গাজীপুরের টঙ্গীতে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ব্যবসায়ীরা। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টঙ্গীর পাগাড় ঝিনু মার্কেট এলাকায় স্থানীয় আয়োজনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্যসচিব নাজমুল হোসেন মন্ডল, স্থানীয় শাহ সাহেব বাড়ির সদস্য ও তরিকত পরিষদের কেন্দ্রীয় প্রথম প্রেসিডিয়াম সদস্য পাহুলবি হায়দার রয়েলসহ স্থানীয় লোকজন।
স্থানীয়রা জানায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্থানীয় সাফি হাসান রিয়ান ও তার বন্ধুরা খবর পায় যে ঝিনু মার্কেট এলাকায় একটি দোকানে নকল পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন কারখানার পরিচয়পত্র বানানো হয়।
ওই ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় আহতদের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়। পরদিন রবিবার আহতরা পুনরায় ঘটনাস্থলে গেলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে প্রতিপক্ষের ফিরোজ মিয়া (২৭), শামীম হোসেন (২৪), শাহাদাত হোসেন (২৭), আব্দুল মালেক (৫৫) ও তার ছেলে মাহিম (১৫) এবং পাশের দোকানদার ইমরানের কর্মচারী মো. রোহানসহ (২০) রবিউল, নয়ন ও সাফি আহত হয়।
এ ঘটনায় থানায় এজাহার হলে পুলিশ সোমবার রাতে মো. রবিউল ইসলাম (৩৫), নয়ন ইসলাম রাজ (৩২) ও সাফি হাসান রিয়ানকে (৩৪) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। এদের মধ্যে রবিউল ও নয়ন টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের কর্মী এবং সাফি টঙ্গী পূর্ব থানা মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে একাধিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়।
গ্রেপ্তার সাফি হাসান রিয়ানের বড় বোন রিতু আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, আমার ভাই ধানের শীষের লোক। একটি দোকানে নির্বাচনের কার্ড বানানোর কাজ হয়েছিল শোনে তার ভাই প্রতিবাদ করতে যায়। এসময় তার ভাইসহ তিনজনকে গণধোলাই দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
এ বিষয়ে আব্দুল মালেক কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি নকল কোনো কার্ড বানাননি। আসামিরা কেন তার দোকানে হামলা ও লুটপাট করেছে তার কারণ তিনি জানেন না।
রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ২৩ সালের সিটি নির্বাচনে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী আজমিরি খান টুটুলের নির্বাচন করেছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে তিনি ধানের শীষের পক্ষে ছিলেন বলে দাবি করেন।
টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্যসচিব নাজমুল হোসেন মন্ডল বলেন, ‘আসামিরা কেউ যুবদলের নয়, আমরা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। দলীয় অবস্থান জানাতে মানববন্ধনে গিয়েছিলাম।’
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।