জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন বা গণভোট ইস্যুতে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে কার্যক্রম পরিচালনাসংক্রান্ত আইনগত ও বিধিগত বিষয় পরিষ্কার করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের ব্যাখ্যা চেয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গণভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দল, সাধারণ ভোটার ও ইসির মধ্যে যেন কোনো তাৎক্ষণিক সংকট বা বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার ও ইসির নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া বিষয়গুলো হলো—গণভোটের পক্ষে প্রচার কত সময় পর্যন্ত চালানো যাবে বা কখন তা বন্ধ করতে হবে, ভোটগ্রহণের দিন ভোটারদের গণভোটের পক্ষে উদ্বুদ্ধ করতে বা জনমত গড়ে তুলতে আলাদা নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপন করা যাবে কি না এবং গণভোটের পক্ষে পৃথক পোলিং এজেন্ট নিয়োগের সুযোগ রয়েছে কি না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আমার দেশকে জানান, ভোটের আগে, ভোটগ্রহণের দিন এবং ভোটের পর গণভোটসংক্রান্ত করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে কমিশনের দিকনির্দেশনা চেয়েছে সরকার। নির্বাচন কমিশন আইন ও বিধিমালার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা সরবরাহ করা হয়েছে।
অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ আমার দেশকে বলেন, গণভোট নিয়ে কোন কোন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে, তা সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলা সম্ভব নয়। প্রয়োজনে কমিশন থেকে জানা যেতে পারে।
ইসি সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজের দপ্তর থেকে ভোটের আগে ও পরে গণভোটসংক্রান্ত কার্যক্রমের আইনগত ব্যাখ্যা জানতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তার একান্ত সচিব সহায়ক কর্মকর্তা হিসেবে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেন। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের এক সপ্তাহ আগে এ যোগাযোগ হয়।
কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারের চাহিদা অনুযায়ী গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা সরবরাহ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। সে অনুযায়ী আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিটের পর কোনো ধরনের প্রচার চালানো যাবে না। গণভোটের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে।
ইসি আরো জানায়, ভোটগ্রহণের দিন কমিশনের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো বুথ বা নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপন করা হয় না। গণভোটের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে না। তবে সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গণভোটের পক্ষে প্রচার বুথ স্থাপন করতে চাইলে তাতে আপত্তি নেই। তবে এক্ষেত্রে নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো সরকারি কর্মকর্তা সহায়তা করতে পারবেন না।
পোলিং এজেন্ট প্রসঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা যে এজেন্ট নিয়োগ দেন, তারাই গণভোট কার্যক্রমেও সহায়তা করতে পারবেন। গণভোটের জন্য আলাদা করে এজেন্ট নিয়োগের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে গত ২৯ জানুয়ারি ইসি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যার অনুলিপি সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৮৬ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি জনগণকে গণভোটের বিষয়ে সচেতন করতে পারবেন। তবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে সরাসরি প্রচার বা আহ্বান জানাতে পারবেন না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।