Image description
151
 

‘এখন পদ্মার জল অনেক কমে গেছে, বেশ স্বচ্ছ কৃশকায় হয়ে এসেছে, একটি পাণ্ডুবর্ণ ছিপছিপে মেয়ের মতো, নরম শাড়িটি গায়ের সঙ্গে বেশ সংলগ্ন। সুন্দর ভঙ্গিতে চলে যাচ্ছে আর শাড়িটি বেশ গায়ের গতির সঙ্গে সঙ্গে বেঁকে যাচ্ছে। আমি যখন শিলাইদহে বোটে থাকি, তখন পদ্মা আমার পক্ষে সত্যিকার একটি স্বতন্ত্র মানুষের মতো। অতএব তার কথা যদি কিছু বাহুল্য করে লিখি, তবে সে কথাগুলো চিঠিতে লেখবার অযোগ্য মনে করিস না। সেগুলো হচ্ছে এখানকার পারসোনাল খবরের মধ্যে।’ —ছিন্নপত্রাবলী

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবী চৌধুরানীকে লেখা চিঠিতে পদ্মার এই বর্ণনা তুলে ধরেছেন। শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথের জমিদারিও নেই, সেই পদ্মায়ও নেই। রবীন্দ্রনাথ শুকনো মৌসুমে পদ্মার এই রূপ বর্ণনা করেছেন। এখন পদ্মা শুধুই ধু-ধু বালুচর। বাংলাদেশের এই নদীটি শুধু তার রূপ-যৌবন হারায়নি; হারিয়েছে তার অনেকগুলো শাখা নদী। এই নদীর সংখ্যা হবে ৪৩টি। শুধু পদ্মা নয়, আমাদের দেশের পুরোনো মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখা যাবে জালের মতো বিছিয়ে আছে নদী। কিন্তু এখন বাস্তবে এ চিত্রের আর মিল মিলবে না।

কেন এই পদ্মা তার এই রূপ হারাল? কারণ এই নদীর ওপর দেওয়া হয়েছে একটি বাঁধ, যা ফারাক্কা বাঁধ নামে সবার কাছে পরিচিত। এটির অবস্থান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলায়, বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে। ভারত ১৯৬১ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু করে এবং ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে এটি চালু হয়। শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে এই বাঁধ চালু করা হলেও তা আর বন্ধ করা হয়নি। ভারতের মূল উদ্দেশ্য ছিল গঙ্গার পানির একটি বড় অংশ ফিডার ক্যানেলের মাধ্যমে ভাগীরথী-হুগলি নদীতে প্রবাহিত করা, যাতে কলকাতা বন্দরের পলি দূর হয় এবং বন্দরটি সচল থাকে। কিন্তু এর ভয়াবহ প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের ওপর।

গঙ্গা বা পদ্মা নদীর উৎস নেপালে হিমালয়ের পাদদেশে। ভারতের ভেতর দিয়ে বিস্তৃত হয়ে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়েছে। পশ্চিম বাংলার ফারাক্কার কাছে নদীটি দুভাগে বিভক্ত হয়েছে। মূল ধারা চলে এসেছে বাংলাদেশের দিকে। অপর ধারাটি দক্ষিণ দিকে কলকাতার কাছ দিয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। এই ধারাটির নাম ভাগীরথী বা হুগলি নদী।

গঙ্গার প্রধান ধারাটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং এর নাম হয় পদ্মা। এই পদ্মা হয়ে ওঠে এ দেশের মানুষের প্রাণের প্রতীক। কেন পদ্মা বাংলাদেশের মানুষের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিল্প, সাহিত্য, ভাষা, প্রকৃতি আর জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তা বোঝা যাবে এর গতিপথ থেকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার মোহনপুর নামক স্থান দিয়ে প্রবেশ করে রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুর জেলা অতিক্রম করে পদ্মা গোয়ালন্দের কাছে যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে ছিল পদ্মার প্রবাহধারা। বাংলাদেশের প্রবেশস্থল থেকে গোয়ালন্দ পর্যন্ত পদ্মা দুইশ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। এখান থেকে আরো একশ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে চাঁদপুরের কাছে মেঘনায় মিশেছে। এরপর পদ্মা-মেঘনার স্রোতধারা গিয়ে পড়েছে বঙ্গোপসাগরে।

কিন্তু প্রবহমান এই নদী হত্যার আয়োজন করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর মহকুমার অন্তর্গত রাজমহল ও ভগবানগোলার মাঝামাঝি ফারাক্কা নামক স্থানে। এখানে বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছে। বাঁধটির দৈর্ঘ্য ২ হাজার ২৪৫ মিটার। ব্যারাজের মধ্য দিয়ে পানি নিষ্কাশনের সর্বোচ্চ পরিমাণ প্রতি সেকেন্ডে ৭৬ হাজার ৪৬৬ ঘনমিটার। আর যে রেগুলেটরগুলো রয়েছে, সেগুলো দিয়ে পানি প্রবাহের পরিমাণ প্রতি সেকেন্ডে ১ হাজার ১৩৩ ঘনমিটার। ফারাক্কায় ফিডার ক্যানেলের দৈর্ঘ্য ৩৮ দশমিক ৩২ কিলোমিটার।

ভারত সরকার এ ব্যারাজ নির্মাণের কাজ যখন শুরু করে তখন থেকে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার এই ব্যারাজ নির্মাণের বিরোধিতা করে আপত্তি জানায়। কাজ শেষ হওয়ার পর পাকিস্তান সরকারের প্রবল বিরোধিতার কারণে ভারত ব্যারাজটি চালু করতে পারেনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে ৪১ দিনের জন্য চালুর কথা বলে ভারত এই বাঁধটি চালু করে। এর পর থেকে এই বাঁধটি বাংলাদেশের জন্য এক ভয়ংকর বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরপর রবীন্দ্রনাথের পদ্মা তার দেহাবশেষটিও হারিয়ে ফেলেছে।

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ফারাক্কার বিষয়টি নিয়ে আবার ভারতের ওপর নানাভাবে বাংলাদেশ চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। ১৯৭৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ফারাক্কা ইস্যুটি জাতিসংঘে উত্থাপন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘ আলোচনার জন্য সাধারণ পরিষদ অনুমোদন করে। বাংলাদেশ এ সময় জাতিসংঘ প্রদর্শনী কক্ষে ‘গঙ্গা ও গঙ্গা’ নামে একটা প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করে, যা সে সময় জাতিসংঘে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। এ পর্যায়ে ভারত বিভিন্ন জোট নিরপেক্ষ দেশের মধ্যস্থতায় সমঝোতা বিবৃতি দেয় এবং পরবর্তী সময়ে মন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়।

এ আলোচনার সূত্র ধরে ১৯৭৭ সালে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী বছরের সবচেয়ে কম প্রবাহের সময়কাল এপ্রিলের শেষ ১০ দিনে ফারাক্কায় প্রাপ্য মোট ৫৫ হাজার কিউসেক পানির মধ্যে বাংলাদেশ পাবে ৩৪ হাজার ৫০০ কিউসেক আর ভারত পাবে ২০ হাজার ৫০০ কিউসেক। কোনো কারণে যদি ফারাক্কা পয়েন্টে পানির পরিমাণ ৫৫ হাজার কিউসেকের কম হয়, তাহলে বাংলাদেশ তার প্রাপ্য অংশের ৮০ ভাগ অর্থাৎ ২৭ হাজার ৬০০ কিউসেক পানি পাবে।

এই চুক্তিতে গঙ্গা নদীর আন্তর্জাতিক চরিত্রকে ভারত স্বীকার করে নেয়। চুক্তিটি জাতিসংঘে অভিনন্দিত হয়। ১৯৭৭ সালের এই চুক্তির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে এরশাদের শাসনামল পর্যন্ত। এরপর ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। অপরদিকে ৭৭ সালের চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ পানিপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হতে থাকে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনে নেপালকে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবও করা হয়। কিন্তু এ ব্যাপারে ভারত আগ্রহ দেখায়নি। অবশেষে ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভাষণ দেন। ভাষণে বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে গুরুত্ব পায় ফারাক্কা প্রসঙ্গ।

জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ অধিবেশনে ১৯৯৫ সালের ২৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে ভাষণ দেন, সেই ভাষণেও তিনি বলেন, গঙ্গার পানির ওপর ভারতের একতরফা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে বাংলাদেশের চার কোটি মানুষ অবর্ণনীয় দুর্দশার সম্মুখীন। তিনি এ সংকট সমাধানে সহায়তা করার জন্য জাতিসংঘে সমবেত বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আবার গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ’৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেবে গৌড়া এবং শেখ হাসিনার মধ্যে একটি ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী ফারাক্কায় ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম পানি পেলে ৫০ শতাংশ হবে ভারতের এবং ৫০ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ। ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক পানি পেলে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাবে বাংলাদেশ, অবশিষ্টাংশ পাবে ভারত। ৭৫ হাজার কিউসেক বা তার বেশি পানি হলে ৪০ হাজার কিউসেক ভারতের, অবশিষ্টাংশ পাবে বাংলাদেশ। শর্ত থাকে, ১ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত সময়কাল ভারত ও বাংলাদেশ বিকল্প ১০ দিন করে তিন চক্রে নিশ্চিত ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাবে।

দুর্ভাগ্যজনক দিক হচ্ছে, এই চুক্তি স্বাক্ষরের পরের শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশ চুক্তিমাফিক পানি পায়নি। ২৫ বছর ধরে তার ধারাবাহিকতা চলে আসছে। এরপরও বাংলাদেশের মানুষ মন্দের ভালো হিসেবে এই চুক্তি মেনে নিয়েছে। ২৫ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ এ বছর ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি আবারও পর্যালোচনা ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনার নামে ঝুলিয়ে রাখা হবে। এছাড়া অবাস্তবায়নযোগ্য চুক্তির মাধ্যমে পানি সমস্যার কখনো সমাধান হবে না।

এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম বড় আকারের যে প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে, তা হলো পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। পদ্মা নদীর ওপর একটি ব্যারাজ বা বাঁধ নির্মাণের ভাবনার সূত্রপাত আজ থেকে প্রায় সাড়ে ছয় দশক আগে, পাকিস্তান আমলে। ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পাল্টা কৌশল এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নদী অববাহিকা রক্ষা করার উদ্দেশ্যে এই পরিকল্পনার জন্ম হয়েছিল।

তৎকালীন পাকিস্তান সরকার আশঙ্কা করেছিল, ফারাক্কায় পানি প্রত্যাহার করা হলে পূর্ব পাকিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হবে। এই সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় নিজস্ব ভূখণ্ডে পানি ধরে রাখার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ১৯৫৭-৫৮ সালের দিকে পদ্মার ওপর একটি ব্যারাজ নির্মাণের প্রাথমিক চিন্তাভাবনা শুরু হয়। ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের জন্য প্রথম সম্ভাব্যতা যাচাই বা কারিগরি সমীক্ষা পরিচালনা করে। সেই সময়ের পরিকল্পনায় মূল লক্ষ্য ছিল বর্ষাকালের উদ্বৃত্ত পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে (জানুয়ারি থেকে মে) তা গড়াই-মধুমতীসহ পদ্মার শাখা নদীগুলোয় প্রবাহিত করা। এর মাধ্যমে কুষ্টিয়া, যশোর ও ফরিদপুর অঞ্চলের কৃষিজমিকে সুরক্ষিত রাখা এবং গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পকে পুরোপুরি কার্যকর রাখার নকশা করা হয়েছিল।

এই প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে ভারতের দিক থেকে আপত্তি তোলা হয়। সর্বশেষ এবার আলোচনা থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় এ প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি টিমের মতামত অনুযায়ী ধাপে ধাপে এ প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ দেবে সরকার। প্রথম ধাপে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে ভারতের সঙ্গে আলোচনার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তার এই দৃঢ় অবস্থান মানুষের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি করেছে। ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে পদ্মা নদীতে প্রায় দুই হাজার ৯০০ মিলিয়ন বা ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে। সংরক্ষিত পানি দিয়ে পাঁচটি নদীর পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এগুলো হলো—হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী। শুষ্ক মৌসুমে এসব নদীতে প্রায় ৮০০ কিউসেক মিটার পানি সরবরাহ করা হবে। এতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে রাজবাড়ীর পাংশায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে।

পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে সংরক্ষিত পানি দিয়ে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শুষ্ক মৌসুমে এসব নদীতে প্রায় ৮০০ কিউসেক মিটার পানি সরবরাহ করা যাবে। বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের চাষযোগ্য প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে প্রয়োজনীয় সেচের পানি সরবরাহ করা যাবে। এছাড়া পদ্মা ব্যারাজ ও গড়াই অফটেক এলাকায় জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্র থেকে মোট ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

পানি বিশেষজ্ঞদের মত হচ্ছে, ক্রমবর্ধমান পানির সংকট, সুন্দরবন এলাকায় লবণাক্ততা ও পলি জমে জলাবদ্ধতার সমস্যা ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। তাই স্বাদু পানির সরবরাহ বাড়াতেই হবে। সেজন্য এ ব্যারাজ নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে দরকার হবে সরকারের দৃঢ় অবস্থান। ভারতের পানি আগ্রাসন নীতির কারণে নানাভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিরোধিতা আসবে। জনস্বার্থে নেওয়া সরকারের প্রথম এই বড় প্রকল্প কতটা দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকে মানুষ তাকিয়ে থাকবে।

 

লেখক : সহযোগী সম্পাদক, আমার দেশ