Image description
 

আমিনুল হক, ২০১৩ সালে বর্ণাঢ্য খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টেনে নাম লেখান বাংলাদেশের প্রধানতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপিতে। কিন্তু ফুটবলার থেকে রাজনীতিবিদ আমিনুল হককে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হামলা-মামলার ধকল পোহাতে হয়েছে তাঁকে। কারাবন্দী হতে হয়েছে একাধিকবার। তবে আনুগত্য ও বিশ্বাসের কারণে দ্রুতই দলের সাংগঠনিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক তিনি। বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে মনোনয়ন পান আমিনুল হক। তবে মনোনয়ন প্রাপ্তির অনেক আগে থেকেই পল্লবী ও রূপনগর থানা এলাকার অলিগলি চষে বেড়ান তিনি। প্রতিশ্রুতি দেন একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক দেশ গড়ার।

কিন্তু রাজনীতির ময়দানে ভোটের লড়াইয়ে সাফল্যের হাসি হাসতে পারলেন না আমিনুল হক। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মাত্র ২ হাজার ৬১৬ ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন বিজয়ী হয়েছেন। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট। ধানের শীষের আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।

বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের ইতিহাসে তাঁর পরিচিতি ‘গোলবারের অতন্দ্র প্রহরী’ নামে। লাল-সবুজের জার্সিতে ১৯৯৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত খেলেছেন ৪৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ২৩ বছর আগে ২০০৩ সালে মালদ্বীপের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গৌরবময় মুহূর্ত। ৭ বছর পর ২০১০ সালে সাউথ এশিয়ান গেমসে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের স্বর্ণপদক জয়েও ছিল তাঁর অবদান। সবুজ মাঠে গোলপোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামাল দিয়েছেন। আগুনের গোলার মতো শটগুলো পাখির মতো উড়াল দিয়ে ঠেকিয়েছেন আমিনুল হক। ঘরের ফুটবলে আবাহনী, মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র এবং শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব—খ্যাতনামা সব দলেরই ছিলেন তিনি।

আমিনুল হকের মতো তারকা খ্যাতি না থাকলেও নিজের পেশাগত জীবনে খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানে গুরুদায়িত্বে ছিলেন কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন। সাবেক অধ্যক্ষ ছিলেন ঢাকায় শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ ও রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের।

ভোটের দামামা বাজার পর মিরপুরের পল্লবী-রূপনগর এলাকায়ও ছুটে বেড়িয়েছেন আব্দুল বাতেন। ভোটের ময়দানে নেমে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সত্য, ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের।