Image description
 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

 

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি দোয়া করবেন। পাশাপাশি সাক্ষাৎ করবেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। তখন আবু সাঈদ হত্যার বিচার চাইবে আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা। 

 

আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেন বলেন, আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের পতন ঘটে। আর সেই পরিবর্তনের কারণেই দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মাটিতে পা রাখতে পেরেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আমি আশা করেছিলাম যে, আমার ছেলে লেখাপড়া করে চাকরি করবে, তা দেখে মরে যাব। তা তো হল না। এখন ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেনো মরে যেতে পারি। এই বিচার যেন কার্যকর হয় এমন দাবি রাখব তারেক রহমানের কাছে। তিনি সরকার গঠন করলে ফ্যাসিবাদকে দেশে এনে যেনো বিচার কার্য সম্পাদন করেন। আমার বিচার ছাড়া আর কিছু চাওয়ার নাই।

 

আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বলেন, আজও আমি ছেলের স্বপ্ন দেখি। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের যেনো বিচার হয়। তাদের যেনো ফাঁসি হয়। আমার ছেলে শহীদ হবার পরে তো তারেক রহমান দেশে আসতে পারছে। আল্লাহ তাকে নিয়ে আসছে। তাই ছেলের বিচার যেনো সঠিকভাবে হয় এটাই আমার চাওয়া।

আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন বলেন, তারেক রহমান দীর্ঘদিন পরে দেশে আসছেন। তিনি ভাইয়ের কবর জিয়ারতের জন্য এখানে আসবেন। আমাদের প্রত্যাশা তিনি যদি ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে যেনো বৈষষম্যহীন বাংলাদেশ, ন্যায় নীতির বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদ পরিবার যেনো ন্যায় বিচার পায়। যারা আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তাদেরকে যেনো ফাঁসি দেওয়া হয়। এছাড়াও যারা পরোক্ষভাবে জড়িত তাদেরকে যেনো উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হয়। যারা জুলাই অভ্যুত্থানে আহত হয়েছে তাদের চিন্তা যেনো সবার আগে করে। এছাড়াও পীরগঞ্জে আবু সাঈদের নামে মেডিকেল কলেজসহ পীরগঞ্জের উন্নয়নের কথা তার কাছে দাবি রাখবো। 

 

তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে আবেগআপ্লুত শহীদ আবু সাঈদের পরিবার। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে নিজের সন্তানের সমাধিস্থল পরিষ্কার করত দেখা গেছে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনকে। 

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা বিএনপি ক্ষমতায় এলে জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদসহ সকল শহীদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করবে। বিচারিক রায় কার্যকর করার পাশাপাশি রংপুরের এই অবহেলিত জনপদে পীরগঞ্জে কর্মসংস্থান ও টেকসই উন্নয়নে কাজ করবে তারেক রহমান। যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিল শহীদরা সেই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ যেন হয়। 

পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বাড়তি আগ্রহ ও সাড়া পড়েছে বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।