লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে নতুন ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে এক প্রবাসীর নিকট এ চাঁদা দাবি করা হয়।
মামলার বাদী শাহাদাত পাটোয়ারী (৪৬) লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, আমলী অঞ্চল রামগঞ্জে সি.আর মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন, লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক এবং ইছাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সাগর হোসেন শুক্কুর (৩৬)। সাগর হোসেন শুক্কুর উপজেলার সোন্দড়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রামগঞ্জ উপজেলার উত্তর শ্রীরামপুর এলাকার বাসিন্দা শাহাদাত পাটোয়ারী তার পৈতৃক ভিটায় একটি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করলে অভিযুক্ত সাগর হোসেন শুক্কুর তার ও তার স্ত্রীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তি তার মোবাইল ফোন থেকে বাদীর নম্বরে কল করে পুনরায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন সাক্ষীর সামনে ফোনের লাউডস্পিকার চালু করে কথোপকথন শোনানো হয় এবং এর আংশিক রেকর্ড সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে বাদী দাবি করেন।
সৌদি আরব প্রবাসী শাহাদাত পাটোয়ারী বলেন, আমি প্রায় ২২ বছর ধরে সৌদি আরবের মদিনায় বসবাস করছি এবং মাঝে মধ্যে দেশে আসি। সম্প্রতি দেশে অবস্থানকালে সাগর হোসেন আমাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে এবং বাড়ির গেটেও এসে ছেলের কাছে আমার খোঁজ নেন। শনিবার (৭ মার্চ) ইফতারের পর সে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে এবং ৫ লাখ টাকা দাবি করে। শাহাদাত অভিযোগ করেন, তাকে আওয়ামী লীগের লোক বলে চাপ প্রয়োগ করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে অভিযুক্ত সাগর হোসেন শুক্কুর। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে কারী বাজারে আমার সাইকেল ও পার্টসের দোকান ছিল। তখন শাহাদাত পাটোয়ারী প্রভাব খাটিয়ে আমার দোকান ভাঙচুর করে এবং আমার ওপর হামলা চালায়। এতে আমি রামগঞ্জ বায়োপ্যাথ হাসপাতালে ২২ দিন চিকিৎসাধীন ছিলাম এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই। আমি তার কাছে কোনো ধরনের চাঁদা দাবি করিনি। আমাকে হয়রানি করতেই মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান মামলার আইনজীবী।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, যেহেতু বিষয়টি আদালতে মামলা আকারে দায়ের করা হয়েছে, তাই আদালত থেকে তদন্তের নির্দেশনা থানায় এলে তা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।