অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে ভোটপ্রদানের মাধ্যমে দেশের কোটি মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চায় শরিক হয়েছে।
সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক অধিকার না থাকায় পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে দেশের সাধারণ মানুষ ছিল ভোটকেন্দ্র বিমুখ। তবে এবারের নির্বাচনে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন নিয়ে তাদের মাঝে দেখা গেছে উচ্ছ্বাস আর আগ্রহ।
বিদেশী গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে গতকাল। এরই মধ্যে বেসরকারিভাবে প্রায় সবগুলো আসনের ফলাফল প্রকাশের দ্বারপ্রান্তে। তবে সরকারিভাবে এখনো ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি।
এবারের নির্বাচন ও গণভোটের সাথে নিজের পূর্বের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে, ‘বাংলাদেশের নির্বাচনি হাওয়াটা এবার আলাদাই মনে হচ্ছে। পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলের চেয়ে এবারের নির্বাচনি পরিবেশ একেবারেই ভিন্ন’ বলে মন্তব্য করেছেন বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সংবাদদাতা যোগিতা লিমায়ে।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় আমি বাংলাদেশে ছিলাম। তখন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় ছিলেন। তখনকার (নির্বাচনী) পরিবেশ এখনকার থেকে একেবারেই ভিন্ন ছিল। ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর সময় দেখেছিলাম, ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট, প্রচারসামগ্রী ও পোস্টার প্রায় একটিমাত্র দল- শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের। একধরনের সীমাবদ্ধ পরিবেশ ছিল। আমরা যখন মানুষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করতাম, তারা খোলাখুলি কথা বলতে ভয় পেতেন।
এবারের নির্বাচনে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে যোগিতা লিমায়ে আরও বলেন, আমরা যেসব ভোটারের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের অনেকের মধ্যেই স্পষ্ট উত্তেজনা ও প্রত্যাশা রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোস্টার চোখে পড়ছে।
তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় ভোটটি সত্যিই অবাধ ও সুষ্ঠু কি না, সে প্রশ্নে একটি ছায়া ফেলেছে।
বিবিসির অন্য এক রিপোর্টে বলা হয়, নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ ঘাঁটি গোপালগঞ্জের ভোটকেন্দ্রগুলোয় ভোটার উপস্থিতি খুবই কম ছিল।
জার্মানিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে ‘বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে ইসলামপন্থিদের প্রভাব বাড়ছে’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে । এতে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্য যে কোনো নির্বাচনের মতো নয়। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোট করে একটি ইসলামপন্থি দল শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো ইসলামপন্থি শক্তিগুলো তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী নির্বাচনী উপস্থিতি দেখাতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। এটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশার নতুন রূপ তৈরি করছে।
এদিকে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে লাইভ আপডেট দিচ্ছে ভারতের একাধিক গণমাধ্যম। এদের মধ্যে এনডিটিভি, দ্য হিন্দু উল্লেখযোগ্য। এনডিটিভির এক খবরে বলা হয়, সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে । অতীতের এক বিস্ময়কর রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করে জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান এতে অংশ নিয়েছেন বলে জানায় তারা।
‘বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু’ শিরোনামে লাইভ আপডেট দিচ্ছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু। এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের জন্য অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, এসব কেন্দ্রের ৯০ শতাংশে সিসিটিভি নজরদারি থাকবে। ঢাকায় মোতায়েন থাকা অনেক পুলিশ সদস্য বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেলে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে ‘অগ্রাধিকার’ দেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সেই সঙ্গে নয়াদিল্লি সফরের ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। সাক্ষাৎকারে তিনি আরও, বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা সমান এবং এখানে সংখ্যালঘু বলে কোনো কিছু নেই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। আমরা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই এবং এটাকে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি।