Image description

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটককৃতদের একটি ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, ঢাকা কলেজ থেকে শিবিরের চার কর্মীকে মাদকসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এরকম দাবি সম্বলিত পোস্ট দেখুন এখানেএখানে এবং এখানে

কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটি সত্য নয়। আটককৃতরা শিবির কর্মী নয়। এছাড়াও তাদের মাদকসহ নয় বরং চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক করা হয়েছিলো।

ভিডিওটি থেকে কী-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে ঘটনাটি সম্পর্কে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। 

গত ৬ জানুয়ারি ‘চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ঢাকা কলেজের ৪ শিক্ষার্থী’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “রাজধানীর লালবাগ থানাধীন আজিমপুর ইডেন মহিলা কলেজের ১নং গেটের সামনে থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে ঢাকা কলেজের চার শিক্ষার্থীকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।” 

আটককৃতরা হলেন—রুদ্র রহমান, মো. বাইজিদ, মাসুদ রানা ও আবির হোসেন। 

প্রতিবেদনটিতে আটককৃতদের ‘ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং কোথাও তারা ‘শিবির কর্মী’ বলে উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়াও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনেও তাদেরকে শুধু ‘ঢাকা কলেজের ছাত্র’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

তবে আটক মাসুদ রানাকে ছাত্রদলকর্মী বলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকা মেইলের প্রতিবেদনে আটক মাসুদ রানাকে 'ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুর আমিনের ঘনিষ্ঠ সহচর' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও ফেস দ্য পিপলের প্রতিবেদনে আটকৃতদের ‘ছাত্রদল কর্মী’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনগুলোর দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া রুদ্র রহমানের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তাকে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং পক্ষে পোস্ট  করতে দেখা গেছে।

অর্থাৎ, ঢাকা কলেজ থেকে শিবিরের চার কর্মীকে মাদকসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ — দাবিটি সত্য নয়, তারা বরং ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী।