Image description

ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, দলের সাংগঠনিক শক্তি ও ঐক্য দলীয় প্রচার-প্রচারণা, আর আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক। 

অন্যদিকে, আসনটিতে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অব) ডা. জেহাদ খান সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের শ্যালক। ছয়বারের সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নুর সঙ্গেও তার রয়েছে পারিবারিক বন্ধন। আলোচনা রয়েছে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি চুন্নুর সমর্থকদের সহানুভূতি পেতে পারেন ডা. জেহাদ।

 

এ আসনে সাতজন প্রার্থী থাকলেও এই দুজনের মধ্যেই নির্বাচনী লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দুই দলের প্রচারণার কৌশলও ভিন্ন। বিএনপি সাড়ম্বরে সভা-সমাবেশ করে ভোট চাইছে। তবে জামায়াতের প্রচারণা অনেকটা নীরবে।

তারা ভোটারদের ঘরে ঘরে যাচ্ছেন। দলটির নারী কর্মীদের সক্রিয়তাও চোখে পড়ার মতো। ভোট আদায়ের কৌশলে কোন প্রার্থী এগিয়ে-তা বোঝা না গেলেও এ দুই প্রার্থীর মধ্যে যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে-এটা প্রায় নিশ্চিত।

 

জানা গেছে, বহু বছর ধরে আওয়ামী লীগের সমর্থনে আসনটি জাতীয় পার্টির প্রভাববলয়ের মধ্যে ছিল।

দলটির নেতা মুজিবুল হক চুন্নু টানা ছয়বার এখান থেকে সংসদ সদস্য হয়েছেন। তবে এবার আইনি জটিলতায় তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় ভোটের হিসাব অনেকটা জটিল। জাতীয় পার্টি থেকে আবু বকর সিদ্দিক প্রার্থী হলেও মাঠে সক্রিয় নন তিনি।

 

অন্যদিকে, কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান পেশায় একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। গত ছয় মাস ধরে তিনি এলাকায় সক্রিয়ভাবে গণসংযোগ করছেন।

বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এতে এলাকায় তার ‘যথেষ্ট’ গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য চুন্নুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন জামায়াত প্রার্থী জেহাদ খান। এ কারণে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির একটি অংশের নীরব ভোট তার বাক্সে যেতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ জোটভুক্ত দলগুলোও তার পক্ষে মাঠে কাজ করছে।

জয়ের ব্যাপারে কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান আশাবাদী। তিনি বলেন, মানুষ এবার পরিবর্তন চাইছে। জোটের শক্তি ও সাধারণ মানুষের সমর্থন মিলিয়ে আমার অবস্থান প্রতিদিন শক্তিশালী হচ্ছে। আমরা প্রত্যেক ঘরে ঘরে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

ড. এম ওসমান ফারুকও থেমে নেই। জোরেশোরে প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। তাঁর পথসভাগুলো অনেক জায়গায় জনসভায় রূপ নিচ্ছে। মনোনয়ন নিয়ে দলের ভেতর যে বিভক্তি ছিল, তা এখন অনেকটাই কেটে গেছে।

বিশেষ করে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে তাঁকে সমর্থন দেওয়ায় দলীয় ঐক্য দৃশ্যমান হয়েছে।

ড. ওসমান ফারুক বলেন, মানুষ যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবে এটা নিশ্চিত। জয়ের ব্যাপারে আমি খুবই আশাবাদী। সভা-সমাবেশে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি আমাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। নির্বাচিত হলে কর্মসংস্থানসহ এলাকার উন্নয়ন আমার অগ্রাধিকারে থাকবে।

এদিকে, গত বুধবার ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভোটের হিসাব-নিকেশ আবার কিছুটা জটিল হয়ে গেছে। চুন্নুর ঘনিষ্ট ও জাতীয় পার্টির গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবিতে রয়েছেন- এমন আটজন চেয়ারম্যান ওসমান ফারুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার দুপুরে করিমগঞ্জের গুজাদিয়া এলাকায় অবস্থিত তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁরা ফুল দিয়ে সাক্ষাৎ করেন। এই জনপ্রতিনিধিরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বলে প্রথমে শোনা যায়। পরে তাড়াইল বিএনপি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, এটি কোনো যোগদান নয়, সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। 

তবে এই প্রভাবশালী চেয়ারম্যানরা ওসমান ফারুকের পক্ষে নির্বাচনে কাজ করবেন বলে জানা গেছে। তাড়াইল উপজেলা পরিষদের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা জাপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া শাহীনের নেতৃত্বে ইউপি চেয়ারম্যানরা সেখানে যান। তাঁদের মধ্যে একজন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানও রয়েছেন। 

জানা গেছে, ব্যক্তি মুজিবুল হক চুন্নু ও জাতীয় পার্টির যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে তাড়াইল উপজেলায়। তাঁর গ্রামের বাড়িও তাড়াইলে। একটি সূত্র জানিয়েছে, চুন্নুর ইশারা বা পরামর্শেই চেয়ারম্যানরা দলবল নিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে। এই মুহূর্তে তিনি হয়তো  পারিবারিকভাবে ঘনিষ্ট জামায়াত প্রার্থী ডা. জেহাদ খানের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বাস্তবতাকে।

স্থানীয়রা বলছে, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির যে ভোটব্যাংক রয়েছে, সেই ভোট যে প্রার্থী নিজের পক্ষে নিতে পারবেন শেষ পর্যন্ত জয় তাঁর ঘরেই যাবে। 

এ আসনে এ দুই প্রার্থীসহ মোট সাতজন প্রার্থী নির্বাচন করছেন। অন্যরা হলেন এ কে এম আলমগীর (স্বতন্ত্র), দিলোয়ার হোসাইন ভূঁইয়া (গণতন্ত্রী পার্টি), মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি), মো. আবু বকর ছিদ্দিক (জাতীয় পার্টি) ও মো. আলমগীর হোসাইন ( ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)।