Image description

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন চাঁদপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও  ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ২০০১-২০০৬ সালে খালেদা জিয়ার সরকারে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এহসানুল হক মিলন নকল, প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালান। হেলিকপ্টারে করে পরীক্ষা কেন্দ্রে অভিযান, নকলকারীদের ধরা, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা—এসব কারণে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। পরিচিতি পান ‘নকলের যম’ ও ‘নকল বন্ধের কারিগর’ হিসেবে। সে সময় তার এই পদক্ষেপের কারণে তখনকার বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় পাশের হারও কমে গিয়েছিল অনেক। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পাবলিক পরীক্ষায় নকল বিরোধী অতীত তৎপরতার কারণেই ড. মিলনকে ঘিরে শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষার নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে। জানিয়েছেন নিজের কর্মপরিকল্পনা, দিয়েছেন শিক্ষার্থীদের পরামর্শও। তাঁর সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সিনিয়র রিপোর্টার মো. শিহাব উদ্দিন। নিচে সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশটুকু তুলে ধরা হলো—

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: বর্তমানে শিক্ষা খাতে কোন বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জিং মনে করছেন?
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন: দেশের শিক্ষা খাতে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ একে একে মোকাবিলা করা হবে। তবে সর্বপ্রথম চ্যালেঞ্জ হলো—আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যেগুলো আছে, তা বাস্তবায়ন করা। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে, সেটিও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর বাইরে কারিকুলাম বাস্তবায়ন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ করা, প্রশাসনিক জট কমানো—সব মিলিয়ে শিক্ষা খাতে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমরা প্রতিদিন বসে কাজ করছি। যেগুলো চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে আসছে, সেগুলো একে একে অ্যাড্রেস করছি।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: বর্তমানে দুই মন্ত্রণালয় একীভূত হয়ে কাজ করছে। যদিও আগে দুই মন্ত্রণালয়ের জন্য পৃথক দুইজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন: আগে আলাদা মন্ত্রী ও কাঠামোর কারণে অনেক নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এখন দুই মন্ত্রণালয় একীভূত হওয়ায় সমন্বিতভাবে কাজ করা সহজ হচ্ছে। অতীতে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এবং মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ থাকলেও দ্বৈত মন্ত্রণালয়ের কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গতি আনতে ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ৭২ ঘণ্টার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রী অনুপস্থিত থাকলে প্রতিমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ডিসিশন মেকিং এক্সপিডাইট করা যায়। আমরা একই জায়গা থেকে কাজ করছি—এটা বড় ইতিবাচক পরিবর্তন। 

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: বর্তমান শিক্ষানীতি ২০১০ সালের। এটি অনেক পুরোনো বলে অভিমত। শিক্ষানীতি পরিবর্তন করবেন কি না?
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন: শিক্ষানীতি পরিবর্তন কথাটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পরিবর্তনের বদলে রিভিউ, আপডেট, আপগ্রেড—আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রিফর্ম করতে হবে।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না?
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন: আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো ঘাটতি নেই, ঘাটতি মন্ত্রণালয়ের, অভিভাবকদের। তাদের যথাযথভাবে দিকনির্দেশনা দেওয়া যায়নি। আমাদের শিক্ষার্থীরা অনেক স্মার্ট, তারাই সবকিছু পরিবর্তন করেছে। তাদের ব্রেন বিভিন্ন বিষয় শেখার জন্য উন্মুক্ত। তবে আমরা তাদের প্রোপারলি গাইড করতে পারিনি। আমরা যারা লিড করছি, ডিরেকশন দিচ্ছি, রাষ্ট্র পরিচালনা করছি ঘাটতি তাদের। শিক্ষার্থীদের কোনো ঘাটতি নেই।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: পাবলিক পরীক্ষায় গ্রামাঞ্চল ও শহরাঞ্চলের ফলাফলের পার্থক্য ব্যাপক। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা গণিত এবং ইংরেজিতে খারাপ করে। এর কারণ কী বলে মনে করেন?
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন: শহরে অভিভাবকদের শিক্ষার্থীদের বিষয়ে মনিটরিং বেশি থাকে। গ্রামে তদারকি কম এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারিও দুর্বল ছিল। লাস্ট গভর্নমেন্ট লেখাপড়াকে গুরুত্ব দেয়নি। গ্রামাঞ্চলে অভিভাবকদের কন্ট্রোল কম ছিল, স্টেটও রিল্যাক্স ছিল—এই কারণে ফল খারাপ হয়েছে।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ডিগ্রি চালুর উদ্যোগকে কীভাবে দেখছেন?
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন: পিএইচডি এমন একটি ডিগ্রি, যেটা অবশ্যই যাচাইযোগ্য হতে হবে। অথচ দেশে এমন অনেক পিএইচডি ডিগ্রি ব্যবহৃত হচ্ছে, যেগুলোর সঠিক একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি নেই। দেশে দেওয়া পিএইচডি ডিগ্রিগুলো প্রকৃত ও স্বীকৃত কিনা—তা যাচাই করা প্রয়োজন।

কোন বিশ্ববিদ্যালয় পিএইচডি দিয়েছে, সেই বিশ্ববিদ্যালয় আদৌ স্বীকৃত কিনা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন রয়েছে কিনা এসব বিষয় পর্যালোচনা করা দরকার। প্রয়োজনে এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করে পিএইচডি ডিগ্রির তালিকা তৈরি ও যাচাই করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, পিএইচডি শব্দের অপব্যবহার বন্ধ করা না গেলে উচ্চশিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবিলা করবেন? আগামী এক বছরে আপনার কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাই।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন: ডেডিকেশন, অনেস্টি আর ননস্টপ কাজ—এটাই আমার শক্তি। আমার সপ্তাহ আট দিনে, বছরে ৩৬০ দিন এবং ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে প্রস্তুত আছি। কাজের মাধ্যমেই চ্যালেঞ্জগুলো উৎরাতে চাই।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনার মেসেজ কী? 
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন: জীবনে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই। নিজের যুদ্ধ নিজেকেই করতে হবে। লেখাপড়ায় ফিরে আসতে হবে, সময় দিতে হবে। নৈতিক শিক্ষা, আদর্শ ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিতে হবে।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার না বলা কথা শুনতে চাই
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন: আমার না বলা কথা হলো- আমি সবার কথাগুলো শুনতে চাই। শুনে সে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে চাই।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার সময়ের জন্য ধন্যবাদ
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকেও ধন্যবাদ।