ইসলামী সংস্কৃতিতে যেসব দিবস ও রজনী বিখ্যাত, এর মধ্যে শবেবরাত অন্যতম। প্রতি বছর হিজরি বর্ষের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি ‘শবেবরাত’ হিসেবে পালন হয়। হাদিস শরিফে একে ‘নিসফ শাবান’ বা শাবান মাসের মধ্যরাত বলা হয়েছে।
মহিমান্বিত এই রজনী ঘিরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ৫টি ভুল ধারণা চিহ্নিত করে বিশ্লেষণ জানিয়েছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।
ইসলামি গবেষণা পত্রিকা মাসিক আল কাউসারে প্রকাশিত তার এই বিশ্লেষণটি কালবেলার পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।
আল কাউসারের বিভিন্ন সংখ্যায় শাবান ও শবেবরাত সম্পর্কে অনেকগুলো প্রয়োজনীয় কথা পাঠকের সামনে এসে গেছে। ওয়াল হামদু লিল্লাহি তায়ালা আলা জালিকা হামদান কাছিরা। এ সংখ্যায় শুধু কিছু ভুল ধারণা চিহ্নিত করে দিতে চাই। কেননা এগুলো সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন এসে থাকে।
প্রশ্ন ১ : আমি এক কিতাবে পড়েছি যে, শবেবরাতবিষয়ক সকল হাদিস ‘মওজু’। ইবনে দিহয়ার উদ্ধৃতিতে কথাটা ওই কিতাবে লেখা হয়েছে।
উত্তর : এটা একটা ভুল কথা। ইবনে দিহয়া কখনো এমন কথা বলতে পারেন না। যিনি তার উদ্ধৃতিতে এ কথা লিখেছেন তিনি ভুল লিখেছেন। ইবনে দিহয়া শুধু এটুকু বলেছেন যে, শবে বরাতে বিশেষ নিয়মের নামায এবং সে নামাযের বিশেষ ফযীলতের যে কথাগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত, তা মওযু। তাঁর মূল আরবী বক্তব্য তুলে দিচ্ছি : أحاديث صلاة البراءة موضوعة
অর্থ : শবেবরাতের বিশেষ নামায সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো মওজু। (তাজকিরাতুল মওজুআত, মুহাম্মাদ তাহের পাটনী : পৃ. ৪৫)
আল্লামা লাখনৌবী (রাহ.) ‘আল আছারুল মারফুআ ফিল আখবারিল মওজুআ’ (পৃ. ৮০-৮৫)তে পরিষ্কার লিখেছেন যে, ‘শবে বরাতে রাত্রি জেগে ইবাদত করা এবং যেকোনো নফল আমল যাতে আগ্রহ বোধ হয় তা আদায় করা মুস্তাহাব। এ বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই। এ রাতে মানুষ যত রাকাআত ইচ্ছা নামাজ পড়তে পারে, তবে এ ধারণা ভুল যে, এ রাতের বিশেষ নামাজ রয়েছে এবং তার বিশেষ পদ্ধতি রয়েছে। যেসব বর্ণনায় এ ধরনের কথা পাওয়া যায় সেগুলো ‘মওজু’। তবে এ রাত একটি ফজিলতপূর্ণ রজনী এবং এ রজনীতে ইবাদত-বন্দেগী করা মুস্তাহাব-এ বিষয়টি সহিহ হাদিস থেকেও প্রমাণিত। মোটকথা, এ রাতের ফজিলতকে অস্বীকার করা যেমন ভুল তদ্রূপ মনগড়া কথাবার্তায় বিশ্বাসী হওয়াও ভুল।’ আল্লামা শাওকানীও ‘আল ফাওয়াইদুল মাজমূআ’ পৃ. ৫১-তে এই ভুল ধারণা সংশোধন করেছেন।
প্রশ্ন ২ : একজন আলিমের কাছে শুনেছি যে, শবে বরাতে কবরস্থানে যাওয়া ‘মাসনূন’ নয়। আর আজকাল যেভাবে এ রাতে কবরস্থানে মেলা বসানো হয় এবং মহিলারাও বেপর্দা হয়ে সেখানে গিয়ে ভিড় করে, তা তো একেবারেই নাজায়েজ।
প্রশ্ন এই যে, যতটুকু নাজায়েজ তা তো অবশ্যই নাজায়েজ, কিন্তু যদি মহিলারা বেপর্দা না হয় এবং কোনো গুনাহর কাজও সেখানে না হয় তবুও কি এ রাতে কবর যিয়ারত মাসনূন বলা যাবে না? হাকিমুল উম্মত ‘ইসলাহুর রুছূম’ কিতাবে একে ‘মাসনূন’ লিখেছেন।
উত্তর : মহিলাদের জন্য জিয়ারতের উদ্দেশে কবরস্থানে যাওয়া এমনিতেও নিষেধ। এরপর যদি পর্দাহীনতা ও অন্যান্য আপত্তিকর বিষয় এর সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে তা আরও কঠিন হয়ে যায়। আর কবরস্থান যদি নিকটবর্তী হয় এবং মাজার না হয়, সেখানে শরিয়তের দৃষ্টিতে আপত্তিকর কাজকর্ম না হয়, তাহলে পুরুষের জন্য এ রাতে সেখানে গিয়ে জিয়ারত করার বিধান কী? হাকীমুল উম্মত রাহ. প্রথমে একে মাসনূন লিখেছিলেন। পরে আরো চিন্তা-ভাবনা ও উলামায়ে কেরামের সঙ্গে মত বিনিময় করার পর ওই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেন এবং লেখেন যে, আমি কবরস্থানে যাওয়া থেকে বারণ করাকেই অধিক সতর্কতার বিষয় মনে করি। (ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/২৮)
শরীয়তের নীতিমালার আলোকে হযরত থানভী রাহ-এর দ্বিতীয় মতই অগ্রগণ্য।
প্রশ্ন ৩ : সুনানে ইবনে মাজাহতে (হাদিস নং : ১৩৮৮) পনেরো শাবান রাত সম্পর্কে এই হাসিসটি উল্লেখ হয়েছে : قوموا ليلها وصوموا نهارها
অর্থ : এই রাত জেগে ইবাদত কর এবং দিনে (অর্থাৎ পনেরো শাবান) রোজা রাখো।
এই হাদিসটি থানভী রাহ. ‘খুতবাতুল আহকাম’-এ উল্লেখ করেছেন এবং ‘ইসলাহুর রুসূম’-এ পনেরো শাবান-এর রোজাকে মাসনূন বলেছেন। কিন্তু এক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন যে, শায়খ আলবানী এই হাদিসটিকে মওজু বলেছেন। এরপর হজরত মাওলানা মুহাম্মদ তকী উছমানী ছাহেব দামাত বারাকাতুহুম-এর ‘ইসলাহি খুতবাত’-এ দেখলাম যে, সেখানে এই হাদিসটিকে ‘জয়িফ’ লেখা হয়েছে এবং এই রোজাকে ‘সুন্নত’ মনে করা ভুল বলা হয়েছে। প্রকৃত বিষয়টি বুঝে আসছে না। আশা করি সাহায্য করবেন।
উত্তর : ইবনে মাজাহর উল্লিখিত হাদিসটি ‘মওজু’ তো কখনোই নয়। তবে সনদের দিক থেকে ‘জয়িফ’। যেহেতু ফাজাইলের ক্ষেত্রে ‘জয়িফ’ গ্রহণযোগ্য, তাই আলেমগণ শবে বরাতের ফজিলতের ব্যাপারে এ হাদিস বয়ান করে থাকেন।
শায়খ আলবানী ‘সিলসিলাতুজ জয়িফা’ (৫/১৫৪) তে এই বর্ণনাকে ‘মওজূউস সনদ’ লিখেছেন। অর্থাৎ এর ‘সনদ’ মওজূ। যেহেতু অন্যান্য ‘সহিহ’ বর্ণনা উপরিউক্ত বর্ণনার বক্তব্যকে সমর্থন করে, সম্ভবত এজন্যই শায়খ আলবানী সরাসরি ‘মওজূ’ না বলে ‘মওজূউস সনদ’ বলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। তথাপি শায়খ আলবানীর এই ধারণা ঠিক নয়। সঠিক কথা এই যে, এই বর্ণনা ‘মওজূ’ নয়, শুধু ‘জয়িফ’। ইবনে রজব (রাহ.) প্রমুখ বিশেষজ্ঞদের এই মতই আলবানী সাহেব নিজেও বর্ণনা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে আলবানী সাহেব যে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন তা এই যে, এ বর্ণনার সনদে ‘ইবনে আবী ছাবুরা’ নামক একজন রাবী রয়েছেন। তার সম্পর্কে হাদিস জাল করার অভিযোগ রয়েছে। অতএব এই বর্ণনা ‘মওজু’ হওয়া উচিত। তবে এই ধারণা এ জন্য সঠিক নয় যে, ইবনে আবী সাবুরাহ সম্পর্কে উপরিউক্ত অভিযোগ ঠিক নয়। তার সম্পর্কে খুব বেশি হলে এটুকু বলা যায় যে, জয়িফ রাবিদের মতো তার স্মৃতিশক্তিতে দুর্বলতা ছিল। রিজাল শাস্ত্রের ইমাম আল্লামা জাহাবি (রাহ.) পরিষ্কার লিখেছেন যে, ‘স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণেই তাকে জফিফ বলা হয়েছে।’ (দেখুন সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৭/২৫০)
সারকথা এই যে, উপরিউক্ত বর্ণনা মওজু নয়, শুধু জয়িফ।
পনেরো শাবানের রোজা সম্পর্কে থানভী (রাহ.) যে ‘মাসনূন’ বলেছেন, তার অর্থ হলো মুস্তাহাব। আর ইসলাহি খুতবাতের আলোচনা মনোযোগ দিয়ে পড়া হলে দেখা যায় যে, তা এ কথার বিপরীত নয়। ওই আলোচনায় ‘জয়িফ’ হাদিসের ওপর আমল করার পন্থা বিষয়ে একটি ইলমি আলোচনা উপস্থাপিত হয়েছে। হজরত মাওলানা পনেরো তারিখের রোজা রাখতে নিষেধ করেননি। তিনি শুধু এটুকু বলেছেন যে, একে শবে বরাতের রোজা বলবে না। গোটা শাবান মাসেই শুধু শেষের দুই দিন ছাড়া, রোজা রাখা মুস্তাহাব। তাছাড়া প্রতিমাসের ‘আয়্যামে বীজ’ (চাঁদের ১৩,১৪,১৫ তারিখ) রোজা রাখা মুস্তাহাব। এ দৃষ্টিকোণ থেকে এ দিনের রোজা রাখা হলে ইনশাআল্লাহ ছওয়াব পাওয়া যাবে।
প্রশ্ন ৪ : আমি একটি পুস্তিকায় পড়েছি যে, শবে বরাত সম্পর্কে যেসব রেওয়ায়েত পাওয়া যায় তন্মধ্যে সনদের বিবেচনায় সবচেয়ে উত্তম রেওয়ায়েতটিই হলো ‘জয়িফ।’ তাহলে অন্যগুলোর অবস্থা খুব সহজেই অনুমেয়। এ কথা কি সঠিক?
উত্তর : এ কথাটা একেবারেই ভুল। শবে বরাত সম্পর্কে বেশ কয়েকটি হাদিস এসেছে। তার মধ্যে একটি হাদিস ‘সহীহ’, কিছু হাদিস ‘হাসান’ আর কিছু ‘জয়িফ’। এ জন্য শবে বরাতের ফজিলত বিষয়ক সকল হাদিস জয়িফ- একথা ঠিক নয়। সনদের বিচারে সবচেয়ে উত্তম বর্ণনা সেটা, যা ইবনে হিববান ‘কিতাবুস সহিহ’-তে (হাদিস ৫৬৬৫) বর্ণনা করেছেন।
عن معاذ بن جبل عن النبي صلى الله عليه وسلم قال : يطلع الله إلى خلقه في ليلة النصف من شعبان، فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مشاحن.
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ‘অর্ধ শাবানের রাতে আল্লাহ সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। অতপর শিরককারী ও বিদ্বেষপোষণকারী ছাড়া তার সমগ্র সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন।’
আরও একাধিক হাদিসে এ বিষয়টি এসেছে। যেগুলোর সনদ ‘হাসান লিযাতিহী বা হাসান লিগায়রিহী।’ যথা মুসনাদে আহমদ এর ৬৬৪২ নং হাদিস এবং মুসনাদুল বাজজার (২০৪৫)-এ আবু বকর সিদ্দীক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস। এছাড়া এ রাতের আমল সম্পর্কে ‘শুআবুল ঈমান’ বায়হাকীর নিম্নোক্ত হাদীসটি লক্ষণীয়।
হজরত আলা ইবনুল হারিছ (রাহ.) থেকে বর্ণিত, হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নামাজে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সেজদা করেন যে, আমার ধারণা হলো তিনি হয়তো মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করলেন তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা, অথবা বলেছেন, ও হুমায়রা, তোমার কি এই আশংকা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসুল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না, ইয়া রাসুলুল্লাহ। আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার আশংকা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কি না। নবীজি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জানো এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন ইরশাদ করলেন-
هذه ليلة النصف من شعبان، إن الله عز وجل يطلع على عباده في ليلة النصف من شعبان، فيغفر للمستغفرين ويرحم المسترحمين ويؤخر أهل الحقد كما هم.
‘এটা হলো অর্ধ-শাবানের রাত (শাবানের চৌদ্দ তারিখের দিবাগত রাত।) আল্লাহ তায়ালা অর্ধ-শাবানের রাতে তাঁর বান্দার প্রতি মনোযোগ দেন এবং ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহপ্রার্থীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।’ (শুআবুল ঈমান, বায়হাকি : ৩/৩৮২-৩৮৩
ইমাম বাইহাকি (রাহ.) এই হাদিসটি বর্ণনার পর এর সনদের ব্যাপারে বলেছেন, هذا مرسل جيد
এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, এ রাতে দীর্ঘ নফল নামাজ পড়া, যাতে সেজদাও দীর্ঘ হবে, শরিয়তের দৃষ্টিতে কাম্য। এধরনের বেশ কয়েকটি সহিহ ও হাসান হাদিস বিদ্যমান থাকা অবস্থায় কি এ কথা বলা উচিত যে, এ বিষয়ে সর্বোত্তম হাদিসটি সনদের বিচারে জয়িফ? ভালোভাবে না জেনে কথা বলা থেকে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে নিরাপদ রাখুন।
প্রশ্ন ৫ : লোকেরা বলে, এ রাতের ফজিলত শবে কদরের সমান। কোরআন মাজিদে ‘লায়লাতিন মুবারাকা’ বলে শবে বরাত বোঝানো হয়েছে। এ কথাটা কি সঠিক?
উত্তর : দুটো কথাই ভুল। শবে বরাতকে শবে কদরের সমান মনে করা ভুল। কোরআন-হাদিসে শবে কদরের যত ফজিলত এসেছে শবে বরাত সম্পর্কে আসেনি। বিশেষত কোরআন মাজিদ নাজিল হওয়ার মতো বরকতময় ঘটনা শবে কদরেই সংঘটিত হয়েছে। এই ফজিলত অন্য কোনো রজনীতে নেই। ‘লায়লাতিন মুবারাকা’ বলে শবে কদরকেই বোঝানো হয়েছে, যা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে সুরা কদরে। এজন্য এখানে শবে বরাত উদ্দেশ্য হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সব ধরনের প্রান্তিকতা থেকে মুক্ত হয়ে সঠিক অবস্থানে দৃঢ়পদ থাকার তাওফীক দান করুন। ইমাম ইবনে রজব (রাহ.) এর ভাষায় , ‘মুমিনের কর্তব্য এই যে, এ রাতে খালেস দিলে তওবা করে জিকির, দুআ ও ইস্তেগফারের জন্য প্রস্ত্তত হয়ে যাবে। যত্নের সঙ্গে নফল নামাজ পড়বে। কেননা কখন মৃত্যু এসে যায় বলা যায় না। তাই কল্যাণের মওসুম শেষ হওয়ার আগেই তার মূল্য দেওয়া কর্তব্য। আল্লাহ তায়ালার নিকট থেকে ছওয়াব লাভের আশা নিয়ে পনেরো তারিখের রোজাও রাখবে। তবে অত্যন্ত জরুরি বিষয় হলো, ওইসব গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, যেগুলো এ রাতের সাধারণ ক্ষমা ও দোয়া কবুল হওয়া থেকে মানুষকে বঞ্চিত করে দেয়। যথা : শিরক, হত্যা, হিংসা-বিদ্বেষ। এগুলো সবগুলোই কবীরা গুনাহ। আর হিংসা-বিদ্বেষ তো এতই গর্হিত বিষয় যে, এটা অধিকাংশ সময়ই মানুষকে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।