নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ক্রীড়াঙ্গনের অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ। তাকে নিয়ে প্রত্যাশাও তাই অনেক বেশি। তিন সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান, ফারুক আহমেদ ও মোহাম্মদ আশরাফুল এ নিয়ে কথা বলেছেন-
আমিনুলকে আমি খুবই পছন্দ করি। তাকে নিয়ে আমি আশাবাদী। একটু পেছনে ফিরতে চাই, যখন পুলিশ প্রথম তাকে হাতকড়া পরিয়েছিল। তখন আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। বলেছিলাম, একজন খেলোয়াড়ের হাতে হাতকড়া কেন? যোগ্য নেতা হিসাবেই তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। আশা করি, বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা আরও বেশি করে এ ধরনের দায়িত্বে আসবেন। খেলোয়াড়দের মানসিকতা ইতিবাচক হয়। তাদের মধ্যে দুর্নীতির প্রবণতাও তুলনামূলক কম। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসাবে আমিনুল খুবই ভালো পছন্দ। আস্থা থাকলেই শুধু এমন দায়িত্ব পাওয়া সম্ভব। ক্রীড়াঙ্গন থেকে আরও দু-একজন দায়িত্ব পেলে ভালো হতো।
ক্রীড়াবিদরা প্রশাসনে এলে এবং তাদের টেকনিক্যাল জ্ঞান থাকলে ভালো কাজ করা সম্ভব। আমি আমিনুলকে শুরু থেকে চিনি। তিনি দীর্ঘদিন মোহামেডানে খেলেছেন। বাংলাদেশের হয়ে সাফ জিতেছেন। উপমহাদেশের অন্যতম সেরা গোলকিপার ছিলেন। তার সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে। তবে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকবে। প্রত্যাশাও কম নয়।
আমি দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে বলব। প্রথমত, কোন কোন খেলাকে আমরা অগ্রাধিকার দেব, তা ঠিক করতে হবে। দ্বিতীয়ত, দক্ষ সংগঠক তৈরি করতে হবে। আমাদের প্রতিবেশী ভারত এত বড় দেশ হয়েও কয়েকটি নির্দিষ্ট খেলায় বেশি জোর দেয়। তারা জানে, ফুটবলে বিশ্বকাপ জেতা বা আয়োজন করা তাদের পক্ষে কঠিন। তাই তারা ক্রিকেট, হকি এবং অন্যান্য খেলায় বেশি গুরুত্ব দিয়ে সফলতা পাচ্ছে। আমাদেরও ভাবতে হবে, কোন খেলায় সাফল্য পাওয়া সম্ভব। তার একটি তালিকা তৈরি করতে হবে। ক্রিকেট বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। একই সঙ্গে শুটিং, আরচারি এবং দাবায় আমাদের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। এসব খেলাকে আলাদাভাবে যত্ন নিতে হবে। চাইলেই দেশে দু’শ মাঠ তৈরি করা যাবে না; কিন্তু খেলাধুলার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দক্ষ সংগঠক তৈরি করা, যারা খেলাধুলা সম্পর্কে ভালো জানেন এবং যাদের কোনো নেতিবাচক অতীত নেই, শিল্পপতি বা ক্রীড়ামোদীদের সংগঠক হিসাবে তাদের সামনে আনা যেতে পারে। তাদের সম্মান দিতে হবে। বর্তমানে অনেক ক্রীড়াবিদ শিল্পপতি হয়েছেন। তাদের আবার খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে এই জায়গা আরও গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়নও জরুরি। আশা করি, আমিনুল এই কাজগুলো সফলভাবে করতে পারবেন।
ফারুক আহমেদ
আমিনুল হকের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়া নিঃসন্দেহে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য আনন্দের খবর। আমরা যারা খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম বা আছি, তাদের কাছে এটি বিশেষ ভালো লাগার বিষয়। কারণ ক্রীড়াবিদদের চেয়ে এই অঙ্গনের বাস্তব সমস্যা, সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা আর কেউ এত গভীরভাবে বোঝেন না। আমরা বিশ্বাস করি, তার অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ ও মাঠের বাস্তব জ্ঞান ক্রীড়াকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহায়ক
হবে। দেশের খেলাধুলায় যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগানোর সক্ষমতা তার আছে। একজন প্রকৃত ক্রীড়াবিদ হিসাবে তিনি ফুটবলে দেশের অন্যতম সেরা গোলকিপার ছিলেন, জাতীয় দলের অধিনায়কত্বও করেছেন-যা তার নেতৃত্বের যোগ্যতার প্রমাণ। সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, সেগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করে তিনি ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন, এটাই আমাদের আশা।
মোহাম্মদ আশরাফুল
গত ১৭ বছরে প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নতি হয়নি। আমাদের টেস্ট ভেন্যুও কমে গেছে। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম, ফতুল্লা স্টেডিয়াম ও খুলনা স্টেডিয়াম টেস্ট ভেন্যু হলেও এখন সেখানে খেলা হয় না। মাঠগুলো প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা সবাই আমিনুল ভাই সম্পর্কে জানি। তিনি অধিনায়ক ছিলেন। ক্যারিয়ারে অনেক সাফল্য অর্জন করেছেন। রাজনীতির মাঠেও লড়াই করেছেন, জেল খেটেছেন। সহজে তিনি এই জায়গায় আসেননি। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এই অবস্থানে পৌঁছেছেন।
আমার বিশ্বাস, এখানে খুব বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন না। তিনি জানেন, ক্রিকেট মাঠের জন্য কত জায়গা লাগে কিংবা ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য কী ধরনের অবকাঠামো প্রয়োজন। কীভাবে কাজ করতে হবে, সেই সম্পর্কেও তার পরিষ্কার ধারণা রয়েছে। আর যখন নতুন প্রধানমন্ত্রীই ক্রীড়া খাতে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলেছেন, তখন বিষয়টি আরও ইতিবাচক হয়েছে। নতুন সম্ভাবনায় আমিও আশাবাদী।