কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ‘এ’ ইউনিটে ১৬ হাজার ২৮৪তম পজিশনে থাকা এক শিক্ষার্থী মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সাবজেক্ট পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গত ২২ তারিখ রাতে প্রথম মেধা তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ‘এ’ ইউনিটে ১৬ হাজার ২৮৪তম অবস্থানে থাকা এক শিক্ষার্থীসহ মোট ৪ জন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় সাবজেক্ট পেয়েছেন। কলা ও মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদের ‘বি’ ইউনিটে ১২ জন এবং বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ‘সি’ ইউনিটে ৯ জন শিক্ষার্থী মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সাবজেক্ট পেয়েছেন। তাদের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ‘এ’ ইউনিটে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৮ শতাংশ। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭ হাজার ২০৩ জন। কলা ও মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান এবং আইন অনুষদের অন্তর্ভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় পাশের হার ৫৪.৭৬ শতাংশ। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৯৮ জন। বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষায় পাশের হার ৬৪.৩৩ শতাংশ। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ হাজার ৬৪৮ জন।
ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ ছিল, শুধু মুক্তিযোদ্ধার সন্তান (এফএফকিউ) কোটায় ভর্তির সুযোগ থাকবে; সেখানে নাতি-নাতনির কথা উল্লেখ নেই। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য—এই তিন ইউনিটে কোটা ব্যতীত মোট আসন ৮৯০টি এবং বিভিন্ন কোটায় অতিরিক্ত ১০৭টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটা ৪৫টি, টিআরকিউ ১১টি, এনটিকিউ ৭টি, শারীরিক প্রতিবন্ধী ৬টি, পোষ্য কোটা ১৯টি (প্রতি বিভাগে সর্বোচ্চ ১ জন) এবং খেলোয়াড় কোটা ১৯টি (প্রতি বিভাগে সর্বোচ্চ ১ জন)।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের নাঈম ভূঁইয়া বলেন, ‘এই যুগে এসেও মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বিতীয় প্রজন্মের জন্য কোটা রাখা অত্যন্ত অযৌক্তিক। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য আলাদা কোটা থাকারও যৌক্তিকতা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি এই অপ্রয়োজনীয় কোটাগুলো বাতিল করা হোক।’
মুক্তিযোদ্ধের এত বছর পরও তাদের সন্তানরা কীভাবে কোটার মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়? এ বিষয়ে জানতে চাইলে 'এ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘যদি সন্তান থেকে থাকে তাহলে কিছু বলার আছে? এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন৷ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য সরকারের যে প্রজ্ঞাপন আছে সেই অনুযায়ী ভর্তি করানো হবে। নাতিপুতির জন্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, যদি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়ে থাকে এবং উপযুক্ত হয় তাহলে তো আমাদের কিছু করার নাই। সে যদি মুক্তিযোদ্ধা হয় এবং তার যদি দুই-তিনটা ওয়াইফ থাকে তাহলে কিছু করার আছে? সন্তানের বাহিরে নাতিপুতি হচ্ছে কি না সেটা দেখতে হবে। সেই অনুযায়ী তার পজিশন বিশ হাজার হয় তাহলে তো আমাদের কিছু করার নাই।
এ বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘এখানে শুধু মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য কোটা রাখা হয়েছে। অনেকেই আবেদনের সময় ভুল করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নির্বাচন করেন। আমরা সে অনুযায়ী সাবজেক্ট তালিকা প্রকাশ করেছি। সাক্ষাৎকারে এসে যদি কেউ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের আওতায় না পড়ে, তবে তার ভর্তি বাতিল করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, সাক্ষাৎকারে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে কোটা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।