Image description

ইনহেলার বা স্প্রে ব্যবহার করা হয় মূলত অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের কারণে। এই স্প্রের বোতলের মধ্যে থাকে তরল রাসায়নিক ও অক্সিজেন। ইনহেলার বা স্প্রে ব্যবহারে শ্বাসকষ্ট দূর হয়। শ্বাসরুদ্ধ জায়গাটি প্রশস্ত হয়। এতে আক্রান্ত ব্যক্তি আরাম বোধ করেন। শ্বাস চলাচলে তার তেমন কষ্ট থাকে না। রোজা অবস্থায় শ্বাসকষ্ট হলে ইনহেলার নেওয়া যাবে। তবে ইনহেলার নিলে রোজা ভাঙবে কি না, এ বিষয়ে আলেমদের দুটি মত রয়েছে।

 

একদল আলেমের মতে, শ্বাসকষ্ট উপশমকারী ইনহেলার বা স্প্রে নিলে রোজা ভেঙে যাবে। স্প্রে করার সময় ওষুধটি গ্যাসের মতো দেখালেও বাস্তবিক পক্ষে এটি দেহবিশিষ্ট তরল ওষুধ। তাই রোজা অবস্থায় কেউ ইনহেলার ব্যবহার করলে পরে রোজার কাজা আদায় করতে হবে।

 

মুফতি মুহাম্মাদ তকি উসমানি এবং ড. ওয়াহবা জুহায়লি বলেন, স্প্রের উপাদান পাকস্থলী পর্যন্ত পৌঁছে যায়, ফলে স্প্রে নিলে রোজা ভেঙে যাবে। তবে কোনো ব্যক্তির শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তার জন্য রোজা ভেঙে চিকিৎসা নেওয়া বৈধ। সুতরাং রোজা অবস্থায় শ্বাসকষ্ট হলে ইনহেলার নেওয়া যাবে। তবে এ কারণে রোজা ভেঙে যাবে এবং পরে কাজা আদায় করতে হবে। (হেদায়া, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১২০)

 

মৃত্যু থেকে বাঁচতেও যদি কেউ কিছু খেয়ে ফেলে, তাহলেও তার রোজা ভেঙে যাবে। তা ইনহেলার অতি প্রয়োজনে ব্যবহার করলেও রোজা ভেঙে যাবে। আর রোজা ভেঙে গেলে তার কাজা আদায় করা আবশ্যক। (ফতোয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত ৫/৪৫৯)

 

দ্বিতীয় মতটি হলো, বিশেষ প্রয়োজনে ইনহেলার বা স্প্রে ব্যবহার করলে রোজা ভাঙবে না। তারা বলেন, স্প্রের খুব সামান্য অংশ পাকস্থলী পর্যন্ত পৌঁছে। কুলি বা নাকি পানি দেওয়ার সময় খুব সামান্য পরিমাণ পানি ভেতরে গেলে যেমন রোজা ভাঙে না, তেমনি স্প্রের এই সামান্য অংশের কারণেও রোজা ভাঙবে না।

 

শায়খ উসামইমিন (রহ.) বলেন, ‘এই ইনহেলার বাষ্প দেয়, এটি পাকস্থলীতে পৌঁছে না। তাই রোজা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার করতে কোনো অসুবিধে নেই। এতে রোজা ভাঙবে না।’ (ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, পৃষ্ঠা: ৪৭৫)

 

 

সৌদি আরবের স্থায়ী কমিটির আলেমরা বলেন, ‘হাঁপানির ওষুধ বা রোগী শ্বাসনালি দিয়ে টেনে নিঃশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে নিয়ে যান, পাকস্থলীতে নয়। এটি পানাহার নয়, পানাহারের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণও নয়। তাই ইনহেলার নিলে রোজা ভাঙবে না।’ (ফাতাওয়া ইসলামিয়া, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৩০)

 

রোজা ঠিক রেখে ইনহেলার নেওয়ার ভালো একটি পদ্ধতি হলো, মুখে স্প্রে করবে, কিন্তু স্প্রে গিলবে না। থুথু দিয়ে ফেলে দেবে, তাহলে রোজা ভাঙবে না। এতে শ্বাসকষ্ট থেকে রেহাইও পাওয়া যাবে, রোজাও আদায় হয়ে যাবে। কোনো কোনো চিকিৎসক বলেন, সাহরিতে এক ডোজ ইনহেলার নিলে সাধারণত ইফতার পর্যন্ত আর ইনহেলার নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তাই এভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এভাবে করলে রোজা রাখা সহজ হবে।