলিয়ন ডলার।

তার মানে এই নয় যে স্ট্যালিয়ন ৪২.৫ মিলিয়ন ডলারের অধিকারী বা তারা এই অর্থ পাবে। পোস্টটি তা প্রমাণ করে না।

কিন্তু এর সম্ভাব্য বিপুল পরিমাণ থেকেই বোঝা যায় যে কেন আর্থিক প্রতিদানের এই ব্যবস্থাটি প্রকাশ করা আবশ্যক।

"আমার বাবা অন্য একটি মন্ত্রণালয় চালান" – স্বার্থের সংঘাতের এটি একটি বড্ড সংকীর্ণ সংজ্ঞা

আহমেদের মূল সাফাইটি উল্লেখযোগ্যভাবে সহজ: তার বাবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করেন; সেতুগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প নয়; সুতরাং, সংঘাতটা কোথায়?

তিনি মূলত নিজেই এই প্রশ্নটি করেছেন। কিন্তু আধুনিক সরকারি খাতের নৈতিকতা স্বার্থের সংঘাতকে এত সংকীর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত করে না। সংঘাত বলতে একজন মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তার ছেলের জন্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন, এমন হওয়ার প্রয়োজন নেই।

প্রাসঙ্গিক প্রশ্নগুলোর মধ্যে রয়েছে নাগাল, প্রভাব, তথ্য, পরিচিতি, রাজনৈতিক সুবিধা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার আচরণ, সরকারি আলোচনা এবং মন্ত্রিসভায় কোনো পারিবারিক সংশ্লিষ্টতা ছাড়া একজন সাধারণ উদ্যোক্তা একই ধরনের সুযোগ উপভোগ করতে পারতেন কিনা।

এই প্রশ্নগুলোর কোনোটিই অসদাচরণ প্রমাণ করে না। এগুলো প্রমাণ করে যে কেন স্বাধীন তদন্ত এবং তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন। আর এখানেই আমেরিকার হ্যাচ অ্যাক্ট (Hatch Act)-এর সাথে তুলনার ক্ষেত্রে নির্ভুলতার প্রয়োজন। হ্যাচ অ্যাক্ট কোনো আমেরিকান সরকারি-ক্রয় সংক্রান্ত আইন নয় এবং একে সেভাবে উপস্থাপন করা উচিতও নয়। এটি মূলত ফেডারেল কর্মচারীদের পক্ষপাতমূলক রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে, যার মধ্যে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য সরকারি ক্ষমতার ব্যবহার এবং কোনো কর্মচারীর সংস্থার সাথে ব্যবসায় লিপ্ত থাকা ব্যক্তিদের জড়িত কিছু রাজনৈতিক কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত।

সুতরাং মিয়াগাওয়া কেনসেটসুর ছাড়পত্র পাওয়া উচিত কিনা তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে হ্যাচ অ্যাক্ট কোনো আইনি সমকক্ষ বিষয় নয়। তবে এর বৃহত্তর গণতান্ত্রিক শিক্ষা প্রাসঙ্গিক: সরকারি ক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত বা দলীয় সুবিধাকে অবশ্যই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আলাদা রাখতে হবে; দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির আশ্বাসের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয় যে অনুচিত কিছু ঘটেনি। প্রকিউরমেন্ট বা ক্রয়ের জন্য, বাংলাদেশের উচিত নিজস্ব পিপিপি এবং প্রকিউরমেন্ট আইনগুলো প্রয়োগ করা।

ফেসবুক পোস্টটি দুর্নীতি প্রমাণ করে না, এটি তদন্তকে অনিবার্য করে তোলে।

এই পুরো ব্যবস্থাকে তাৎক্ষণিকভাবে দুর্নীতি বলে আখ্যায়িত করার প্রলোভন জাগতে পারে। সেই প্রলোভন প্রতিরোধ করা উচিত, এই কারণে নয় যে প্রশ্নগুলো তাৎপর্যহীন, বরং এই কারণে যে এগুলো এতই গুরুত্বপূর্ণ যে প্রমাণের চেয়ে আগ বাড়িয়ে অভিযোগ করে সেগুলোকে হালকা করা ঠিক নয়।

বর্তমানে এখানে পর্যালোচনা করা সর্বজনীনভাবে উপলব্ধ তথ্য প্রমাণ করে না যে সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ অর্থ পাচার করেছেন, অথবা স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল অর্থ পাচারের একটি বাহন, বা ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ এস. আলম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল, অথবা বাংলাদেশ থেকে ৩.৪ বিলিয়ন ডলার চুরি করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত লেনদেনটি যে স্বচ্ছ, এই তথ্যগুলো তা-ও প্রমাণ করে না। এটি যা প্রতিষ্ঠা করে তা হলো বিস্ময়কর কিছু ঘটনা, যা দালিলিক উত্তর দাবি করে:

একজন মন্ত্রীর ছেলে একটি বেসরকারি বিনিয়োগ কোম্পানির সভাপতিত্ব করছেন।

সেই কোম্পানি বলছে যে তারা বাংলাদেশের দুটি বড় সরকারি অবকাঠামোর জন্য প্রায় ৩.৩-৩.৪ বিলিয়ন ডলার নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল (S&P Global)-এর তথ্যে প্রস্তাবিত জাপানি অংশীদারকে মাত্র আটজন কর্মীর একটি আবাসিক-নির্মাণ কোম্পানি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মন্ত্রীর ছেলে বলছেন যে তার কোম্পানি লেনদেনে সহায়তা করেছে এবং প্রকল্পগুলো কীভাবে এগোবে তা ব্যাখ্যা করতে বাংলাদেশের পিপিপি কর্তৃপক্ষের কথা উল্লেখ করেছেন।

তার নিজের কোম্পানিই প্রকাশ্যে বলছে যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ইতিমধ্যেই "নিশ্চিত করা" হয়েছে।

এই পরিস্থিতিগুলো কোনো দায়িত্বশীল লেখককে অপরাধী বলে রায় দেওয়ার অনুমতি দেয় না।

তবে এগুলো নাগরিকদের প্রমাণ দাবি করার অনুমতি দেয়।

নথিপত্রগুলো প্রকাশ করুন

সরকার, পিপিপি কর্তৃপক্ষ, মিয়াগাওয়া কেনসেটসু এবং স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল খুব সহজেই এই বিতর্কের অনেকটা সমাধান করতে পারে।

প্রপোজালটা প্রকাশ করুন। প্রকিউরমেন্ট রুট এবং এটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত আইনি কর্তৃত্ব প্রকাশ করুন। এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট (আগ্রহের প্রকাশ) এবং যদি কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র থেকে থাকে, তবে তা প্রকাশ করুন। মিয়াগাওয়া কেনসেটসুর কনসোর্টিয়াম সদস্য এবং বেনিফিশিয়াল ওনার (সুবিধাভোগী মালিকদের) পরিচয় প্রকাশ করুন।

কথিত ৩.৪ বিলিয়ন ডলার সরবরাহকারী ব্যাংক, তহবিল, এক্সপোর্ট-ক্রেডিট এজেন্সি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের চিহ্নিত করুন। অর্থায়নের প্রতিশ্রুতির প্রমাণ প্রকাশ করুন। প্রস্তাবিত ঋণ-ইক্যুইটি কাঠামোটি প্রকাশ করুন।

বাংলাদেশ সরকারের জন্য বিবেচিত প্রতিটি সার্বভৌম গ্যারান্টি, ন্যূনতম রাজস্বের প্রতিশ্রুতি, অ্যাভেইল্যাবিলিটি পেমেন্ট, ভায়াবিলিটি-গ্যাপ অবদান এবং চুক্তি বাতিলের বাধ্যবাধকতা প্রকাশ করুন। স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের এনগেজমেন্ট লেটার (চুক্তির চিঠি) এবং আর্থিক প্রতিদানের ব্যবস্থা প্রকাশ করুন।

কোনো মন্ত্রী, মন্ত্রীর উপদেষ্টা, রাজনৈতিক পদধারী বা সরকারি কর্মচারী স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল অথবা মিয়াগাওয়া কেনসেটসুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, সুপারিশ করেছেন, আলোচনা করেছেন বা অন্য কোনোভাবে সাহায্য করেছেন কিনা তা প্রকাশ করুন।

এবং এই লেনদেন সংক্রান্ত স্বার্থের সংঘাত বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তার ছেলেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে বলুন। যদি এটি সত্যিকার অর্থেই একটি নিরপেক্ষ এবং আইনি পিপিপি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুরক্ষিত ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের রূপান্তরমূলক বিদেশি বিনিয়োগ হয়ে থাকে, তবে স্বচ্ছতা এটিকে আরও শক্তিশালী করবে।

যদি এটি সেই স্বচ্ছতায় টিকে থাকতে না পারে, তবে বাংলাদেশের দুটি সেতু এবং সম্ভাব্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সরকারি অর্থনৈতিক ঝুঁকি এখানে চাপানো উচিত নয়। রাজনৈতিকভাবে যুক্ত ব্যক্তিরা যেখানে ব্যাংক, চুক্তি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিশেষ সুবিধা পেয়েছে, এবং বহুবছর বছর পর যখন জবাবদিহিতা এসেছে, ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। এমন একটি ব্যবস্থার জন্য দেশটি ইতিমধ্যেই চরম মূল্য চুকিয়েছে।

এর শিক্ষা এটা নয় যে প্রত্যেক রাজনীতিবিদের সন্তানের জন্য ব্যবসা করা নিষিদ্ধ। বরং শিক্ষা হওয়া উচিত ঠিক এর উল্টো: যে ব্যক্তি রাজনৈতিক ক্ষমতার যত কাছাকাছি অবস্থান করবেন, যখন তার ব্যক্তিগত ব্যবসা রাষ্ট্রের সাথে মিলিত হবে, তখন তার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার মানও তত বেশি হতে হবে।

বাংলাদেশের এমন আরেকটি ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই যেখানে নাগরিকদের বলা হয় ক্ষমতাশালীদের বিশ্বাস করতে। এমন একটি ব্যবস্থার প্রয়োজন যেখানে ক্ষমতাশালী বা ক্ষমতার সংযোগ আছে এমন ব্যক্তিদের প্রমাণ করতে হয় যে জনস্বার্থই সবার আগে ছিল। ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের বিজ্ঞাপিত কোনো লেনদেনের জন্য সেই প্রমাণ একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে আসা উচিত নয়। এটি আসা উচিত ক্রয় রেকর্ড, অর্থায়নের নথিপত্র এবং অর্থের উৎস-গন্তব্যের পথ ধরে।

লেখক: ড. নকিবুর রহমান