দুই ঘণ্টা ধরে গলাপানিতে দাঁড়িয়ে কচুরিপানা সরাচ্ছিলেন সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ। তাকে ঘিরে তখন খালের পানিতে নেমে পড়েছেন একের পর এক গ্রামবাসী। কেউ কচুরিপানা টেনে তুলছেন, কেউ তা পাড়ে তুলে দিচ্ছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের পঙ্গুয়াই খালে এমন দৃশ্যই দেখা যায়। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির আশায় স্থানীয় মানুষের সঙ্গে খাল পরিষ্কারের কাজে যুক্ত হন ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর- তারাকান্দা) আসনের এই সংসদ সদস্য।
এদিন বেলা ১১টার দিকে শুরু হওয়া পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। জনপ্রতিনিধিকে পানিতে নেমে কাজ করতে দেখে উৎসাহিত হন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে শতাধিক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার সঙ্গে কাজে যোগ দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এই খালটি তাদের কাছে শুধু একটি জলপথ নয়, বরং কৃষিজমি ও বসতবাড়িকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ডিমুর বিলের পানি পঙ্গুয়াই খাল দিয়ে কাকনী খালে গিয়ে দিয়ারা নদীতে পড়ত। কিন্তু কাকনী খালের মুখের একটি অংশে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পানিপ্রবাহ আটকে যাওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। প্রায় সাত-আট বছর ধরে স্বাভাবিকভাবে পানি নামতে না পারায় পঙ্গুয়াই খালের বড় অংশ কচুরিপানায় ঢেকে যায়।
পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়ে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায়। দুয়াই, বরুয়াই, তিলাটিয়া, পারতলা, দন্তা, তিতপুর, সুতিয়াপয়ারী, মাটিচাপুর ও কাকনী গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবার জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে পড়ে। বর্ষায় ফসলের মাঠ ডুবে থাকে, অনেক জায়গায় পানি উঠে যায় বসতভিটাতেও। বছরের পর বছর এভাবে চলায় কৃষিকাজেও ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে স্থানীয়দের।
পঙ্গুয়াই গ্রামের এনামুল হক বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে তাদের এলাকার শত শত একর জমি পানির নিচে পড়ে থাকত। আজ বুধবার খাল থেকে কচুরিপানা সরানোর পর আশপাশের পানি খালে নামতে শুরু করেছে। এতে তারা আশাবাদী, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ এবার হয়তো কমবে।
তবে স্থানীয় মানুষের চাওয়া আরও বড়। একই গ্রামের আশরাফুল ইসলাম বলেন, খাল পরিষ্কার করার পাশাপাশি এটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করা প্রয়োজন। তাহলে পানি নিষ্কাশনের পথ পুরোপুরি খুলে যাবে। তার দাবি, জলাবদ্ধতার সমস্যার কথা সংসদ সদস্যকে জানানোর পর তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। বুধবার নিজে খালে নেমে কাজ করায় এলাকাবাসীও উৎসাহ পেয়েছেন।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর- তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, একসময় গ্রামের কৃষি ও মৎস্য অর্থনীতির সঙ্গে খালগুলোর সরাসরি সম্পর্ক ছিল। খালগুলো সচল থাকলে পানি যেমন চলাচল করতে পারে, তেমনি কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিও গতিশীল থাকে। কিন্তু দখল, ভরাট ও কচুরিপানার কারণে অনেক খাল তাদের স্বাভাবিক চরিত্র হারিয়েছে। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের স্বেচ্ছাশ্রম কাজে লাগিয়ে এসব জলপথ পুনরায় সচল করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পানিপ্রবাহের মূল বাধা দূর করার বিষয়ে স্থানীয় মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আরও একটি ঘোষণা দেন। সংসদ সদস্য জানান, কাকনী খালের শেষ প্রান্তে ব্যক্তিমালিকানাধীন যে জমির কারণে বাধা তৈরি হয়েছে, সেটি প্রয়োজন হলে তিনি নিজেই কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নেবেন। এরপর পঙ্গুয়াই খাল কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে কাকনী বিলের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।