Image description

সুন্দরবনে অপহরণের প্রায় তিন সপ্তাহ পর জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বনদস্যুদের হাত থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১৪ জেলে।

বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে শেলার চরের শুঁটকি ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন মিঠুর পাঠানো এক অডিও বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দস্যুদের দাবি অনুযায়ী, প্রত্যেক জেলের বিনিময়ে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে হয়েছে। ফিরে আসা জেলেরা নারকেলবাড়িয়া ও শেলার চরের শুঁটকি ব্যবসায়ী মিজান মালি, শাহিনুর মালি, হাবিব ও রবি মহাজনের অধীনে কর্মরত ছিলেন।

অডিও বার্তায় আরও জানানো হয়, চার মহাজনের ১৪ জেলেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের প্রত্যেকের জন্য ৭০-৮০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দিতে হয়েছে।

জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে দুর্ধর্ষ বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনী পূর্ব সুন্দরবনের শেলার চর শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে একটি ট্রলারসহ ছয় জেলেকে অপহরণ করে। এরপর ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে আরও ২০ জেলেকে অপহরণ করে বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী।

শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্র দুবলার চরের বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় অপহৃত জেলেদের মহাজনদের বরাত দিয়ে বলেন, ‘দস্যুরা চাহিদামতো চাঁদা না পেলে যেকোনো সময় শুঁটকি পল্লীতে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে আরও জেলে অপহরণের হুমকি দিয়েছে। এ খবরে শুঁটকি উৎপাদনকারী চরগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।’

এদিকে, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হলেও পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় তেমন প্রভাব পড়েনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, কার্যকর অভিযান না থাকায় শরণখোলা রেঞ্জের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল দস্যুদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। জেলে অপহরণ ও মহাজনদের হুমকির ঘটনা অব্যাহত থাকায় দ্রুত শরণখোলা রেঞ্জে বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা।