শ্রম, কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত সালেহ উদ্দিনের পরিবারের জীবিকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সরকার। তার ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া থেকে শুরু করে কর্মক্ষম সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।’
সোমবার (৯ মার্চ) বিকেল মৌলভীবাজারের বড়লেখার প্রবাসী সালেহ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলীর দাফন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া, মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের ডিজি ব্যারিস্টার সারোয়ার কামালসহ প্রশাসনের সর্বোচ্চ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সালেহ উদ্দিনের মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’
মন্ত্রী জানান, ওই পরিবারের এক ছেলে অসুস্থ এবং স্ত্রী প্রতিবন্ধী। ছেলের চিকিৎসা ও স্ত্রীর প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাসে যারা আছেন, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, আমরা সবাই বিষয়টি মনিটর করছি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ আমাদের সরকার সব সময় প্রবাসীদের পাশে থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এদিকে দাফন-কাফনের জন্য নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৮৫ হাজার টাকা, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা এবং বড়লেখা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকার অনুদানের চেক প্রদান করেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এর আগে সোমবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছায় সালেহের মরদেহ। মরদেহ গ্রহণ করতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।
পরে সোমবার সকালে আরেকটি ফ্লাইটে করে মরদেহ নেওয়া হয় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সকাল ১১টার দিকে সেখানে মরদেহ গ্রহণ করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মন্ত্রী নিজেই মরদেহ মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা গ্রামে পৌঁছে দেন।