১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার। এ উদ্যোগে ১২ লাখ ৮৫ হাজার কৃষক ঋণমুক্ত হতে পারেন। এতে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট ১৬টি ব্যাংক সুদসহ মোট প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা দাবি করেছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রকৃত দায় এর চেয়ে কম। চূড়ান্ত হিসাব নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংক নিরীক্ষা করবে। নিরীক্ষা শেষে ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় করা হবে। ঈদের আগেই কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার এ বিষয়ে এক বৈঠকে ব্যাংকগুলোকে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে চূড়ান্ত দাবি জমা দিতে বলা হয়েছে। নিরীক্ষায় প্রকৃত ঋণ ও সুদের হিসাব যাচাই করা হবে, যাতে অতিরিক্ত দাবি পরিশোধ না হয়।
যেসব কৃষকের মোট কৃষিঋণ ১০ হাজার টাকা বা তার কম, কেবল তারাই এ সুবিধার আওতায় আসবেন। শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে নেওয়া ঋণ এতে অন্তর্ভুক্ত। ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুদসহ বকেয়া ঋণ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ওই তারিখের পর সৃষ্ট সুদ কৃষকের কাছ থেকে আদায় করতে পারবে না ব্যাংকগুলো।
ঋণখেলাপি কৃষকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সার্টিফিকেট মামলাগুলোও প্রত্যাহার করা হবে। এসব মামলার কোর্ট ফি সরকার বহন করবে। কর্মকর্তারা বলছেন, এতে কৃষকের ওপর আইনি ও সামাজিক চাপ কমবে এবং তারা নতুন করে ব্যাংকঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সরকারের আশা, ঋণমুক্ত হয়ে কৃষকেরা উৎপাদনে মনোযোগ বাড়াতে পারবেন। এতে খাদ্যশস্য, মৎস্য ও পশুপালন খাতে উৎপাদন বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ছোট অপ্রদেয় ঋণের চাপও কমবে।
তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুধু ঋণ মওকুফ দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না। উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ না থাকলে মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব সীমিত থাকবে।