গুমের সময় জমটুপি পরানোর সময় দায়িত্বরত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মখছুরুল হককে দেখেছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাক্ষ্যে দাবি করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াতের সাবেক আমির প্রয়াত গোলাম আযমের ছেলে আমান আযমী ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম-নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলায় প্রসিকিউশনের তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন। তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ কাল সোমবার ফের তিনি সাক্ষ্য দেবেন।
২০১৬ সালের ২৪ আগস্টের রাতে ৫০ থেকে ৬০ জন লোক মগবাজারের বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায়। বাসা থেকে নামিয়ে মাইক্রোতে তোলার সময় জমটুপি পরানো হয়। তিনি বলেন, ‘যখন জমটুপি পরায়, তখন চোখের বাঁধন সামান্য নেমে যায়। এতে আমি বাইরের আলো সামান্য দেখতে পাচ্ছিলাম।
তুলে নিয়ে যাওয়ার আগে অপহরণকারীরা এলাকার সব সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে এবং সিসি ক্যামেরার রেকর্ড নিয়ে যায় উল্লেখ করে সাক্ষ্যে আযমী বলেন, পুরো এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা হয়েছিল। বাসা থেকে তুলে নিয়ে ডিজিএফআইয়ের কমপ্লেক্সে নিয়ে গাড়ি থেকে নামানো হয়। এক পর্যায়ে একটি সেলে ঢুকিয়ে হাতকড়া ও চোখের বাঁধন খুলে দেন তারা।
এ মামলার মোট আসামি ১৩ জন। সাক্ষ্য গ্রহণের আগে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
পলাতক ১০ আসামি হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর এ মামলায় ১৩ আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।