সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর ভাটারা থানায়। থানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ১০ জানুয়ারি ভোর ৪টা ৩৯ মিনিটে ভাটারা থানার গ্যারেজ থেকে দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেল চুরির চেষ্টা করছে। বাইকের অ্যালার্ম বাজলে তারা সেটি খুলে ফেলে এবং কিছুক্ষণ চেষ্টার পর বাইকটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
চুরির পর পুলিশ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে এবং শুরু হয় অভিযান। দেড় হাজারের বেশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সন্ধান মেলে চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটির। টানা ৯ দিনের অভিযানের পর বাঞ্ছারামপুর থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিএমপির ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হক বলেন, চোর যেখানে সুযোগ পায়, সেখানেই চুরি করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা গেছে। গ্রেফতারকৃতরা একটি আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্য।
গ্রেফতারের পর পুলিশ জানতে পারে, দুই চোরই শিশু। একজনের বয়স ১২ বছর, অন্যজনের বয়স ১৫ বছর। চক্রের মূল হোতা রহমতুল্লাহ ও ইব্রাহীম। তারা শিশুদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ঢাকায় চুরির কাজে পাঠাত। চক্রের আরেক সদস্য সাইদুর বিভিন্ন এলাকায় গ্যারেজ ও চুরির টার্গেট খুঁজে দিত।
ওসি ইমাউল হক বলেন, বসুন্ধরা আশপাশের এলাকায় সাইদুল নামে একজন রয়েছে, যে চুরির জায়গা ঠিক করে দেয়। রেকি করে জানায় কোথায় চুরি হবে। এরপর শিশুদের প্রশিক্ষণ দিয়ে চুরি করানো হয়। রহমতুল্লাহ ও ইব্রাহীম চুরি করা মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয় করে।
চক্রটি মোটরসাইকেল চুরির পর রঙ, ইঞ্জিন, চেসিস ও নম্বরপ্লেট পরিবর্তন করে সীমান্ত এলাকায় বিক্রি করে দেয়। গত দুই বছরে তারা অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল চুরি করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওসি আরও বলেন, ঘাড় লক করা মোটরসাইকেলের ইলেকট্রিক লাইন ডাইরেক্ট করলে সহজেই চালানো যায়। চুরি করা মোটরসাইকেলের কাগজপত্র পরিবর্তন করে ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর বদলে সীমান্ত এলাকায় বিক্রি করা হয়। তবে যদি ইঞ্জিন লকের সঙ্গে দুটি চাবি ব্যবহার করা হয়, তাহলে চোরদের জন্য তা ভাঙতে অন্তত ৩০ মিনিট সময় লাগে। এতে মালিক টের পেয়ে মোটরসাইকেল রক্ষা করতে পারেন।
চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং আরও চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। ওসি ইমাউল হক বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে আরও চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে। সাইদুরকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি, তবে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। খুব শিগগিরই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।