অতি ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলা সাংবাদিক মানেই সে ফ্যাক্ট এর উপর থাকতে পারে না। রিপোর্টিং বলেন, ফেসবুকিং বলেন আর ইতিহাস চর্চা বলেন, সব জায়গায়ই তার লাগে প্রচুর গল্প, বানোয়াট গল্প।
এখানে দেখেন উনি কোন পাড়ার সাংবাদিক না। বিদেশি মিডিয়াতে কাজ করেছেন অনেক দিন। তার ফেসবুক পোস্টে বানোয়াট গল্প নিয়ে হাজির হয়েছেন।
লিখেছেন, “এই খুনী উৎখাত হয়েছিল একদল ছাত্রের হাতে। তারপর তারা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বুঝে নিল এবং নিজেরাই খুনী হয়ে উঠলো। তাদের অনুসারীরা খুঁজে খুঁজে হত্যা করলো রাষ্ট্রের পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের - উম্মত্তের মত পেটালো, কোপালো, পোড়ালো, খুন করে লাশ ঝুলিয়ে রাখলো। দিনের পর দিন তারা এই কাজ করে বেড়ালো - অথচ রাষ্ট্রের মালিক তখন তারা।”
মানে উনি বলতে চাচ্ছেন, ১. পুলিশ বাহিনীর সদস্যদেরকে ছাত্ররা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বুঝে নেয়ার পর হত্যা করেছে। এবং ২. এই হত্যাকাণ্ডগুলো ছিল পরিকল্পিত বা খুঁজে খুঁজে বের করে খুনের ঘটনা। ৩. দিনের পর দিন (মানে অনেক দিন ধরে) এই হত্যাকাণ্ড চালালো ছাত্ররা!
অথচ দেখুন বাস্তবতা প্রথম আলোর রিপোর্টে। এটি পুলিশের নিজের দেয়া নিহত পুলিশের লিস্ট। সেখানে ৪৪ জনের মধ্যে ৪৩ জন পুলিশ সদস্য খুন হয়েছেন ৫ আগস্ট এবং তার আগের দিনগুলিতে। অর্থাৎ, হাসিনা ক্ষমতায় থাকাবস্থায় এবং পালানোর ওই মুহূর্তটায়।
১ জন যেই পুলিশ সদস্য মারা গেছেন খলিলুর রহমান নামে, তিনি আহত হয়েছিল ৫ আগস্টের আগে। হাসপাতালে চিকিতসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৪ আগস্ট।
ছাত্রদের নেতৃত্বের সরকার দায়িত্ব নিয়েছে ৮ আগস্ট সন্ধ্যায়।
অর্থাৎ, আহরার হোসেনের তিনটি দাবিই অসত্য।
ছাত্ররা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বুঝে নেয়ার পর একটা পুলিশও হত্যার শিকার হয়নি।

এই হত্যাকাণ্ডগুলো পরিকল্পিত ছিল না, কারণ হাসিনা থাকাবস্থায় ৮০০ এর বেশি মানুষ খুনরত অবস্থায় পাল্টা আক্রমণে ৪৪ পুলিশ নিহত হয়েছেন।
এবং যে কয়দিন ধরে হাসিনার নির্দেশে পুলিশ মানুষ মেরেছে এই কয়দিনের বাইরে পাল্টা হামলায় কোন পুলিশ মারা যায়নি। ফলে দিনের পর দিন খুঁজে খুঁজে পুলিশ মারার এই বয়ানটি ভুয়া তথ্যের ওপর দাঁড় করানো হচ্ছে।
আবার দেখুন এই ভুয়া বয়ানের সাথে যুক্ত করেছে একটি এআই জেনারেটেড ছবি, যেখানে দেখাচ্ছে বড় বড় রামদা নিয়ে আন্দোলনকারীরা পুলিশকে ধাওয়া করছে। আচ্ছা, আমাকে এরকম একটা পুলিশকে অনেকগুলো রামদাওয়ালা ছেলের ধাওয়া করার এক পিস ছবি দেখান যা জুলাই আগস্টের?