Image description

মাদারীপুরে চাঁদা না দেওয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে পেট্রোল দিয়ে আগুন, অর্ধশত বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ঘরে থাকা দুই লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে কালকিনি থানার ওসি সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার আলিনগর ইউনিয়নের কালিনগর এলাকার প্রবাসী সাইদুর রহমানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের গ্রামের প্রবাসী সাইদুল সরদারের ছেলে ফরিদ সরদারের কাছে দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন সাইফুল সরদার ও তাইজুল সরদার নামের দুই যুবক। এ সময় ফরিদ চাঁদা দিতে অস্বীকার জানালে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার দিকে ফাসিয়াতলা বাজারের অটোস্ট্যান্ডে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী ৭ ফেব্রুয়ারি কালকিনি থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

 

মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পেট্রোল দিয়ে প্রবাসীর ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য অর্ধশত বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে ঘরে ঢুকে তাদের আলমারিতে থাকা ২ লাখ নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। ভুক্তভোগী পরিবারের ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজনেরা ছুটে এসে আগুন নেভায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, তারা অনেক খারাপ লোক। মাঝে মাঝে আমাদের কাছে চাঁদা চাইতে আসে। ফরিদদের বাড়িতেও চাঁদা চাইতে আসছে। চাঁদা না দেওয়ায় ফরিদকে কুপিয়েছে। এখন বাড়ি-ঘরে আগুন দিয়ে বোমা নিক্ষেপ করেছে। আমরা এর বিচার চাই।

 

প্রবাসী সাইদুর রহমানের স্ত্রী ফাহিমা বেগম বলেন, আমরা নিরাপদে থাকতে চাই। তারা হুমকি-ধামকি দিচ্ছে আমার ছেলে ও আমাদের খুন করবে। প্রশাসন ও সরকারের কাছে নিরাপত্তা চাই।

প্রবাসীর ছেলে ফরিদ সরদার বলেন, আমরা প্রশাসন ও নিজ বাড়িও যেতে পারছি না। আমাদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমার বাবা বিদেশ থাকে, মা-বোনসহ আমরা বাড়িতে থাকি। চাঁদার জন্য আমাদের ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছে। ঘরে টাকা ছিল তা নিয়ে গেছে। স্বাধীন দেশে যদি আমরা স্বাধীনভাবে থাকতে না পারি তাহলে আমরা কোথায় যাব।

তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিচার চাই। এর আগে চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে তারা কুপিয়ে জখম করেছে। থানায় জানানোর কারণে আমাদের ঘরে আগুন দিয়েছে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সরকারের কাছে আমরা সঠিক বিচার এবং নিরাপত্তা চাই।

এদিকে অভিযুক্ত সাইফুল সরদারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

কালকিনি থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।