শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জামায়াতের হামলার শিকার হয়ে যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম নিহত হয়েছেন—এমন একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে নিশ্চিত করেছেন সাইফুল ইসলাম নিজেই।
ভাইরাল হওয়া ওই মৃত্যুর দাবির পর ফেসবুক লাইভে এসে সাইফুল ইসলাম জানান, পরে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, আমি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জিনিতি, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। কে বা কারা গুজব ছড়িয়েছে যে আমি মারা গেছি—এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। আলহামদুলিল্লাহ, আমি জীবিত ও সুস্থ আছি। আমি মারা যাইনি।
তিনি আরও বলেন, আমার বিষয়ে এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি। দয়া করে কেউ গুজবে কান দেবেন না এবং গুজব ছড়াবেন না। আপনারা সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন।
এ ঘটনায় ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থা রিউমার স্ক্যানারও তাদের ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। সংস্থাটি জানায়, ‘শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জামায়াতের হামলার শিকার যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম কিছুক্ষণ আগে মারা গেছেন’—শীর্ষক একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। তবে যাকে নিহত বলা হচ্ছে, তিনি নিজেই ফেসবুক লাইভে এসে এ তথ্যকে গুজব বলে দাবি করেছেন।
এর আগে, এদিন সকাল থেকে বিভিন্ন ফেসবুক একাউন্ট থেকে যুবদল নেতা মৃত্যুর খবরটি ছড়ানো হয়। একই পোস্ট করতে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থী মানসুরা আক্তারকে। তিনি লেখেন, জামায়াতের নৃশংস হামলার শিকার শেরপুর ঝিনাইগাতি যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক সাইফুল ইসলাম কিছুক্ষণ আগে মারা গেছেন।
এছাড়াও মেহেদী হাসান নামে ভেরিফাইড ফেসবুক একাউন্ট থেকে এক ব্যক্তি লেখেন, ‘ডাকসুর মবস্টাররা মিছিল করে জামায়াত নেতার মৃত্যুর বিচার তো চাইলি, আমার ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী কারা বল? শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জামায়াতের সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক সাইফুল ইসলাম কিছুক্ষণ আগে মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’
উল্লেখ্য, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে প্রশাসনের আয়োজনে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ার নিয়ে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়াম ও বাজারে এ সংঘর্ষ হয়। এতে শ্রীবরদী জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম মারা গেছেন। আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। রাত সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।